আজ: শুক্রবার | ৫ মার্চ, ২০২১ | ২০ ফাল্গুন, ১৪২৭ | ২০ রজব, ১৪৪২ | দুপুর ২:০৮

সংবাদ দেখার জন্য ধন্যবাদ

Home » আইন আদালত » না’গঞ্জের বার ভবন পরিদর্শনে উপ-সচিব

আয়োজন সীমিত, কড়া নিরাপত্তা

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ | ১২:২৫ অপরাহ্ণ | বাংলাদেশ বার্তা | 139 Views

বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের মধ্যেই এবার পালিত হতে যাচ্ছে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরের এ আয়োজন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা নিরাপত্তার চাদরে মুড়িয়ে ফেলেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

একুশে ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করে কোনো সুনির্দিষ্ট হুমকি নেই। তবুও ন্যূনতম ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), সোয়াট, র‌্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের সমন্বয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও এর আশপাশের এলাকা ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। কন্ট্রোল রুম থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এবার ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো সীমিত করে দেয়া হয়েছে। করোনা ভাইরাস উদ্ভ‚ত পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার জন্য এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। শহীদ মিনারে ব্যক্তি পর্যায়ে সর্বোচ্চ দুজন ও সংগঠন পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৫ জন একসঙ্গে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন।

কোনোভাবেই এর চাইতে বেশি মানুষ শহীদ মিনার এলাকায় প্রবেশ করতে পারবেন না। আর একুশে ফেব্রুয়ারির কড়া নিরাপত্তায় ঢাকা শহরে ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শহীদ মিনার এলাকার থাকছে অন্তত ৫ হাজার পুলিশ ও র‌্যাব। প্রস্তুত থাকবে সোয়াট ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সদস্যরা। ইতোমধ্যেই শহীদ মিনার এলাকার চারপাশে গোয়েন্দা নজরদারি চালাচ্ছেন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।

যথারীতি একুশের প্রথম প্রহরে ১২টা ১ মিনিটে সর্বপ্রথম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এর পর পরই বায়ান্ন ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ ভিআইপিদের যাতায়াত যথাযথ ও সুশৃঙ্খলভাবে করতে নিñিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

চলাচল নির্বিঘ্ন করতে শহীদ মিনারের আশপাশের সড়কে ২০ ফেব্রুয়ারি রাত আটটার পর যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে গেল সপ্তাহে দুই বøগার ও প্রকাশক হত্যার রায় এসেছে- যেখানে বেশ কয়েক জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি এ বিষয়টি মাথায় রেখেও নিরাপত্তা বলয় ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে পৃথকভাবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান গণমাধ্যম জানান, আমরা ন্যূনতম তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখব। এ ছাড়াও আমরা কিছুক্ষণ পর পর হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখব। কোনভাবেই মাস্ক ছাড়া শহীদ মিনার এলাকায় প্রবেশ করা যাবে না। এ জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যান্য বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে অতিথিদের অভ্যর্থনার ব্যবস্থা করা হলেও এ বছর সে ব্যবস্থা রাখছে না বিশ্ববিদ্যালয়। করোনার কারণে জনসমাগম কমিয়ে আনার লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ নেয় তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জানান, অন্যান্য বছর আমরা রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে অভ্যর্থনা জানাতাম। এ বছর নিজেদের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এ সময় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপ ড. মো. রহমত উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে ২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারকেন্দ্রিক তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, এবার পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বলতে পারি তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের সদস্যরাও থাকবেন। শহীদ মিনার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার প্রতিটি ইঞ্চি জায়গা সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি করা হবে। ডিএমপি কন্ট্রোল রুম থেকে তা মনিটরিং করা হবে। পাশাপাশি বোম ডিসপোজাল ইউনিট, সোয়াটসহ অন্য ইউনিটগুলো সক্রিয় থাকবে।

জঙ্গিদের কার্যক্রমের ওপর নজরদারি সংক্রান্ত প্রশ্নে ঢাকার পুলিশ কমিশনার বলেন, সাধারণত এ ধরনের দিবসগুলো উপলক্ষে আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য জঙ্গিরা ছোট ঘটনা ঘটিয়ে হলেও দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে থাকে। শহীদ দিবস বাঙালির আবেগের একটি বড় জায়গা। এখানে ছোট্ট একটি ঘটনা ঘটাতে পারলেও আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়। জঙ্গি কার্যক্রম বা গতিবিধি নজরদারির জন্য আমাদের সাইবার ইউনিটগুলো সক্রিয় ও আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটানোর সাহস তারা পাবে না। এ সময় কাউন্টার টেররিজম প্রধান ও ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার ও অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) কৃঞ্চপদ রায় উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে আজ শুক্রবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শনে যেতে পারেন এলিট ফোর্স র‌্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। করোনা সংকট ও দেশের চলমান রাজনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়েই একুশে ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও এর আশপাশ এলাকায় র‌্যাবের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব কর্মকর্তারা। কোনো জঙ্গি হামলার ঝুঁকি না থাকার পরও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। শহীদ মিনার ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রায় হাজারখানেক র‌্যাব সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। এর বাইরে এদিন রাতে গোটা রাজধানীতে টহল ও নজরদারি জোরদার করছে র‌্যাব।

পুলিশ ও র‌্যাবের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, এবার করোনা সংকটের মধ্যে সীমিত পরিসরে শহীদ দিবস পালিত হতে যাচ্ছে। তার পরও শহীদ মিনার ও আশপাশ এলাকায় থানা পুলিশ, র‌্যাব, ডিবি, এসবি ও সিআইডির হাজার হাজার সদস্যরাও নিরাপত্তা দায়িত্বে রয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে আর্চওয়ে, সিসিটিভি ক্যামেরা, পেট্রোলিং ব্যবস্থা, চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি, ওয়াচ টাওয়ার ও ডগ স্কোয়াড। এ ছাড়া রায়ট কার ও এপিসি কার প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। নিরাপত্তার ঘাটতি বলতে কোনো কিছু রাখা হচ্ছে না। ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রয়োজনে আকাশ পথে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে।

শহীদ মিনারে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি: চলছে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি। প্রতি বছর এই মাসটিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় ভাষা শহীদদের স্মরণ করে বাঙালি জাতি। মাতৃভাষা দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ায় ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটিতে তাই আনুষ্ঠানিভাবে শহীদ মিনারে গিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান সব শ্রেণি-পেশার মানুষ।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় দেখা গেছে, ধোয়া-মোছার কাজ শেষে এখন চলছে রঙের কাজ। শহীদ মিনারের মূল স্তম্ভগুলোয় চুন লাগানো হয়েছে। বেদীসহ অন্যান্য জায়গায় লাগানো হয়েছে লাল রং। এ ছাড়া শহীদ মিনারের পাশের রাস্তার দেয়ালে লেখা হচ্ছে, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি’, ‘মাতৃভাষায় যাহার শ্রদ্ধা নাই, সে মানুষ নহে’, ‘একুশ মানে মাথা নত না করা’সহ নানা পঙ্ক্তি।

সীমিত পরিসরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা: গত সপ্তাহেই সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বর্তমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বিবেচনায় যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে প্রতিটি সংগঠনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পাঁচজন প্রতিনিধি হিসেবে ও ব্যক্তিপর্যায়ে একসঙ্গে সর্বোচ্চ দুজন শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে পারবেন। শহীদ মিনারের সব প্রবেশ মুখে হাত ধোয়ার জন্য বেসিন ও লিকুইড সাবান রাখা হবে। মাস্ক পরা ব্যতিরেকে কাউকে শহীদ মিনার চত্বরে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।

এ ছাড়া রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানসহ সবাই আগের ঐতিহ্য বজায় রেখে যাতে শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারেন সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ সংলগ্ন এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় ভ্রাম্যমাণ টয়লেট স্থাপন করা হবে। শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকার আশপাশে ধুলাবালি রোধকল্পে পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করা হবে এবং রাস্তাঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হবে।

এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শহীদ মিনার এলাকায় চিকিৎসা ক্যাম্প স্থাপন ও পর্যাপ্ত সংখ্যক অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হবে। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ঢাকাসহ সারা দেশে স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় ‘ডিসইনফেকশন (জীবাণুমুক্তকরণ)’ কার্যক্রম এবং ‘ফার্স্ট এইড বুথ’ স্থাপন করবে।’

১৯৯৯ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো)। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাঙালির মায়ের ভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বাংলার (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছাত্র ও যুব সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ তৎকালীন শাসক গোষ্ঠীর ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসে। সেই ছাত্র-জনতার মিছিলে পাকিস্তানি পেটোয়া বাহিনী-পুলিশের গুলিতে রাজপথে প্রাণ হারান সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিকসহ অনেকে।

২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে ডিএমপির গমনাগমন ও ট্রাফিক নির্দেশনা: মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২১ যথাযথ ও সুশৃঙ্খলভাবে উদযাপন করার জন্য ২০ ফেব্রুয়ারি রাত আটটার ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুর দুইটা পর্যন্ত জনসাধারণের চলাচল ও সব ধরনের যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য নিম্নরূপ ট্রাফিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রবেশের রাস্তা : কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রবেশের ক্ষেত্রে সব নাগরিক পলাশী ক্রসিং, এসএম হল এবং জগন্নাথ হলের সামনের রাস্তা দিয়ে শহীদ মিনারে প্রবেশ করার কথা বলা হয়েছে। কোনো ক্রমেই অন্য কোনো রাস্তা ব্যবহার করে শহীদ মিনারে প্রবেশ করা যাবে না।

বের হওয়ার রাস্তা: শহীদ মিনার দিয়ে বের হওয়ার ক্ষেত্রে দোয়েল চত্বরের দিকের রাস্তা অথবা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সামনের রাস্তা দিয়ে বের হওয়া যাবে। কোনোক্রমেই প্রবেশের রাস্তা দিয়ে বের হওয়া যাবেনা।

যেসব রাস্তা বন্ধ থাকবে: ১. বকশিবাজার-জগন্নাথ হল ক্রসিং সড়ক ২. চাঁনখারপুল-রোমানা চত্বর ক্রসিং সড়ক, ৩. টিএসসি-শিববাড়ী মোড় ক্রসিং, ৪, উপচার্য ভবন-ভাস্কর্য ক্রসিং (ফুলার রোড)।

ডাইভারশন ব্যবস্থা : (ক) ১৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ২টা পর্যন্ত রাস্তায় আলপনা অঙ্কনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আশপাশের রাস্তা বন্ধ থাকবে। এ সময় শিববাড়ী, জগন্নাথ হল ও রোমানা চত্বর ক্রসিংগুলোতে গাড়ি ডাইভারশন দেয়া হবে। (খ) ২০ ফেব্রুয়ারি রাত আটটার থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুর দুইটা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যত্রতত্র অনুপ্রবেশ বন্ধের লক্ষ্যে নীলক্ষেত, পলাশী মোড়, ফুলার রোড, বকশীবাজার, চাঁনখারপুর, শহিদুল্লাহ হল, দোয়েল চত্বর, জিমনেশিয়াম, রোমানা চত্বর, হাইকোর্ট, টিএসসি, শাহবাগ ইন্টারসেকশনসমূহে রোড ব্লক দিয়ে গাড়ি ডাইভারশন দেয়া হবে। (গ) ২১ ফেব্রুয়ারি ভোর ৫ থেকে সায়েন্স ল্যাব হতে নিউমার্কেট ক্রসিং, কাঁটাবন ক্রসিং হতে নীলক্ষেত ক্রসিং এবং ফুলবাড়িয়া ক্রসিং হতে চাঁনখারপুল ক্রসিং পর্যন্ত প্রভাতফেরি উপলক্ষে সব প্রকার যাত্রীবাহী গাড়ি প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে।

গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা: (ক) একুশের প্রথম প্রহরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জিমনেশিয়াম মাঠে ভিআইপি গাড়িসমূহের পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। (খ) সম্মানিত নাগরিকরা নীলক্ষেত-পলাশী, পলাশী-ঢাকেশ্বরী সড়কসমূহে তাদের গাড়ি পার্কিং করতে পারবেন।



Comment Heare

Leave a Reply

Top