আজ: মঙ্গলবার | ১৩ এপ্রিল, ২০২১ | ৩০ চৈত্র, ১৪২৭ | ৩০ শাবান, ১৪৪২ | সকাল ৬:২৮

সংবাদ দেখার জন্য ধন্যবাদ

Home » জাতীয় » মিতা হকের মৃত্যু শোকাহত রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী

তারুণ্যে বাঁচবে আশা

০১ মার্চ, ২০২১ | ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ | বাংলাদেশ বার্তা | 13402 Views

এমন ঝাঁকুনি বিশ্ব আগে কখনো খেয়েছে কিনা জানা নেই। কোথায় পড়েনি করোনার প্রভাব? শিক্ষা, শিল্প-সাহিত্য, খেলাধুলা, বিনোদন, অর্থনীতি; সব পটভূমিতেই করোনার থাবার স্পষ্ট ছাপ।

তবে সব ছাড়িয়ে যেন অর্থনীতির দগদগে ঘাঁ-টা চিন্তকদের কপালে ভাঁজের সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছে কিছুটা বেশিই। কারণ, সব ক্ষেত্রেই যে অর্থের বাহাদুরি স্পষ্ট। করোনার বিরূপ প্রভাবে ইতিমধ্যে সারা বিশ্বে চাকরি হারাচ্ছে লাখ লাখ মানুষ। অনেক প্রতিষ্ঠান আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে কর্মী ছাঁটাই করতে বাধ্য হচ্ছে। কমেছে উৎপাদন ব্যবস্থা।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, ‘করোনায় এ বছর এবং আগামী বছর মিলিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি থেকে হারিয়ে যাবে ১২ ট্রিলিয়ন ডলার।’

বিশ্বব্যাংকের মতে, করোনা পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরতে লাগবে বেশ কয়েক বছর। দিন দিনই পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। অর্থনৈতিক মন্দা গভীর থেকে হচ্ছে গভীরতর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে খারাপ বৈশ্বিক মন্দার কারণ হওয়ার পূর্বাভাস দিচ্ছে আনকোরা এই রোগটি।

করোনাভাইরাস সরাসরি আঘাত করেছে বিশ্বের সব দেশের খুচরা দোকান, আবাসন, শিক্ষা, বিনোদন, হোটেল ও রেস্তোরাঁর মতো খাতগুলোকে। অনেকটা প্রলয়ের মতো। খুচরা পণ্য বিক্রির খাত এমনিতেই ই-কমার্স সাইটগুলোর দিক থেকে চাপে ছিল।

এর সঙ্গে এখন লকডাউনের মতো বিষয় যুক্ত হওয়ায় ধনী দেশগুলোয় এটি রীতিমতো অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। দেউলিয়া হওয়ার আবেদন করছে একের পর এক বড় বড় প্রতিষ্ঠান। স্বাভাবিকভাবেই পুরো বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও করোনার প্রভাবে চাকরি হারাচ্ছেন অনেক মানুষ। প্রায় প্রতিদিন সেই তালিকায় নতুন করে যুক্ত হচ্ছে অনেকের নাম। তাই দিনদিন বাড়ছে বেকারের সংখ্যা। করোনার কারণে নতুন করে চাকরির বাজার বন্ধ রয়েছে অনেক দিন। চাকরির বাজার বন্ধ থাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হচ্ছে না।

দেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস, কারখানা, যান থেকে শুরু করে সব কিছু খুলে দেওয়া হলেও সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে খুলে দেওয়া হলেও কর্মক্ষেত্র বাড়েনি।

যে সব প্রতিষ্ঠান করোনার অজুহাতে কর্মী ছাঁটাই করেছিল এখন সবকিছু স্বাভাবিক হলেও তারা কর্মী নিয়োগ করছে না। ওই সংখ্যক কর্মী দিয়েই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে। যারা বেতন কমিয়েছে তারাও ফের বাড়ায়নি। ফলে অথনৈতিক ধাক্কাটা রয়েই গেছে। এই ধাক্কা সামলাতে তারুণ্যের হাল ধরতে হবে। বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর বিরাট অংশ তরুণ।

এ দেশের তরুণ সম্প্রদায় অত্যন্ত পরিশ্রমী, সৃজনশীল ও প্রযুক্তিমনস্ক। এখানে বিনিয়োগের ইতিবাচক পরিবেশ বিরাজ করছে। রয়েছে অভ্যন্তরীণ বিশাল ভোক্তা গোষ্ঠী। করোনার ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক অর্থনীতির দুরবস্থার মধ্যেও বাংলাদেশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

২০১৯-২০ অর্থবছরে যেখানে শিল্পোন্নত দেশগুলোতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ ৫.২৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির এই অর্জন দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জিডিপি এবং বৈশ্বিক গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি। পাশাপাশি জনগণের মাথাপিছু আয় বেড়ে ২০৬৪ ডলারে উন্নীত হয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। করোনা মোকাবিলায় সরকার ঘোষিত প্রণোদনা ও কর্মোদ্যোগ বিশ্বখ্যাত দ্য ইকোনমিস্ট, ফোর্বস, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছে।

দ্য ইকোনমিস্ট-এর গত ২ মে ২০২০ গবেষণামূলক এক প্রতিবেদনে চারটি মানদন্ডের ভিত্তিতে ৬৬টি উদীয়মান সফল অর্থনীতির দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নবম। করোনা মহামারির অর্থনৈতিক অভিঘাত মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন ক্যাটাগরির শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের জন্য ৭২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। দ্রুততার সঙ্গে প্রণোদনা ঘোষণা এবং এর বাস্তবায়নের ফলে দেশের শিল্প খাত ক্রমেই ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। চলতি বছরে জুলাই থেকে তৈরি পোশাকশিল্প খাত সচল হতে শুরু করেছে।

১-২২ আগস্ট, ২০২০ সময়ে বাংলাদেশ ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের তৈরি পোশাক রফতানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। শিল্প খাত পুনরুদ্ধারের এধারাকে এগিয়ে নিতে হবে। বিশেষ করে ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প খাতকে শক্তিশালী করে কর্মসংস্থান ও রফতানি বৃদ্ধির সুযোগ অবারিত করতে হবে। সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের জন্য দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য। বর্তমানে বাংলাদেশ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিশাল বাজার, বিপুল ক্রেতাগোষ্ঠী, তরুণ ও সৃজনশীল শ্রমশক্তি, বন্দর সুবিধা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে শক্তিশালী কানেকটিভিটি বিদেশি বিনিয়োগের সহায়ক পরিবেশ তৈরি করেছে।

তাছাড়া স্বল্প শিক্ষিত তরুণ শ্রেণিও হতে পারে নির্ভরতার জায়গা। তারা গ্রামীণ অর্থনীতি নির্ভর উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারে। যারা চাকরি হারিয়ে বেকার হচ্ছে তাদেরও সরকার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তুলতে পারে। তারাও হতে পারে একেক জন দক্ষ উদ্যোক্তা। এক্ষেত্রে কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা জরুরি।

কারণ যারা বেকার হয়ে গ্রামের পথে আছেন, তাদের কৃষি ও ক্ষুদ্র কুটিশিল্পের দিকে ধাবিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্বল্প শিক্ষিত থেকে শুরু করে শিক্ষিত সব শ্রেণির মানুষকে যুক্ত করার প্রয়াস নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সবাইকে কৃষিকাজের দিকে বিশেষ মনোযোগী হতে হবে।

কারণ কৃষির কোনো বিকল্প নেই, এটি করোনা চোখে আঙুল দিয়ে সবাইকে দেখিয়ে দিয়েছে।

যারাই গ্রামে যাচ্ছেন, তাদের সবাই যদি অল্প করে হলেও কৃষির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেন, তবে লাভবান হবেন সবাই। তাই গ্রামে গিয়ে বসে না থেকে নিজেকে যুক্ত রাখতে হবে কাজের মধ্যে।

আসল কথা হলো- তরুণ শ্রেণিকে যথাযথ কর্মসংস্থান গড়ে দিতে পারলে অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলানো অনেক উন্নত রাষ্ট্রের চেয়েও বাংলাদেশের জন্য সহজ হবে। সেজন্য বিশাল বাজেট বা বিস্তীর্ণ এড়িয়ার দরকার নেই। দরকার কেবল সদিচ্ছা ও সঠিক পরিকল্পনা।

লেখক: কথাশিল্পী ও সাংবাদিক [email protected]



Comment Heare

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this: