আজ: বৃহস্পতিবার | ২১ জানুয়ারি, ২০২১ | ৭ মাঘ, ১৪২৭ | ৭ জমাদিউস সানি, ১৪৪২ | সকাল ১১:১৮

সংবাদ দেখার জন্য ধন্যবাদ

Home » স্বাস্থ্য » অ্যান্টিবডির আয়ু মাত্র ৭ মাস!

ডাকবাক্স এখন কালের সাক্ষী

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ | ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ | বাংলাদেশ বার্তা | 129197 Views

শহর কিংবা মফস্বলে ডাক বাক্সগুলোর কচিৎ দেখা মিলে। মফস্বলে বড় কোন বটগাছে সেঁটে থাকা কিংবা শহরে রাস্তার পাশে সটান দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ সমান লাল রংয়ের ডাকবাক্সগুলো কার্যত এখন অচল। পোস্টম্যানও নেই, নেই চিঠিও। কেউ এখন চিঠি লিখে না। চিঠি লেখার অভ্যাসটাই বুঝি মানুষ ভুলে যেতে বসেছে। মনের অভিব্যক্তি দিয়ে শব্দের সাথে খেলা করে তৈরি চিঠি প্রিয়জনের হাতে পৌঁছাতে হয়তো সময় নিতো। কিন্তু এ অপেক্ষার দহনটাই ছিল চরম আনন্দের।

দিন গড়াচ্ছে, যুগ যাচ্ছে বদলে। সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে যাচ্ছে অনেক পুরনো রীতিও। এমন একটি পুরনো রীতি ছিল চিঠি লেখা। এমন এক সময় ছিল যখন যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল চিঠি। চিঠি চালাচালির মাধ্যমে পারস্পরিক যোগাযোগ রক্ষা করা হতো। এমন সময়ও ছিল যখন পায়রার পায়ে চিঠি বেঁধে দিয়ে খবর পাঠানো হতো। মনের মাধুরী মিশিয়ে চিঠি লেখার মজাই ছিল আলাদা। কাগজে লিখে খামে পুরে চিঠি পাঠানো হতো। চিঠি লেখার জন্য ছিল পোস্টকার্ড ও বিভিন্ন রং-বেরঙের প্যাড।

জানা গেছে, বর্তমানে সারা দেশে ৯ হাজার ৮৮৬টি ডাকঘর। যার মধ্যে বিভাগীয় ডাকঘরের সংখ্যা ১৪২৬ এবং অবিভাগীয় ডাকঘরের সংখ্যা ৮৪৬০। যেখানে কর্মরত ৩৯ হাজার ৯০৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। এর মধ্যে বিভাগীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ১৬ হাজার ৮৮৬ এবং ভাতাপ্রাপ্ত বা অবিভাগীয় কর্মচারীর সংখ্যা ২৩ হাজার ২১ জন। অবিভাগীয় ডাক কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, তাদের যেন একটি জাতীয় স্কেল দেওয়া হয়, নয়তো ভাতার পরিমাণ বর্তমান যুগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করা হয়। কোনোটিই হয়নি, তাই আশার প্রদীপ এখন সবার কাছেই নিভু নিভু। অবশ্য ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এদের এক দফা ভাতা বাড়ানো হয়েছে। সে কথা জানিয়েছেন একাধিক কর্মচারী। তবে ডাক বিভাগ বলছে, ডাক বিভাগের বিদ্যমান নিয়োগ বিধিমালার শর্তানুযায়ী এসব কর্মচারী বা ইডিদের বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে নিয়োগদানের বা সরকারি চাকরিতে স্থায়ীকরণের সুযোগ নেই।

উপমহাদেশে প্রথম ডাক সার্ভিস চালু হয় ১৭৭৪ সালে। বাংলাদেশের ডাক বিভাগের ইতিহাসও অনেক পুরোনো, ১৫০ বছরের ঐতিহ্য ধারণ করে এগিয়ে চলা ডাক বিভাগ আজ নানা সমস্যায় জর্জরিত। দেশে প্রায় ১০ হাজারের মতো পোস্ট অফিস রয়েছে। অভ্যন্তরীণ ডাকসেবা হিসেবে ডাকঘর চিঠিপত্র, পোস্ট কার্ড, পার্সেল ইত্যাদির সেবা প্রদান করে থাকে। কিন্তু নানা করণে এখন মানুষ পোস্ট অফিসের সেবা নিতে আগ্রহী নয়। ফলে মাঝেমধ্যে যে চিঠি/পার্সেল আসে, তার অধিকাংশই সরকারি চিঠি, পাবলিক চিঠি মাসের পর মাস অনেক পোস্ট অফিসে আসে না। এর মূল কারণ মোবাইল ফোন, ই-মেইল, ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা। ডাক বিভাগের মাধ্যমে মানুষ সঞ্চয়পত্র, ডাক জীবন বীমা, মোবাইল মানি অর্ডারের সেবা পেয়ে থাকলেও সব ডাকঘরে এই সেবাগুলো এখনো পোঁছায়নি, যার মূল কারণ অনুন্নত অবকাঠামো, সেবার সহজলভ্যতা ও ডাকসেবা সম্পর্কে মানুষের ধারণার অভাব। ফলে বিকাশ, রকেট সার্ভিস চালু হওয়ায় মানি অর্ডারের পরিমাণ কমে গেছে। সুন্দরবন, এসএ পরিবহন, কন্টিনেন্টাল কুরিয়ার সর্ভিস দখল করে নিয়েছে ডাক বিভাগের পার্সেল, চিঠি আদান–প্রদানের স্থান।

প্রযুক্তির ধারাক্রম এখন অজপাড়াগাঁয়েও গেছে। তাই এসএমএস, মেইল আর ফেসবুকে চ্যাটই প্রিয়জনের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। পরিবারের কেউ দেশের বাইরে কিংবা অন্য কোথাও অবস্থান করলে তার খোঁজ নেওয়া হতো চিঠির মাধ্যমে। তাকে বাড়ির ‘অবস্থা’ জানানোর একমাত্র মাধ্যম ছিল এই চিঠি। তখন মোবাইলের মতো দ্রুত যোগাযোগের মাধ্যম ছিল না। জনপ্রিয় ছিল চিঠি। ২০০৪ সালেও দেশে ২৩ কোটি চিঠি লেনদেন হয়েছে। অথচ ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সাধারণ চিঠি আদান-প্রদান হয়েছে ৫ কোটি আর ২০১৪-১৫ সালে হয়েছে ৪ কোটি। এভাবেই প্রতিবছর ব্যক্তিগত চিঠির ব্যবহার দিন দিন কমছে। পুরনো দিনের চিঠি আজও প্রবীণ ও মধ্য বয়সীদের জীবন অধ্যায়ের পাতা। একটা সময় ডাকপিয়নেরও কদর ছিল যথেষ্ট। বিশেষ করে প্রেমের চিঠি বিলি করার নানা মজার ঘটনা এখনো অনেকের স্মৃতিতে অমলিন। অনেক ডাকপিয়ন প্রণয়ঘটিত অনেক বিয়ের নীরব সাক্ষী। পিঠে চিঠির বস্তা নিয়ে ঝুনঝুন ঘণ্টা বাজিয়ে রাতের আঁধারে রানার ছুটত দূরের পথে।

যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসাবে অতীতকাল থেকেই মানুষ চিঠিপত্রের মাধ্যমে দেশ বিদেশে যোগাযোগের ব্যবস্থা করেছিলেন। বর্তমান যান্ত্রিক যুগে চিঠিপত্রের গুরুত্ব অনেকটা কমে গেলেও এর কার্যক্রম এখনো রয়েছে। ডাক বিভাগ বহু বছর আগ থেকে মানুষের সেবা দিয়ে আসছে। এই ডাক বিভাগের কিছু কর্মকর্তা কর্মচারীদের দুর্ব্যবহারের কারণে এর সম্মান বিলীন হয়ে গেছে। শুধু তাই নয় এরা অনেক গ্রাহকদের পাঠানো প্রয়োজনীয় মূল্যবান জিনিসপত্র গায়ের করে দেন।

বিশিষ্ট গবেষক ও শিক্ষাবিদ প্রীতি রঞ্জন বড়ুয়া মানবকন্ঠকে বলেন, দেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে ডাক বিভাগ লেখকদের চিঠিগুলো প্রতিনিয়ত সংবাদপত্রের অফিসে পৌঁছে দিতেন ডাকপিয়ন। বাংলাদেশ ডাক বিভাগের হলুদ খাম হলুদ পোস্টকার্ড হয়তো বা একদিন বিলুপ্ত হয়ে যাবে, এমন একদিন আসবে মানুষের চিঠি লেখা বা পড়ার সময় হবে না মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই সব কাজকর্ম সেরে নিবে। তারপরও চিঠিপত্রের একটা গুরুত্ব থেকে যাবে। যেমন সরকারি গুরুত্বপূর্ণ কাজকর্ম এখনো সব কিছুই পোস্টের মাধ্যমেই হয়। সরকারি এই বিভাগকে বাঁচিয়ে রাখার সঙ্গে সবাইকে বেশি বেশি চিঠিপত্র লিখে পোস্ট অফিসকে কর্মচঞ্চল রাখতে হবে। পোস্ট অফিসের সকল প্রকার কর্মকর্তা কর্মচারীদের মানুষের সেবায় এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই সম্ভব এই সরকারি প্রতিষ্ঠানটি জীবিত রাখা।

চিরচেনা ঐতিহ্যবাহী ডাকঘরের “ডাক বক্স” দিন বদলের সনদ বাস্তবায়নের কালে ডিজিটাল যুগে অনায়াসে হারিয়ে যাচ্ছে সভ্য সমাজের কাছ থেকে।চট্টগ্রাম জিপিওর সিনিয়র পোস্ট মাস্টার নিজাম উদ্দিন জানান, কালেরে প্রবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে ডাকবাক্স।একসময় প্রতিদিন চিঠি আসত,কিন্তু এখন তথ্য প্রযুক্তির কারণে খুব কমই চিঠি আসে।তবে ডাক বিভাগের নতুন নতুন সেবা মানুষের কাছে পৌছাতে আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহন করেছি। বর্তমানে সঞ্চয় পত্রে ও অন্যান্য আর্থিক কার্যাদি আমরা গুরুত্ব সহকারে সম্পাদন করছি।



Comment Heare

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this: