আজ: মঙ্গলবার | ১৩ এপ্রিল, ২০২১ | ৩০ চৈত্র, ১৪২৭ | ৩০ শাবান, ১৪৪২ | সকাল ৮:০১

সংবাদ দেখার জন্য ধন্যবাদ

Home » জাতীয় » মিতা হকের মৃত্যু শোকাহত রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে নিষ্ক্রিয় হয়ে আছে ভিআইপিদের ‘পিটিশন’ কমিটি

০৬ এপ্রিল, ২০২১ | ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ | বাংলাদেশ বার্তা | 50 Views

সরকার, কিংবা আইন-আদালতের মাধ্যমে জনগুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ের সুবিচার না মিললে সংশ্লিষ্টদের প্রতিকার পাওয়া নিশ্চিত করতে পারে সার্বভৌম জাতীয় সংসদ। এলক্ষ্যে প্রতিটি সংসদেই স্পিকারের নেতৃত্বে গঠিত হয় পিটিশন কমিটি। কিন্তু অনেকটা নিষ্ক্রিয়ই হয়ে আছে অতি ক্ষমতাশালী এই কমিটি।

পঞ্চম জাতীয় সংসদে প্রথমবার এই কমিটি গঠিত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত সময় অতিবাহিত হয়েছে ৩০ বছর। এই দীর্ঘদিনে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অভিযোগও এসেছে অনেক। কিন্তু একটি অভিযোগের প্রতিকার মিলেছে মাত্র। প্রতিকার পাওয়ার আশায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ জায়গা জাতীয় সংসদে এসেও ব্যর্থ হওয়ায় পিটিশন কমিটির কাজ ও দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। বছরের পর বছর নিষ্পত্তি না করে অভিযোগ ঝুলিয়ে রাখার বিষয়টিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াও রয়েছে।

রাজনৈতিক ও সংসদ বিশ্লেষকরা বলছেন, পিটিশন কমিটি সংসদের সাথে জনগণের সেতুবন্ধনের একমাত্র মাধ্যম। এটি সক্রিয় না থাকায় জনগণ প্রতিকার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তবে সংসদ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পিটিশন কমিটির কার্যক্রম নিয়ে কিছুটা জটিলতা আছে। কোন কোন বিষয়ে একজন নাগরিক কমিটির কাছে পিটিশন করতে পারবে সেবিষয়টি পরিষ্কার না থাকায় এমনটি হচ্ছে।

সংসদের সঙ্গে জনগণের সরাসরি সম্পৃক্ততা তৈরি এবং অনিষ্পন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিষ্পত্তির লক্ষ্যে পঞ্চম সংসদে গঠিত হয় পিটিশন কমিটি। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী স্পিকারকে সভাপতি করে গঠন করা এই কমিটিতে সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতাসহ সংসদের ১০ জন ভিআইপি এটির সদস্য। বিধি অনুযায়ী কোনো মন্ত্রী এ কমিটির সদস্য হতে পারেন না।

সংসদে উত্থাপিত বিল অথবা জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমাধান চেয়ে যে কোনো নাগরিক পিটিশন কমিটিতে আবেদন করতে পারেন। আবেদনে একজন সংসদ সদস্যের প্রতিস্বাক্ষর থাকতে হয়। এরপর প্রতিস্বাক্ষরকারী সংসদ সদস্য পিটিশনটি সংসদ সচিবের কাছে জমা দেবেন। সচিব তা সংসদের গোচরে আনবেন। বিধিতে আরো বলা আছে, স্পিকার বিধিসম্মতভাবে কমিটিতে জমা পড়া আবেদনের বিষয়বস্তু সম্পর্কে সংসদকে অবহিত করবেন এবং প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পরামর্শ দেবেন। কোনো সংসদ সদস্য নিজের পক্ষ থেকে পিটিশন দাখিল করতে পারবেন না।

সংসদ সচিবালয়ের তথ্যানুযায়ী, পঞ্চম সংসদ থেকে এ পর্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রায় দেড় শতাধিক আবেদন জমা পড়ে। এসব আবেদনের মধ্যে গৃহীত হয়েছে ২০টি। গৃহীত আবেদনের মধ্যে পঞ্চম সংসদে ১৭টি, সপ্তম সংসদে দুটি এবং অষ্টম সংসদে একটি। আগের সংসদগুলো ছাড়া নবম সংসদে ১২টি এবং দশম সংসদে ৩টি আবেদন জমা হলেও বিধিসম্মত না হওয়ায় সেগুলো গৃহীত হয়নি বলে জানিয়েছেন পিটিশন কমিটি শাখার সংশ্লিষ্টরা। এদিকে এ পর্যন্ত জমা হওয়া অভিযোগগুলোর মধ্যে ২০টি গৃহীত হলেও কমিটির মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়ার নজির রয়েছে মাত্র একটির। আর সেটিও ১৬ বছর আগে।

২০০৫ সালে এই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সাতক্ষীরা টিভি সম্প্রচার কেন্দ্রের মাঝখানের রাস্তাটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছিল। বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা না করেই রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছিল তৎকালীন কর্তৃপক্ষ। আবেদনটি দাখিল করেছিলেন সাতক্ষীরা বারের সভাপতি আবুল হোসেন। প্রতিস্বাক্ষর করেছিলেন তৎকালীন সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব।

নিষ্ক্রিয় কমিটি; বৈঠক হয়না নিয়মিত: পঞ্চম সংসদে প্রথম পিটিশন কমিটি গঠিত হওয়ার পর এ পর্যন্ত বৈঠক হয়েছে হাতেগোনা কয়েকটি। অষ্টম সংসদে একটিমাত্র বৈঠক হলেও নবম সংসদে ১২টি পিটিশন জমা পড়লেও সেগুলো নিয়ে কোনো বৈঠক হয়নি। দশম সংসদে বৈঠক হয় ২০১৫ সালের ১৪ মে। এরপর চলমান একাদশ সংসদে একটি বৈঠক হলেও কোনো পিটিশন নিয়ে আলোচনা হয়নি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কমিটির নিষ্ক্রিয় থাকা এবং নিয়মিত বৈঠক না হওয়ায় এটির প্রতি জনগণের আস্থা এখন নেই বললেই চলে। যেকারণে এখন পিটিশন কমিটিতে অভিযোগ জমা হয়না খুব একটা। তাছাড়া কমিটির প্রচারণার অভাবে এটি সম্পর্কে অধিকাংশ জনগণই জানেনই না। যেকারণে তারা প্রতিকার চাইতেও আসেন না।

কমিটির সদস্য ও সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া এ বিষয়ে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই কমিটিকে সক্রিয় করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দেশের যেকোনো নাগরিক একজন সংসদ সদস্যের রেফারেন্সে এখানে অভিযোগ জমা দিতে পারবেন। এরপর আমরা সংশ্লিষ্টদের শুনানির জন্য ডাকব। সাধারণ জনগণকে এ বিষয়টি অবহিত করতে গণমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে। জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইটেও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।

তিনি জানান, চলতি সংসদে মাত্র তিনটি আবেদন পাওয়া গেছে। যা যাচাই-বাছাই করে স্পিকার ব্যবস্থা নেবেন।

কার্যক্রম নিয়ে জটিলতা: কমিটি সূত্রে জানা গেছে, পিটিশন কমিটির কার্যক্রম নিয়ে এর সদস্যরাই খুব বেশি ওয়াকিবহাল নন। তাছাড়া কোন কোন আবেদন গ্রহণ করা যাবে সে বিষয়েও তাদের পরিষ্কার ধারণা নেই। যেকারণে কমিটির বৈঠক কিংবা কার্যক্রম পরিচালনায় এই ভাটা।

সংসদের কার্যপ্রণালী বিধিতে বলা আছে, ‘এমন কোনো বিষয় গ্রহণযোগ্য হইবে না, (ক) যাহা বাংলাদেশের যে কোনো অংশে আওতাধীন কোনো আইন-আদালতের বিচারাধীন কোনো বিষয় অথবা বিচার বিভাগীয় বা আধা-বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনকারী সংবিধিবদ্ধ ট্রাইব্যুনাল বা কর্তৃপক্ষের নিকট কিংবা কোনো বিষয় অনুসন্ধান বা তদন্ত করার জন্য নিযুক্ত কোনো কমিশন বা তদন্ত আদালতের সম্মুখে নিষ্পন্ন হওয়ার অপেক্ষায় রহিয়াছে ; (খ) যাহা কোনো বাস্তব বা সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব, প্রস্তাবের মাধ্যমে উত্থাপন করা যায় ; অথবা (গ) যাহা আইনের মাধ্যমে কিংবা সরকার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রণীত বিধি, উপ-বিধি বা প্রবিধানের মাধ্যমে সমাধান করা যায়।’

পিটিশন কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, কার্যপ্রণালী বিধিতে পিটিশন করার বিষয়গুলো সুনির্দিষ্ট করা আছে। বিধি ১০০ এর উপ-বিধি ৩গ তে বলা আছে, যা আইনের মাধ্যমে কিংবা সরকার বা দায়িতপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রণীত বিধি, উপ-বিধি বা প্রবিধানের মাধ্যমে সমাধা করা যায়, এমন বিষয় গ্রহণযোগ্য হবে না। যেকোনো বিষয়ের সমাধানের জন্য কোনো না কোনো উপায় আছে। তাই জমা হওয়া আবেদনগুলো নিষ্পত্তির জন্য পিটিশন কমিটির কাজের প্রয়োজন হচ্ছে না।

তিনি জানান, এজন্য এখন পর্যন্ত যতগুলো পিটিশন নিয়ে কাজ হয়েছে তা সমন্বয় করে একটি প্রতিবেদন কমিটির কাছে দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে। আগামী বৈঠকের একমাস আগে ওই প্রতিবেদন দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। কমিটি ওই প্রতিবেদন পাওয়ার পর পর্যালোচনা করবে অতীতে কিভাবে বা কোন বিধি অনুযায়ী এগুলো নিষ্পত্তি হয়েছে।



Comment Heare

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this: