আজ: বুধবার | ৩ মার্চ, ২০২১ | ১৮ ফাল্গুন, ১৪২৭ | ১৮ রজব, ১৪৪২ | সকাল ৯:২৩

সংবাদ দেখার জন্য ধন্যবাদ

Home » নারায়ণগঞ্জ » সিদ্ধিরগঞ্জ » নারায়ণগঞ্জে মসজিদ রক্ষার্থে মুসল্লীদের মানববন্ধন

‘ছোটবেলা থেকেই ছবিতে অভিনয়ের স্বপ্ন ছিল’

০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ | ২:২০ পূর্বাহ্ণ | বাংলাদেশ বার্তা | 128 Views

নতুন প্রজন্মের প্রিয়মুখ হুমাইরা সুবাহ। তিনি মৌলিক গান দিয়ে সংগীতাঙ্গনে যাত্রা শুরু করেন। কিন্তু সুবহার ছোটবেলা থেকে একটাই স্বপ্ন ছিল নায়িকা হবেন। আলো ছড়াবেন রুপালি পর্দায়। হুমায়রা সুবহার সেই স্বপ্নপূরণ এখন কেবলই সময়ের অপেক্ষা। সুবাহ অভিনীত একাধিক সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায়। তিনি সম্প্রতি ফিল্ম ক্লাবের সদস্য হলেন। তার বর্তমান ব্যস্ততা ও অভিনয় জীবন নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। কথা বলেছেন—অচিন্ত্য চয়ন ।

গায়িকা থেকে নায়িকা…
একটি মৌলিক গান দিয়ে ২০১৮ সালে আমার শোবিজে আসা। গানটির শিরোনাম—‘চল মেলায় যাইরে’। পাশাপাশি মডেলিং করতাম কিছু ভালো গানে। এরপর অনেক ছবি নাটকে অফার পাই কিন্তু আসলে ওই সময় আমি মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম না। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে একটি গানের জন্য প্লেব্যাক করতে যাই মিউজিক ডিরেক্টরের একটি স্টুডিওতে। তখন এক পরিচালকের সঙ্গে দেখা হয়, তিনি আমাকে ছবির অফার দেন। তারপরেই অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নিই। অনেক স্বপ্ন নিয়ে এই নতুন যাত্রা। আমি নিজেকে লাকি মনে করছি, কারণ গায়িকা হতে এসে নায়িকা হয়ে গেলাম! চলচ্চিত্রে টিকে থাকা কঠিন জানি তবু বলছি—যোগ্যতার প্রমাণ রাখতে চাই। নিজের সেরাটা দিয়ে কাজের চেষ্টা করব। দর্শকরা পছন্দ করলে আমি কাজ করে যাব। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি ভালো গল্পের নাটকেও কাজ করব।

অভিনয় পেশা, নেশা নাকি শখ?
ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছে ছিল আমি একটি ছবিতে অভিনয় করব। সেই স্বপ্ন থেকেই ফিল্মে কাজ করার সুযোগ পেলাম। এখন ওই শখটা নেশা ও পেশায় রূপান্তরিত হয়ে গেছে। অভিনয়কে আমি পেশা ও নেশা হিসেবেই নেব।

প্রথম অভিনয়ের অভিজ্ঞতা …
প্রথম অভিনয়ের অভিজ্ঞতা অনেক মজার ছিল। আমার প্রথম ছবি ‘প্রসূতি বিকেল’। ওখানে আমি প্রথম যখন অভিনয় করছিলাম আমাকে বলা হয়েছিল কাঁদতে। কিন্তু আমি কাঁদতে পারছিলাম না। আমার খুব হাসি পাচ্ছিল—যে আমি কিভাবে কাদব? আমাকে তবু কেউ বকা দেননি। কেউ রাগও করেনি। আমি কাঁদব কেন? আমি তো কষ্ট পাইনি তারপর সবাই বলছিল যে ঠিক আছে তোমার যেহেতু কান্না আসছে না, তাহলে তুমি গ্লিসারিন নাও। কিন্তু আমি যখন চোখে প্রথম গ্লিসারিন লাগাই চোখ খুলতে পারছিলাম না। আমি চোখ বন্ধ করে ছিলাম এইটা আমার জন্য একটা মজার অভিজ্ঞতা।

নতুন সিনেমার চরিত্র …
আমার নতুন সিনেমা ‘মন বসছে পড়ার টেবিলে’। ছবিতে আমার চরিত্র একটা খুবই ফাঁকিবাজ শিক্ষার্থীর, দুষ্ট, চঞ্চল, পড়াশোনায় একদমই মন বসতে চায় না। এটি একটি মজার গল্পের ছবি। সামাজিক সাবলীল গল্প—মনে হবে যে, ৯০ দশকের সিনেমা দেখছি।

সিনেমার গল্প ভালো লাগার কারণ …
গল্পটি ভালো লাগার কারণ হচ্ছে—শাবনূর আপুর একটি মুভি ছিল ‘মন বসে না পড়ার টেবিলে’। এটা আমার একই চরিত্র। পরিচালকও একজনই। ছবিটি দেখে দর্শক মজা পাবে কারণ এখনকার দর্শকরা একটু মজার ও বাস্তবধর্মী গল্প পছন্দ করেন। এটা মাথায় রেখেই আমি এধরনের একটি গল্পে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলাম।

প্রতিবন্ধকতা…
আমার যে প্রতিবন্ধকতা ছিল না, তা নয়। আমার প্রিয় ছবির কাজ অর্ধেক শেষ হওয়ার পর বাবা জানতে পারেন। আমার পরিবার ইসলামিক পরিবার। আমার দাদু নানু হাজী, আব্বুও হজ করতে যাবেন। আর আমার পরিবারে কেউ সাংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত নয়। এমন একটি পরিবারের মেয়ে হয়ে আমি সিনেমায় কাজ করছি এটা খুবই কঠিন। কিন্তু আমি আমার মায়ের সমর্থন পুরোপুরি পেয়েছি। মা বলতেন—‘তুমি যদি মন থেকে অভিনয় কর, আর স্বপ্ন যদি দেখে থাকো, তাহলে তুমি পারবে। তোমার যতই বাধা আসুক তুমি অতিক্রম করে কাজ করতে পারবে। যেহেতু আমার মা-ই আমার জন্য দোয়া করে সেহেতু আমার অন্য কিছুর দরকার নাই।’

ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা…
আমার ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা হচ্ছে—বাংলা ছবিতে অভিনয় করব, ছবির সাথে লেগে থাকব। যদি ভালো গল্পের নাটক টেলিফিল্মে অভিনয়ের সুযোগ পাই কাজ করব। তবে বাংলা মুভিই আমার মূল পেশা বলতে পারেন এবং অভিনয়ের পাশাপাশি মডেলিং ও গান ধরে রাখব।

বাংলা চলচ্চিত্রের ভবিষ্যত…
বাংলা চলচ্চিত্রের ভবিষ্যত্ খুব ভালো। কারণ ভালো-ভালো আর্টিস্ট এখানে কাজ করছে। বাংলা সিনেমার গল্প পরিবর্তন হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে আমার মনে হচ্ছে—বাংলা চলচ্চিত্রের আকাশে নতুন সূর্যের দেখা মিলবে। আমি খুবই আশাবাদী।



Comment Heare

Leave a Reply

Top