আজ: বুধবার | ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৩ই সফর, ১৪৪২ হিজরি | সকাল ৯:১৪
শিক্ষা

এই শহরে ভেসে আসি নাই

বাংলাদেশ বার্তা | ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ | ৪:৪৪ অপরাহ্ণ

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, ‘মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা বংশানুক্রমে আওয়ামী লীগের হয়ে গেছে। আবার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমি কিন্তু ছোটবেলা থেকেই আওয়ামী লীগ। বিএনপি, জামাত কীভাবে করবো? আমরা তো জন্মের পর থেকেই শুনি জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। আমাকে চাইলেও জামাত-বিএনপি বানাতে পরবে না। গতকাল সোমবার দুপুরে নগরভবনের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মেয়র আইভী। অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের মাঝে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বই উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়। মেয়র আরও বলেন, ‘এই শহরের পরিস্থিতি কেমন ছিল তা সবাই জানেন। আমি কোনো কিছুর ভয় না পেয়ে মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি। আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে ২০০৩ সালে পৌরসভার নির্বাচন করেছিলাম। ৮ বছর এই শহরের কাজ করে ’১১-তে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন করি। সে সময় নারায়ণগঞ্জবাসী আমার পাশে দাড়িয়েছিল। আমিও তাদের জন্য কাজ করছি।’ তিনি বলেন, ‘এই সিটির মেয়র হওয়া আমার উদ্দেশ্য ছিল না। উদ্দেশ্য ছিল জনসেবা। পত্রিকাগুলো আমার বিরুদ্ধে যখন লিখতো তখনও আমি কিছু মনে করতাম না। গঠনমূলকভাবে সমালোচনা করুক, এটাই চাইতাম। তবে কেবল আমাকে ছোট করার জন্য বা আমি একজন নারী বলে আমাকে যা খুশি তাই বলবেন; সেটা মেনে নেবো না। আমি সেই তথাকথিত নারী না।’ ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, একটা বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছেন বঙ্গবন্ধু তার আত্মজীবনীতে। আমরা প্রায়ই বলে থাকি নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের জন্ম। বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনীতে নারায়ণগঞ্জের কথা বলেছেন। সেদিন পাইকপাড়ায় বঙ্গবন্ধু যান এবং সে এলাকার বাসিন্দারা তাকে বলেন, আমরা আপনার পাশে আছি এবং আপনাকে সুরক্ষা করবো। সেই পাইকপাড়ায় মিউচুয়াল ক্লাবে সেদিন মিটিং হয়েছিল। কমিটি নির্ধরাণ হয়েছিল। পরে তা আনুষ্ঠানিকভাবে রোজ গার্ডেনে ঘোষণা করা হয়েছিল। আমি একজন নারী বলে আমাকে যা খুশি তাই বলবেন এটা আমি মেনে নিতে পারবো না। আমি সেই তথাকথিত নারী না, যে আপনি বলবেন এই মহিলা ভালো না, এই মহিলা দুশ্চরিত্রা, ঝগরা করে, আমি এগুলো মানতে রাজি না। একজন পুরুষ একটি কর্পোরেশন চালায়, তখন সে নিজের মতো করে চালায়, সে কমকর্তাদের ধমক দিয়ে একটি কাজ করায়। কিন্তু কোন নারী জোড়ে কথা বল্লে বলেন, এই নারী ভালো না। সেই নারী নারায়ণগঞ্জের মতো একটি শহরকে সঠিক জায়গায় আনার জন্য লড়াই করে তখন সেই নারীকে ফাঁসি দেয়া হয়, পোষ্টার ছাপানো হয়। কতো ধরনের অভিযোগ শুনতে হয়। এসময় আইভী আরও বলেন, আমি এই জায়গায় এসেছি, আমি চিন্তা ভাবনা করে এসেছি। আমি এখান থেকে নোড়বো না। আমি এই শহরে ভেসে আমি নাই। আমার পৈত্রিক বাড়ি এখানে। আমি সিএস, আরএসের মালিক। আমি সেই সূত্রে নারায়ণগঞ্জের মালিক। আমার শহরকে গড়তে এসেছি। আমি অন্যায় অত্যাচাররের বিরুদ্ধে কথা বলবো। আমি একাই আইভী হতে পারি নি। আপনারা আমার সাথে ছিলেন, আপনাদের সাহস উৎসাহ ছিলো বলেই আমি এই জায়গায় এসেছি। সিদ্ধিরগঞ্জের হলি উইলস্ স্কুলের আয়োজনে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের কমান্ডার শাহ্জাহান ভূইয়া জুলহাস, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কমান্ডের আহ্বায়ক শরীফ উদ্দিন সবুজ, সিদ্ধিরগঞ্জের সফর আলী স্কুল এন্ড কলেজের চেয়ারম্যান জাকিয়া আলী ভূইয়া। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন দৈনিক সংবাদের চীফ রিপোর্টার সালাম জুবায়ের।





এই বিভাগের আরো সংবাদ




Leave a Reply

%d bloggers like this: