আজ: মঙ্গলবার | ২৬ অক্টোবর, ২০২১ | ১০ কার্তিক, ১৪২৮ | ১৯ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ | বিকাল ৩:০২

সংবাদ দেখার জন্য ধন্যবাদ

Home » সারাদেশ » চট্টগ্রাম বিভাগ » কুমিল্লা » কুমিল্লায় কাভার্ডভ্যানচাপায় নিহত ২

ক্লু-লেস হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করলো র‌্যাব, গ্রেফতার ৭

১৭ আগস্ট, ২০২১ | ৪:২৯ অপরাহ্ণ | বাংলাদেশ বার্তা | 639 Views

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এশিয়ান হাইওয়ে রোডে পাশে ডোবার মধ্যে পাওয়া অজ্ঞাত সেই ব্যক্তির লোমহর্ষক হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন এবং মূল হত্যাকারীসহ ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১।
র‌্যাব-১১ এর একটি আভিযানিক দল সোমবার (১৬ আগস্ট) দেশের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সকল আসামীকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলো:- মোঃ সাইফুল ইসলাম (৩০), ও তার সহযোগী অন্যতম আসামী মোঃ শামীম (৪০), মোঃ রনি মিয়া (৩০), মোঃ আঃ মান্নান শেখ (২২), মোঃ সুমন (৩৮), মোঃ মামুনুর রশিদ (৩৫), এবং মোঃ হাবিবুল্লাহ (৫২)।
র‌্যাব জানায়, গত চলতি বছরের জুলাই মাসের ১৮ তারিখে উক্ত অজ্ঞানপার্টি চক্রের মূলহোতা মোঃ সাইফুল ইসলাম ঢাকার কেরাণীগঞ্জ থেকে এবং তার সহযোগী মোঃ রনি মিয়া গাইবান্ধা হতে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় অবস্থানরত মোঃ শামীম, মোঃ আঃ মান্নান শেখ, মোঃ সুমন, মোঃ মামুনুর রশিদ ও মোঃ হাবিবুল্লাহসহ ৯ জনের একটি দল সাইফুলের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হয়। উক্ত চক্রের মূলহোতা সাইফুলের একজন অন্যতম সহযোগীসহ আরও ৫ জনের একটি দল নাটোর থেকে ১টি ট্রাক নিয়ে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা এসে সাইফুলের দলের সাথে মিলিত হয়। পরে ১৯ জুলাই ভোর রাতে নারায়ণগঞ্জ হয়ে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
আরও জানায়, তারা ঘটনার দিন দুপুরবেলা কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় এসে পৌছালেও তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করে। সন্ধ্যার পর উক্ত অজ্ঞানপার্টি চক্রের মূলহোতা সাইফুল নিজে যাত্রীসেজে ঈদে ঘরমুখো সাধারণ যাত্রীদেরকে কম টাকায় পরিবহনের আশ্বাস দিয়ে ভিকটিম ১. জাহিদুল ইসলাম (৫০) সহ তার সঙ্গীয় ২. আলম (৫০), ৩. আরিফ (৩০), ৪. শরীফুল ইসলাম (৫০) ও ৫. সবুজ (৩০) সহ মোট ৫ জন যাত্রীকে সু-কৌশলে তাদের ট্রাকে উঠিয়ে নাটোরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা উল্লিখিত যাত্রীদের নিয়ে কিছুদূর আসার পরে পথিমধ্যে তাদের দেখিয়ে শুকনো খাবার ও কোমল পানীয় ক্রয় করে। পরবর্তীতে তারা ট্রাকের সামনে পূর্ব থেকেই রাখা ঘুমের ঔষধ মিশ্রিত অনুরুপ শুকনো খাবার ও কোমল পানীয়
সু-কৌশলে পরিবর্তন করে ট্রাক চলাকালীন সময়ে ভিকটিম জাহিদুল ইসলামসহ ৪ জন যাত্রীকে খাইয়ে অজ্ঞান করে তাদের কাছে থাকা সবকিছু লুট করে নেয়। একজন যাত্রী উক্ত ঘুমের ঔষধ মিশ্রিত শুকনো খাবার ও কোমল পানীয় না খাওয়ায় তাকে বেধড়ক মারধর করে।
পরবর্তীতে উক্ত অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা কুমিল্লার দাউদকান্দি ব্রীজ পার হয়ে প্রথমে ৩ জন যাত্রীকে অজ্ঞান অবস্থায় রাস্তার পাশে ফেলে দেয়। তারপর কিছুদূর আসার পর অজ্ঞান না হওয়া যাত্রীকে রাস্তার পাশে ফেলে দেয়। সবশেষে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন টেংরারটেক সাকিনস্থ এশিয়ান হাইওয়ে রোডের পশ্চিম পাশের ঝোপঝাড়ের মধ্যে ভিকটিম জাহিদুল ইসলামকে গড়িয়ে ফেলে দেয়। ঘুমের ঔষধ মিশ্রিত শুকনো খাবার ও কোমল পানীয় খেয়ে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ভিকটিম জাহিদুল ইসলাম এর নিকট টাকা পয়সা কম থাকায় আসামীরা ক্ষোভে কিল ঘুষি ও প্রচন্ড মারধর করে। ঔষধের বিষাক্ত প্রভাব এবং প্রচন্ড মারধর করার ফলে ভিকটিম জাহিদুল ইসলামের মৃত্যু হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধান ও গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, উল্লিখিত অজ্ঞান পার্টি চক্রটি দীর্ঘদিন যাবৎ ঢাকাসহ সারা দেশব্যাপী বিভিন্ন জায়গায় কখনও এককভাবে আবার কখনও সংঘবদ্ধ হয়ে খাবারের সাথে ঘুমের ঔষধ মেশানোসহ বিভিন্নভাবে যাত্রীদের অজ্ঞান করে যাত্রীদের সর্বস্ব হাতিয়ে নিয়ে আসছিল। গ্রেফতারকৃত উক্ত চক্রের মূলহোতা মোঃ সাইফুল ইসলামসহ তার সহযোগী অন্যান্য আসামীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটনের দায়ে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে যা ক্রাইম ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বিশ্লেষণ করে সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, উক্ত অজ্ঞানপার্টি চক্রের মূলহোতা মোঃ সাইফুল ইসলামের নামে চেতনানাশক ঔষধ খাইয়ে চুরি করার অপরাধে গত ২০১৬ সালে ২৯ নভেম্বর তারিখে গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা থানায় ১টি, ২০১৯ সালে একই থানায় জুয়া আইনে ১টি এবং ২০১৯ সালের ৩ এপ্রিল তারিখে বগুড়া সদর থানায় চেতনানাশক ঔষধ খাইয়ে চুরি করার অপরাধে ১টি সহ মোট ৩টি মামলা রয়েছে। সে ২০১৬ সালে গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা থানায় রুজুকৃত মামলায় গ্রেফতার হয়ে ৩ মাস ও ২০১৯ সালে একই থানায় রুজুকৃত মামলায় গ্রেফতার হয়ে ১৫ দিন কারা ভোগ করে।
আসামী মোঃ রনি মিয়া এর বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানায় নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করিয়ে অটোভ্যান চুরি করার চেষ্টার অপরাধে ও ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা থানায় প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করার অপরাধে ২টি মামলা রয়েছে। উক্ত ২টি মামলায় গ্রেফতার হয়ে সে সর্বমোট ৩ বছর কারাভোগ করে।
আসামী মোঃ আঃ মান্নান শেখ এর বিরূদ্ধে ২০২০ সালে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানায় চুরি করার অপরাধে ১টি মামলা রয়েছে। উক্ত মামলার প্রেক্ষিতে ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে গ্রেফতার হয়ে সে ৫ দিন কারাভোগ করে।
আসামী মোঃ মামুনুর রশিদ এর বিরূদ্ধে ২০০৬ সালে চুয়াডাঙ্গা জেলার জিআরপি থানায় ১টি, ২০০৮ সালে ৭ সেপ্টেম্বর নাটোরের লালপুর ও বড়াইগ্রাম থানায় নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করিয়ে চুরি করার অপরাধে ২টি ও ২০২১ সালের ১১ জানুয়ারি নাটোর সদর থানায় একই অপরাধ সংঘটনের দায়ে ১টি সহ মোট ৪টি মামলা রয়েছে। সে ২০০৬ সালে চুয়াডাঙ্গা জেলার জিআরপি থানার মামলায় সাড়ে ১১ মাস, ২০০৮ সালের পৃথক ২টি মামলায় আড়াই বছর এবং ২০২১ সালের অপর ১টি মামলায় গ্রেফতার হয়ে ১৪ দিন কারাভোগ করে।
গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ মামুনুর রশিদ দীর্ঘ ২০ বছর যাবৎ অজ্ঞানপার্টি চক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করে আসছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে।
উক্ত ঘটনার দিনেই (১৮ জুলাই) উক্ত চক্রটি গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় ৩ জন ব্যক্তিকে ঘুমের ঔষধ মিশ্রিত কোমল পানীয় মিরিন্ডা খাইয়ে অজ্ঞান করে ১৩ হাজার টাকা এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এক গরু ব্যবসায়ীকে একই কায়দায় অজ্ঞান করে ১ লক্ষ ৩৪ হাজার লুট করে নেয় বলে স্বীকার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুলাই মাসের ২১ তারিখ রূপগঞ্জ থানাধীন টেংরারটেক সাকিনস্থ এশিয়ান হাইওয়ে রোডের পশ্চিম পাশে মাল্টিব্রান্ড গ্রুপের বাউন্ডারি সংলগ্ন ডোবার মধ্যে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ পাওয়া যায়। ঘটনার খবর পাওয়ার পর জুলাই মাসের ২৪ তারিখে হাসপাতাল মর্গে উপস্থিত হয়ে মোঃ কাজল হোসেন (২১) নামক এক ব্যক্তি লাশের পরনে থাকা কাপড় দেখে লাশটি তার বাবা জাহিদুল ইসলাম বলে সনাক্ত করে। পরেরদিন নিহতের ছেলে মোঃ কাজল হোসেন বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যা পরে র‌্যাবের নিকট হস্তান্তর করা হয়।



Comment Heare

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this: