আজ: বৃহস্পতিবার | ২ ডিসেম্বর, ২০২১ | ১৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ | ২৬ রবিউস সানি, ১৪৪৩ | সকাল ৮:৫৩

সংবাদ দেখার জন্য ধন্যবাদ

Home » মতামত » “আমিই বাংলাদেশ”

“আমিই বাংলাদেশ”

১৮ অক্টোবর, ২০২১ | ৫:৪৩ অপরাহ্ণ | Mehedi Hasan | 72868 Views
 সমাজ তোমায় বলছি শুনো!
হ্যাঁ কিছুদিন আগে অবধিও, গর্বে এই কথা বলে যাচ্ছিলাম আমিও। কারণ আমাদের বাংলার সংস্কৃতিতে ধর্ম-বর্ণ নিঃর্বিশেষে কোন বিভেদ নেই,
এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ছাড়া কোন বিকল্প নেই। আমরা একে অন্যের বোঝা ভাগ করার জন্য একটি কাঁধ প্রধান করি, কিন্তু এখন মুঠো ভরে ভালোবাসা বিলিয়ে দেওয়ার বদলে সেখানে ফিনকি দিয়ে কলঙ্ক ছিটাচ্ছি। কারণ সাম্প্রদায়িক ঘটে যাওয়া ঘটনার ভিত্তিতে আজ আমরা ধর্মীয় ভাঙ্গনের মুখোমুখি হ্যাঁ যেখানে আমরা পবিত্র আল কুরআনের মর্যাদা বুঝি সেখানে এতো জঘণ্য অবমাননা! যা কিনা বাংলাদেশ তো বটেই গোটা বিশ্বকেই নাড়িয়ে দিয়েছে। অবশ্যই এর কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি হোক, সমাজের দর্পণে টেনে-হিচড়ে বেরিয়ে আসুক সেই নোংরা মুখ,
এবং সামনে আসুক সেই গোপন হিংস্র নখ। আমরা চাই এর সুস্পষ্টভাবে সমাধান আসুক। সেইসাথে ধ্বংস হোক যত অপসৃষ্টির।
কিন্তু কথা হচ্ছে, কিছু মানুষের আত্মসংযমের ভুলে, আমরা যেভাবে হিংসাযজ্ঞে , মারামারিতে লিপ্ত হচ্ছি একে অন্যের কিংবা ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সাথে । তা একেবারেই সমস্ত নীতি ও আইনের বহির্ভূত। সেইসাথে ধর্মীয় স্থানের ক্ষতিসাধন আর অসম্মান করে, আমরা নিজেরাই তো নিজেদেরই ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছি আমাদের এতদিনের পবিত্রতা। এমন বাংলাদেশ আমারা কখনোই আশা করিনি, কারণ দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার দায়িত্ব সবারই। দুষ্কৃতীদের ধর্ম তো একটাই হিংস্রতা আর বর্বরতা বাড়িয়ে তোলা তাই আমাদের মনে রাখতে হবে, একের পাপের শাস্তি কখনো অন্যকে দেওয়া যাবে না হ্যাঁ আপনিও বিবেকের বোতামগুলো খুলে হৃদয় দিয়ে দেখুন, সুস্থ সাবলীলভাবে আপনিও ভেবে দেখুন, দেখবেন উত্তর পাবেন। তখন সদয় ও নিরপেক্ষ আচরণ আপনিও করার চেষ্টা করবেন। সেইসাথে সাহস যোগ্যতা কিংবা হিম্মত দিয়ে নিজের ধর্মও দ্বীনে থেকেই মানবতার খেদমত আপনি করতে পারবেন। তাই তো বলছি, চলুন নতুন কন্ঠে করি ঘোষনা, কারণ আল্লাহর কাছে একদিন আপনার-আমার সমস্ত কিছুর হিসাব দিতেই হবে তাই না? তাই শান্তি চাই, অত্যাচার-হিংস্রতা এসব কিছু না। শুধু আপনি নন, আমি-আমরা সকলেই বরং প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই.
আমরা আর কখনোই ধর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন কিছু ধর্মের সাথে কখনোই জুড়ে দেবো না। ধর্মের সংবেদনশীল বিষয়গুলো মাথায় রেখে সুসম্পর্ক বজায় রাখবো। তাই চেতনার বিকাশ ঘটুক বিভেদের হৃদয়ের দেওয়ালে, লড়াইটা বরং হোক শয়তান ও দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে, এবং নৈতিকতায় সাড়া দিতে হবে আমাদের প্রত্যেকের গলার স্বরে। আমাদের সবারই এক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন নিষ্ঠার জুড়ে। এবং কলমে ধরলে যেন শব্দ আসে বিবেকের কড়া নেড়ে। হৃদয় হতে খুব দ্রুত বর্বরতা- সাম্প্রদায়িকতা দূর হোক। সেই সাথে খুব দ্রুত বাংলাদেশ নবরূপে আবারো নিজের সত্ত্বা তুলে ধরুক। হ্যাঁ সবশেষে সবকিছু যেন শেষ না হয়, আর যাতে দেখতে না হয়, সমাজের চিত্রপট এমন রক্তাক্ত কোনদিনও অন্তত কিছুটা হলেও একে-অন্যকে. “বন্ধুত্ব দিও”
কলমে: কাজী সুমাইয়া


Comment Heare

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this: