আজ: মঙ্গলবার | ২৬ অক্টোবর, ২০২১ | ১০ কার্তিক, ১৪২৮ | ১৯ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ | দুপুর ২:৪৪

সংবাদ দেখার জন্য ধন্যবাদ

Home » সারাদেশ » চট্টগ্রাম বিভাগ » কুমিল্লা » কুমিল্লায় কাভার্ডভ্যানচাপায় নিহত ২

আলো আসুক সত্যের দরজায়!

১৮ আগস্ট, ২০২১ | ২:১৮ অপরাহ্ণ | Mehedi Hasan | 421 Views

রুপালি পর্দার রূপ রংধনুর মতো। তারকাদের জীবনের অসংখ্য গল্প বহন করতে হয় অন্ধকার-আলোর মিশেলে! এসব গল্প একটু ভিন্ন আবার অস্বাভাবিক বিচিত্র রকমের হয়— সিনেমায় যা দেখা যায় তার উল্টোটা হাজির হয় বাস্তব জীবনে। জীবন বেশ জটিল অঙ্কের হিসাবে বন্দি থাকে, যে হিসাবের অপর পৃষ্ঠায় লেখা হয় হিংসা-প্রতিহিংসার দিনলিপি।

শোবিজের জীবন ঝিলিক বাতির মতো। চোখের পলকেই পরিবর্তন হয়ে যায় জীবনের রঙ— জীবনের বাদ্য। অনেক সময় যাপিত জীবনের সমীকরণ মেলানো বেশ কঠিন হয়ে যায়— মিলতেই চায় না। কোনো কোনো সময় রৌদ্রোজ্জ্বল ঝলমলে আকাশে অন্ধকারের ঘনঘটা।

শোবিজের দুনিয়ায় সমালোচকরা রূপকথার গল্পের মতো রঙিন গল্প বলে যান। এ সব গল্পকাররা ক্লান্ত হওয়ার আগেই উন্মোচন হয় সব খবর। কিছু গুঞ্জন সত্য হয়, আবার কিছু মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এ সব আলো-অন্ধকার নিয়েই রঙিন দুনিয়া।

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমণি। সিনেমার পাশাপাশি ব্যক্তিগত নানা কারণেই আলোচনায় থাকেন তিনি। কিছুদিন আগেও ‘প্রীতিলতা’ লুকে হাজির হয়ে চমকে দিয়েছেন ঢাকাই সিনেমার এই গ্ল্যামারকন্যা। কিন্তু আজ হিসাবের গরমিল। মিলছে না জীবনের হিসাব। হঠাৎ করেই মাদককাণ্ডে আইনি জটিলতায় ফেঁসে গেছেন ঢালিউডের অন্যতম জনপ্রিয় নায়িকা পরীমণি।

মামলায় দুই দফায় ৬ দিনের রিমান্ড শেষে তিনি এখন আছেন কারাগারে। অভিযোগ প্রমাণ হওয়ার আগেই তাকে নিয়ে বিস্তর আলোচনা, নিন্দার ঝড়। এমন কি কেউ কেউ শাস্তি দিয়ে দিচ্ছেন— অনায়াসে। এই আলোচনা-সমালোচনার শেষ কোথায়— এমন প্রশ্ন অনেকেরই। এরই মধ্যে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিও তার সদস্যপদ স্থগিত করেছে।

একাধিক শিল্পী ইঙ্গিতে বা সরাসরি দুষছেন পরীকে। আর বেশিরভাগ সহকর্মীর মধ্যে নেমেছে আশ্চর্য নীরবতা! সব মিলিয়ে জীবনের চরম দুঃসময়ে আছেন এই চিত্রনায়িকা। অপরাধী প্রমাণ হওয়ার আগেই দুঃসময়ের জালে বন্দি এই নায়িকা। একা হয়ে গেছেন ঢালিউডের অন্যতম জনপ্রিয় এই নায়িকা!

অপরাধীর শাস্তি হবে এটাই স্বাভাবিক ও সত্য। কিন্তু ‘অপরাধী’ প্রমাণ হওয়ার আগেই একজনকে শাস্তি দেয়া কতটুকু বিবেকবোধের স্বাক্ষর রাখে— এমন প্রশ্ন অনেকেরই? সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ রাখলে দেখা যায়— অপরাধীর বিচার চান না, বিচার চান ব্যক্তি ‘পরীমণির’! দুঃখজনক হলেও সত্য— সঠিক বার্তাটাও আমরা দিতে পারছি না।

আমরা ‘হুজুগে বাঙালি’র ভূমিকা পালন করছি। তবে গত কয়েকদিন হলো লক্ষ্য করা যাচ্ছে— বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ ইতিবাচক চিন্তায় মতামত প্রকাশ করা শুরু করেছেন। যার সংখ্যায় খুবই কম। অধিকাংশই কোনো কিছু চিন্তা না করে নেতিবাচক বক্তব্য লিখে যাচ্ছেন, অকথ্য ভাষায় গালি দিচ্ছেন। অনেকটা ব্যক্তি ‘পরী’র শাস্তি চাচ্ছেন তারা।

কী এক অদ্ভুদ জীবন— পরিবারের চেয়ে বেশি সময় যেখানে দেয়া হয় তার পরেও তারা নাকি বন্ধু বা শুভাকাঙ্ক্ষী হতে পারে না! নির্মম বলেই ঢাকাই সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম সফল নায়ক মান্না বলে গেছেন—‘পৃথিবীতে চলচ্চিত্র জগতের মতো স্বার্থপর কোনো জগত্ আর নেই। এখানে আমরা সবাই বাণিজ্যিক। হূদয়, প্রেম, ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, চাওয়া-পাওয়া সব মেকি।

সিনেমার কেউ যদি বুকে হাত দিয়ে বলে, আমরা সবাই এক পরিবার; না, মিথ্যে। সবাই আলাদা।’ এখন প্রশ্ন হচ্ছে— মানুষ বিপদে পড়লে কোথায় দাঁড়াবে, কোথায় আশ্রয় নেবে? অন্যদিকে নায়ক জায়েদ খান বলছেন ভিন্ন কথা।

সম্প্রতি চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির এক সংবাদ সম্মেলন শেষে তিনি বলেন, ‘আপনি যদি আপনার পাশে কাউকে না পান, তাহলে বুঝতে হবে এটা আপনার ব্যর্থতা। তার মানে আপনি কর্মজীবনে ভালো বন্ধু বানাতে পারেননি। কারো প্রতি আপনার ভালোবাসা ছিল না। চলচ্চিত্রে বন্ধু হয় না— এটা ভুল কথা। সিনেমাতেই আপনার বন্ধু, ভাই তৈরি করতে হবে।’

এখন প্রশ্ন হচ্ছে— একটি পরিবারের একজন অপরাধ করলেন, তাই বলে কি অন্য সদস্যরা তার পাশে দাঁড়াবেন না? এ বিষয়ে অনেকেই দ্বিমত পোষণ করেছেন, আবার কেউ কেউ বলছেন— ‘পরীমণির ঘটনায় শিল্পী সমিতির সিদ্ধান্ত ন্যক্কারজনক’। মামলার সুরাহা হওয়ার আগেই চলচ্চিত্র শিল্পীদের সংগঠন পরীমণির সদস্যপদ স্থগিত করায় প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

সমিতির এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক আবু সাইয়ীদ। ফেসবুকে এক পোস্টে গুণী এই নির্মাতা লেখেন— ‘পরিমণি বিষয়ে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা ন্যক্কারজনক। পরে বিস্তারিত লেখার ইচ্ছে রইল।’

গণমাধ্যমকে আবু সাইয়ীদ বলেন, ‘কোনো কিছু প্রমাণের আগে সদস্যপদ প্রত্যাহারের বিষয়টি ন্যক্কারজনক মনে করেছি। মোটেও ঠিক হয়নি। সমিতির উচিত ছিল এই সময়টায় তার পাশে থাকা। তার সঙ্গে দেখা করে কথা বলার দরকার ছিল।’

শুধু জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক আবু সাইয়ীদের এমন কথা নয়, অনেকেই বলছেন— অপরাধী প্রমাণের আগেই তাকে শাস্তি দেয়া উচিত নয়। তাহলে কি পরীমণির বিষয়টি ব্যক্তি আক্রোশে পরিণত হয়েছে। ব্যক্তিগত বিদ্বেষে এসব বিষয় অপরাধীর পাল্লায় মাপলে হবে না। দেশের আইনকে শ্রদ্ধা করে অপেক্ষা করতে হবে। পরীর এমন পরিস্থিতির জন্য বিভিন্ন মহল নানা জনকে দোষারোপ করেছেন। কোনো ব্যক্তি ভুল পথে পা দিলে কাছের মানুষ তাকে সচেতন করে দেয়া জরুরি। কিন্তু পরীমণির ক্ষেত্রে এই বিষয়ে কেউ সহযোগিতা বা ভুল ধরিয়ে দেননি।

এ বিষেয়ে অভিনেত্রী সুচন্দা গণমাধ্যমকে বলেছেন— ‘পরীমণির সঙ্গে পরিচয় না থাকলেও যতটুকু বুঝতে পেরেছি, সে ছিল অভিভাবকহীন। তার একটু কেয়ার দরকার ছিল, পরামর্শ দরকার ছিল। যারা তাকে বিপথে নিয়ে গেছে, তাদেরই খুঁজে বের করা উচিত। তার পাশে চলচ্চিত্র পরিবারের সবারই থাকা উচিত।’

জীবন আসলে নিজের নিয়ন্ত্রণে সব সময় থাকে না, মানুষ ভুল পথে দিতেই পারে তাই বলে তার অপরাধ প্রমাণ হওয়ার আগেই তাকে শাস্তি দিতে হবে, অকথ্য ভাষায় গালি দিতে হবে— এসব ভদ্র সমাজের মানুষের কাজ নয়।

বাংলা গানের যুবরাজ আসিফ আকবর বলেন— ‘মফস্বলের একটা মেয়ে এত উঁচুতে পৌঁছানোর পেছনে অবশ্যই যোগ্যতা ছিল। এই মেয়েটা এতটা পথ কাদের শেল্টারে এসেছে, এই রহস্য উন্মোচিত হবে না কখনো। মেয়েটা অবশ্যই ভালো অভিনেত্রী, মেয়েটার দেশকে আরো দেয়ার ছিল। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই দাবি জানাই, পরীমণির মুক্তি চাই। পরীমণি ভয়ঙ্কর অপরাধী নয়, অভিভাবকহীনতার শিকার একটা লক্ষ্যহীন নৌকামাত্র।’

পরীমণির জীবন আসলেই অভিভাবকহীনতার শিকার একটা লক্ষ্যহীন নৌকামাত্র। তিনি একজন মেধাবী অভিনয়শিল্পী, ভুল শুধরে নিয়ে শোবিজে কাজ করলে আরো ভালো কিছু করতে পারবেন। তার এই অন্ধকার জীবনের নেপথ্যে কারা ছিলেন, তাদেরও খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।

এই বিষয়ে ঢাকাই সিনেমার সুপারস্টার নায়ক শাকিব খান বলেন—‘পরীমণির জীবন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় যেভাবে তাকে কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে, এটা সত্যি দুঃখজনক। যারা পরীমণিকে বিপথে নিয়ে গেছে, তাদেরও খুঁজে বের করা উচিত।’ জনপ্রিয় নায়ক শাকিব খান বাস্তবতার কথা বলেছেন। অনেকেই রূপকথার গল্প বলে যান। অপরাধীর বিচার হোক এটি সবারই চাওয়া কিন্তু প্রমাণ হওয়ার পরে।

এ সময়ের প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি পরীমণির সঠিক বিচার দাবি করে বলেন—‘পরীমণির এই সংকট সময়ে একজন নারী হিসেবে আমি চাই, তার সঙ্গে যেন সঠিক বিচার করা হয়। আর যদি তার অপরাধ হয় উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন, তা হলে যারা তাকে শৃঙ্খলা থেকে বের করল, তাদেরও ধরা হোক, আইনের আওতায় আনা হোক। যদি তা না হয়, তা হলে এই সমাজব্যবস্থার প্রতি ধিক্কার জানিয়ে আমি এই সুন্দরী নায়িকাটির সুন্দর জীবনের প্রার্থনায় থাকব।’ আমার বিশ্বাস এই তরুণ অভিনেত্রীর কণ্ঠে অনেকেই কণ্ঠ মিলিয়ে বলবেন—‘অপরাধীর বিচার চাই’।

মাদক মামলায় গ্রেফতার চিত্রনায়িকা পরীমনিকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছে ‘বিক্ষুব্ধ নাগরিকজন’ নামে একটি সংগঠন। তারা পরীমনির গ্রেফতারকে ‘অন্যায়’ দাবি করে অবিলম্বে এ নায়িকার মুক্তি চেয়েছে। অন্যথায় আগামী শনিবার শাহবাগে সমাবেশেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। গত শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে পরীমনির মুক্তি চেয়ে বলেন— তাকে মুক্তি না দিলে শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হবে এবং আগামী শনিবার শাহবাগে সমাবেশ কর্মসূচি পালিত হবে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন— ‘পরীমনির মতো নারীদের হেয়প্রতিপন্ন করে কিছু কিছু মিডিয়া দেশকে একটি তালেবানি রাষ্ট্র হিসেবে কায়েম করতে চায়। তাদের সেই শখ পূরণ করতে দেয়া হবে না। আমরা শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেব এবং আগামী শনিবার শাহবাগে সমাবেশ করবো।’

পরীমণিকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়ে বলে তারা বলেন—‘পরীমনিকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা সাধারণ নাগরিক হিসেবে পরীমনির মুক্তি দাবি করছি। অন্যথায় পরীমনির পক্ষে পিটিশন করবো। পরীমনি গ্রাম থেকে আসা এক মেয়ে। কারা তাকে ফাঁদে ফেলে তার লক্ষ্য থেকে দূরে নিয়ে গেছে আমরা তা জানতে চাই। যেন কোনো মিডিয়া বা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির মেয়ে তাদের পথ থেকে যেন বিচ্যুত না হয় আমরা তা নিশ্চিত করতে চাই।’ কিন্তু অনেক সময় সত্যের দরজায় মিথ্যারা দাঁড়িয়ে আলোকিত ঘরকে অন্ধকার করে রাখে। ফলে জয়ী হয় মিথ্যারা। পার পেয়ে যায় প্রকৃত অপরাধীরা। রচনা হয় অলৌকিক রাত-বিরাতের গল্প!

দুঃখজনক হলেও সত্য— অনেক কিছুই থেকে যায় আড়ালে। ভাঙে না আড়াল, শাস্তি হয় না আসল অপরাধীর। নেপথ্যের গল্প নেপথ্যেই থেকে যায়। এসব আড়াল করে, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই আমরা হুজুগের স্লোগান দিতে থাকি—‘বিচার চাই’।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে— ‘কার বিচার যাচ্ছেন, ব্যক্তির নাকি অপরাধীর? এমন প্রশ্ন কি কখনো আপনার বিবেককে করেছেন? করেননি, করেননি বলেই সোশ্যাল মিডিয়া ভরে ফেলেছেন— অকথ্য গালি আর বিচারের স্লোগানে। পক্ষে-বিপক্ষে কথা হবে তাই বলে এভাবে— অযৌক্তিক! অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা বলেন— ‘পরীমণির ক্ষেত্রে সমস্ত মতামত দুইভাগে বিভক্ত, এটা সব ক্ষেত্রেই হয়।

ন্যায়, অন্যায় যা কিছুই ঘটে থাকুক না কেন, তার জন্য দেশের আইন, বিচার ব্যবস্থা রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে একজন মহিলাকে টেনে এনে বিভিন্ন কিছু লেখালেখি হচ্ছে। যার নেতিবাচক প্রভাব সমাজের ওপর পড়ছে। ইন্ডাস্ট্রিতেও এর খারাপ প্রভাব পড়বে। আশা রাখছি, সুষ্ঠু তদন্ত হোক, পরীমণি যেন সঠিক বিচার পায়।’

একজন ব্যক্তি অপরাধ করলে শাস্তি পাবেন— এটাই সত্য, স্বাভাবিক। তবে প্রমাণের পরে। প্রমাণের আগেই তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে টানা-হ্যাঁচড়া করা সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের কাজ নয়। এই সময়ের মেধাবী অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন বলেন—‘পরীমণির বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ব্যক্তিজীবন নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করছে, সেটা খুবই দুঃখজনক এবং লজ্জার। একইভাবে এটা অন্যায়। আমরা কারোর ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করতে পারি না, এমনকি আমার সন্তানের জীবনেও নয়। পরীমণি যদি কোনো গুরুতর অপরাধ করেও থাকে, সেটার শাস্তি কিন্তু আদালত দেবে। ওর সঙ্গে যেটা হচ্ছে তাতে আমি লজ্জিত এবং আতঙ্কিত।’

এদিকে প্রখ্যাত লেখক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী চিত্রনায়িকা পরীমণিকে হায়েনা গোষ্ঠীর হাত থেকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সম্প্রতি গণমাধ্যমে পাঠানো এক আবেদনে এ আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এই প্রবীণ সাংবাদিক আবেদনে লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এটি শুধু তার একার আবেদন নয়। বরং দেশের প্রশাসন এবং একটি বিত্তশালী গোষ্ঠী এবং মিডিয়া গোষ্ঠী মিলে যেভাবে ষড়যন্ত্র করে ২৮ বছরের এক তরুণীকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে, সেক্ষেত্রে এই আবেদন সচেতন নাগরিক সমাজের।

তিনি আরো বলেন— আজ পরীমণির সঙ্গে যা হচ্ছে তা যে দেশের অন্য আরেকজন নাগরিকের ক্ষেত্রে করা হবে না, তার নিশ্চয়তা কী?’ প্রবীণ এই সাংবাদিকের মতো অনেকেরই প্রশ্ন— অপরাধী প্রমাণের আগেই আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কেন শাস্তি, কেনই বা শাস্তির আয়োজন?

প্রতিটি ব্যক্তির ব্যক্তিগত বিষয় আছে। যার অবস্থান গোপন বা একান্তই নিজের জন্য, নিজের পৃথিবী। কিন্তু আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যায় অনেকের ব্যক্তি বিষয়, ভিডিও ফাঁস করে, শুধু ফাঁসেই আটকে থাকে না রীতিমতো ভাইরাল করে ফেলে। একজন ব্যক্তির প্রেমের সম্পর্ক থাকতেই পারে, তাই বলে সুযোগ পেলেই হানা দিতে হবে— এসবের অর্থ কি?

সম্প্রতি ঢাকাই সিনেমার নায়িকা পরীমণির মামলার তদন্তকালে তখনকার ডিবি কর্মকর্তা গোলাম সাকলায়েনের প্রেমের সম্পর্ক ফাঁস হওয়ার পর সারাদেশসহ পুলিশে তোলপাড় চলছে। পরীমণি ডিবির এ কর্মকর্তার সঙ্গে তার বাসায় ১৮ ঘণ্টা কাটিয়েছেন বলে সম্প্রতি গণমাধ্যমে খবর আসে। এর রেশ কাটতে না কাটতেই তিন দিনের মধ্যে পরীমণি ও গোলাম সাকলায়েন শিথিলের একটি নতুন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

এই ভাইরাল নিয়ে অনেকেই উৎসব করছেন রীতিমতো। অকথ্য ভাষায় গালি দিচ্ছেন পরীমণিকে। হাতে সময় আছে, এসব করতেই পারেন কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে— ভিডিওতে কি পরীমণি একাই ছিলেন, নাকি ভিডিওটি দেখে কি মনে হয়েছে পরী তাকে ব্ল্যাকমেইল করছে? অনেকেই বলছেনও ব্ল্যাকমেইলের কথা! বিষয়টি ভাবনায় নিতে পারি না, কেন এই পক্ষ নেয়া— নারীপক্ষ এবং পুরুষপক্ষ দুটি পক্ষ নিয়েই সমালোচনা করতে পারতেন, নাকি পুরুষগণ দোষ করেন না? তারা ধোয়া তুলসী পাতা! মনে রাখা দরকার— সব পাতার মতো তুলসী পাতাও একদিন ঝরে পড়ে! গোপনে ঝরলেও এই দৃশ্য লুকিয়ে রাখা যায়— বিবেক ও মনুষ্যত্বের সাগরে ঢেউ তোলে নীরবে।

প্রসঙ্গত, ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমণি নির্দোষ এবং ষড়যন্ত্রের শিকার দাবি করে তাকে জামিন দেয়া আবশ্যক বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী মো. মজিবুর রহমান। পরীমণির জামিন আবেদনে তিনি এ কথা উল্লেখ করেছেন। গত সোমবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) রেজাউল করিম চৌধুরীর আদালতে পরীমণির জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবী মো. মজিবুর রহমান। আদালত জামিন শুনানির জন্য আজ দিন ধার্য করেন। অপেক্ষা করার বিকল্প নেই। সবার প্রত্যাশা— আলো আসবে সত্যের দরজায়!

ব্যক্তির নয়, অপরাধীর বিচার হোক এমন প্রত্যাশা সবার। এমন প্রত্যাশা নাগরিকজনেরও—‘মাদক মামলায় একজন মানুষকে জামিন না দিয়ে দুইবার রিমান্ডে নেয়া হয়েছে, যা অযৌক্তিক। অতীতে আমরা দেখেছি, মাদক মামলায় অনেকে জামিনে বেরিয়েছেন, তা হলে তাকে কেন বার বার জামিন নামঞ্জুর করে রিমান্ডে নেয়া হলো! একজন শিল্পীর এমন হেনস্তা মেনে নেয়া যায় না।

আমরা সরকারকে অনুরোধ করি, আমাদের পরীমণিকে ফিরিয়ে দিন। আমরা তাকে আবার শুটিং সেটে দেখতে চাই।’ পরীমণির সহকর্মীরা এত দিন মুখ না খুললেও এখন পক্ষে দাঁড়িয়েছেন অনেকে। সব কথাই বলা যাবে— পরীমণি আগে দোষী সাব্যস্ত হোক।

তখন আমরা সবাই মিলে তার শাস্তি দাবি করব, অন্তত সেই সময়টুকু ধৈর্য ধরে নীরব থাকি। কারো পক্ষে-বিপক্ষে নয়— সত্য বলি, সত্যের পক্ষে কথা বলি, আইনকে শ্রদ্ধা করি। জমা করি সত্যের অসংখ্য গল্প। মানুষ আশায় থাকে আলোর— আলোকিত জীবনের। দীর্ঘ বিরতির পর হলেও আলো আসবে সত্যের দরজায়!



Comment Heare

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this: