আজ: বৃহস্পতিবার | ৫ আগস্ট, ২০২১ | ২১ শ্রাবণ, ১৪২৮ | ২৫ জিলহজ, ১৪৪২ | সকাল ৮:৩৭

সংবাদ দেখার জন্য ধন্যবাদ

Home » আন্তর্জাতিক » ওমান সাগরে ৪ জাহাজ ছিনতাই

নতুন ডানায় উড়বে পরী

১২ জুলাই, ২০২১ | ৫:০৫ অপরাহ্ণ | বাংলাদেশ বার্তা | 216 Views

চেনা শহর—অচেনা দৃশ্য। সময়-অসময়ে তৈরি হয় চেনা বা অচেনা মানুষের বাস্তব গল্প! এসব গল্পের চরিত্রে যারা থাকেন তাদের কেউ কেউ নীরবে সহ্য করেন বেদনার সংগীত, হূদয়ে পুষিয়ে রাখেন যন্ত্রণার পাহাড়। অনেক অপরাধ চাপা পড়ে যায়—সাহসের অবহেলায় অথবা প্রশাসন দফতরের নানা কারসাজির বেড়াজালে। এ সবের মধ্যে অধিকাংশই নারী নির্যাতন ও যৌন হয়রানি।

প্রাচীনকাল থেকেই নারীর ওপর অত্যাচার, নিপীড়ন, নির্যাতন এক রকম অনিবার্য হিসেবেই চলে আসছে। এই যন্ত্রণা আলো-অন্ধকারের মিশেলে অনেকেই বুকে চাপিয়ে রাখেন, আবার প্রকাশ্যে আনেন কিছু সাহসী নারী বা ভিক্টিম। দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশে নারী নির্যাতন প্রতিদিনের ঘটনা। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে পদে পদে নির্যাতিত হচ্ছে নারী। বর্তমানে বাংলাদেশে নারী নির্যাতনের ভয়াবহ দিকটি কত প্রকট হয়ে উঠছে তা প্রতিদিনের পাতা খুললেই আমাদের চোখের সামনে ধরা দেয়। প্রতিনিয়ত নারীরা ধর্ষণ, গণধর্ষণ, অ্যাসিড নিক্ষেপ, শারীরিক নির্যাতন এমনকি হত্যার শিকার হচ্ছে। ধর্ষণের পাশাপাশি হত্যাচেষ্টা, হত্যা ও আত্মহত্যার প্রবণতাও বাড়ছে। এসব ঘটনা শোবিজ অঙ্গনেও একেবারে কম ঘটে না। কিছু ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না—ভয়ভীতির কারণে। আবার কিছু সাহসী ভিক্টিম আইনের আশ্রয় নিলে গল্পটি ভিন্ন রূপ পায়! রঙিন দুনিয়ায় এমন ঘটনা নিয়ে গুঞ্জনেরও শেষ নেই, তবে এসব ঘটনা নিয়ে সমালোচকরা রূপকথার গল্পের মতো রঙিন গল্প বলে যান—পোশাক কেন ছোট, রাতে কেন বের হন, ক্লাবে কেন যেতে হবে, এত ছেলে বন্ধ থাকবে কেন—এমন নানা গল্প তৈরি করেন। অভিযোগ করলে এক পর্যায়ে ভিক্টিমের ভেতর-বাইরে উদ্ধার করে। কত টাকার গাড়িতে চলেন, কত দামি বাড়িতে থাকেন, এত অল্প সময়ে এত টাকার মালিক হলেন কীভাবে, শুধু তাই না, ‘ভাড়ায় যৌনবৃত্তিতে লেনদেন নিয়ে ঝামেলা হওয়ার কারণে এমন মিথ্যা অভিযোগ করেছেন’—এমন কথাও শুনতে হয়। এসব গল্পকার ক্লান্ত হলেও বিচারের দেখা মেলে না। আলোচনা-সমালোচনায় চাপা পড়ে যায় সত্য ঘটনা! প্রশ্ন থেকে যায়—দোষী কে? নেমে আসে রাত, জেগে ওঠে সূর্য— এভাবে হাজারো দিন-রাত্রির পুনরাবৃত্তি হলেও প্রশ্নে উত্তর থেকে যায় ফাইলবন্দি! বরং এমন আরো হাজারো প্রশ্ন যুক্ত হয় পুরনো ফাইলে।

আমরা নতুন ঘটনা, নতুন গুঞ্জনে উল্লাস করি, চোখে রাখি চলমান দৃশ্য, ভুলে যাই পুরনো অন্ধকার—অপরাধের ধারাপাতের পুরনো পৃষ্ঠায় চোখ রাখি না। এসব হিসাব নতুন করে মলাটবন্দি হয় বিশেষ ফাইলে। অপরাধীর জীবনবৃত্তান্তে সাদা ফ্লুইড লাগিয়ে ঢেকে রাখা হয় অন্ধকার দিনলিপি। এমন একটি ঘটনার কথা সবার জানা, তবু আবারো মনে করিয়ে দিই—গত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় গুলশানের একটি অভিজাত ফ্ল্যাট থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

দেশজুড়ে আলোচিত ওই রহস্যজনক মৃত্যুর পর ‘আত্মহত্যার’ প্ররোচনার অভিযোগে এক রাগববোয়ালের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা করেন ওই নারীর বড় বোন। আরো ভয়ঙ্কর বিষয় হচ্ছে—ডাক্তারি পরীক্ষায় চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। সেই নারী তিন থেকে চার সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে ফরেনসিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি করার বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠলেও আজ পর্যন্ত তার কোন দৃশ্যমান অগ্রগতি চোখে পড়েনি। এটিও বিশেষ ফাইলবন্দি রয়েছে। এমন ঘটনার বর্ণনা দিয়ে শেষ করা যাবে না। আসুন পুরনো ঘটনা ভুলে গিয়ে নতুন ঘটনায় মনোযোগ রাখি—ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়িকা। তার শোবিজে আশার গল্প একেবারে ভিন্ন রকম। শোবিজে যাত্রা শুরু ছোট পর্দার মাধ্যমে। তবে ২০১৫ সালে ছবি মুক্তির আগেই দুই ডজনের বেশি সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হন। এমন যাত্রায় হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলেনতিনি। ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ ছিল তার প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র। প্রথম ছবিতেই সম্ভাবনার জানান দিয়েছিলেন। এরপর বেশকিছু ছবিতে অভিনয় করলেও তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয় ‘স্বপ্নজাল’ ছবি। এরই মধ্যে নিজের পরিচিতি ও জনপ্রিয়তার শামিয়ানা ছড়িয়ে ফেলেছেন দেশজুড়ে। এই সংকটকালেও তার হাতে ছিল সুসময়ের বন্ধন। দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে তিনি ভালো গল্পেও সিনেমা করেন। ফলে ‘বিশ্বসুন্দরী’ সিনেমায় অন্য এক নায়িকাকে দেখেছেন দর্শক। ছবিটি দারুণ সফলতা অর্জন করেছে। সেই সঙ্গে কুড়িয়েছে দর্শকদের প্রশংসাও।

সব মিলিয়ে ভালোই চলছিল তার অভিনয় জীবন। সবার জীবনই চলে জীবনের নিয়মে—সময় পেরিয়ে যায় প্রকৃতির নিয়মে। বলছিলাম—ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়িকা পরীমণির কথা। হঠাত্ তার জীবনে নেমে আসে কালো মেঘ, আঘাত করে কালো হাতের থাবা। গত ৮ জুন রাতে ঢাকা বোটক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা করেন ব্যবসায়ী নাসির ইউ আহমেদসহ ছয় ব্যক্তি। এরপর ১৩ জুন সেটা প্রকাশ্যে আনেন এবং ১৪ জুন থানায় মামলা দায়ের করেন পরী। সেই মামলার প্রেক্ষিতে ওইদিনই নাসির ও অমিসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশের একটি দল। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় দেশি-বিদেশি মাদক। যার কারণে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মাদক মামলাও করে। ওই দুই মামলায় জামিন পেয়ে নাসির ছাড়া পেলেও এখনো জেলেই রয়েছেন আরেক ব্যবসায়ী তুহিন সিদ্দিকী অমি। কে দোষী বা কে নির্দোষী প্রমাণ পেতে অপেক্ষার বিকল্প নেই। আরো অপেক্ষা করতে হবে বিচারের জন্য। বাস্তবতার দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই সব কিছুর জন্যই অপেক্ষা করতে হয় কিন্তু সমালোচকরা অপেক্ষা করে না। তাদের গল্প বলে যান নিজেদের মতো করে—নিয়মিত সমালোচনার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে পরীমণিকে। ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা পরীমণিকে নিয়ে গত কিছু দিন ধরে নানা রকম আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। ঢাকা বোটক্লাবে গিয়ে তিনি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শিকার হয়েছেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তার সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন শোবিজ জগতের মানুষও।

পরীমণির বোটক্লাবকাণ্ড নিয়ে এখনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চর্চা চলছে। ইতিবাচক-নেতিবাচক দু’ধরনের মন্তব্যই কপালে জুটেছে ঢাকাই চলচ্চিত্রের এই নায়িকার। তবে অনেকেই পরীমণিকে সাধুবাদ জানিয়ে পাশে দাঁঁড়িয়েছেন। সম্প্রতি পরীমণির পক্ষে আওয়াজ তুললেন আলোচিত-সমালোচিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তিনি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

তাতে লিখেছে—‘ফেসবুকে শিং মাছের মতো দেখছি প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে উঠছে বাংলাদেশের নায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে কুিসত সব গালাগালি। কোনো মেয়ের বিরুদ্ধে যখন লোকেরা ক্ষেপে ওঠে, তাকে দশদিক থেকে হামলা করতে থাকে, এমন উন্মত্ত হয়ে ওঠে যেন নাগালে পেলে তাকে ছিঁড়ে ফেলবে, ছুড়ে ফেলবে, পুড়িয়ে ফেলবে, পুঁতে ফেলবে, ধর্ষণ করবে, খুন করবে, কুচি কুচি করে কেটে কোথাও ভাসিয়ে দেবে, তখন আমার ধারণা হয়, মেয়েটি নিশ্চয়ই খুব ভালো মেয়ে, সত্ মেয়ে, সাহসী মেয়ে, সোজা কথার মেয়ে। আমার নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা এটাই বলে।’

পরীমণির নাম আগে শোনেননি জানিয়ে তসলিমা লিখেছেন— ‘বাংলাদেশের সিনেমা আমি দেখি না। পরীমণির নামও আগে শুনিনি। তবে তাকে আমি দূর থেকে আমার শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা জানাচ্ছি। সব মেয়ে স্ট্রাগল করে না, কিছু মেয়ে করে। কিছু মেয়ে স্ট্রাগল করে সব মেয়ের জন্য যুগে যুগে বেটার পরিস্থিতি আনে। এই স্ট্রাগল করা কিছু মেয়েই এক একেকটা মাইলফলক।’ এই লেখিকার মতো শুরুতে অনেকেই পাশে দাঁড়িয়ে সাহস দিয়েছিলেন কিন্তু তাদের মধ্যে অনেকেই এখন নীরব! পরীর পাশে দাঁড়ানো বা তার পক্ষ নিয়ে আন্দোলনের কথা বলছি না, বলছি—অন্যায়ের প্রদিবাদেও কথা। অপরাধীর যাই হন না কেন তার যেন উপযুক্ত শাস্তি হয়। পরীর পক্ষে কথা বলার প্রয়োজন নেই অপরাধীর শাস্তিও দাবি জানানো কোনো অপরাধ নয়, চুপ করে থাকাটাই বরং ঘোরতর অপরাধ।

দুঃখজনক হরেও সত্য—বোটক্লাবকাণ্ড এখন ভিন্নরূপে হাজির হচ্ছে। রংধনুর মতো চিত্র পরিবর্তন হচ্ছে নিয়মিত। পরী ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেও নাসির বলছেন ভিন্ন কথা। জামিনে ছাড়া পান বোটক্লাবকাণ্ডের ধান আসামি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ। ছাড়া পাওয়ার চারদিন পর রবিবার তিনি সাংবাদিকদের কাছে বিবৃতি পাঠিয়ে জানালেন, সেই রাতে পরীমণির সঙ্গে আসলে কী ঘটেছিল।

বিবৃতিতে নাসির দাবি করেছেন—‘সেই রাতে পরীমণি বিদেশি মদ চেয়েছিলেন। না পেয়ে ক্লাবে ভাঙচুর চালান। তাতে বাধা দিলে তিন-চার দিন পর তিনি ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে মিথ্যাচার করেন। আমাকে নিয়ে পরীমণির মিথ্যাচারে আমি হতভম্ব হয়ে পড়ি। তবে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মহামান্য আদালতের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। আমার বিশ্বাস, আমি ন্যায়বিচার পাব।’

এখানেই থেমে নেই নাসির—বোটক্লাবকাণ্ড নিয়ে সম্প্রতি নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাসও দেন তিনি। এতে তিনি তার ভাষ্য মতে ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে পরীমণির অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। এই বিষয়ে পরীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান—‘নাসির সাহেব কি বললেন, সেটা নিয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই, কিছু বলতেও চাই না। এসবে কানও দিতে চাই না। আমি সব কিছু আইনের হাতে ছেড়ে দিয়েছি—আইনের প্রতি আমার আস্থা আছে, আমি বিশ্বাস করি, সঠিক বিচার পাব। আমি ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় আছি।’

সংকটকালে মানুষের মানসিক সাপোর্ট জরুরি। কিন্তু মানুষ নানা কথা কথা বলছেন—বোট ক্লাবকাণ্ডের পর পরীমণির বিলাসবহুল জীবন নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। এমনকি তার কর্মক্ষেত্রের পরিচিতজনরাও আড়ালে এ বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। এবার প্রত্যেকের কথার জবাব দিলেন এই নায়িকা। সম্প্রতি তিনি ফেসবুক পেজে তার সম্পদের বিষয়টি উল্লেখ করে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। লিখেছেন—‘আজ এসব নিয়েও লিখতে হচ্ছে, ভাবতে কষ্ট হচ্ছে—সত্যি। বড় বড় সম্মানিত শিল্পীও পেছনে রটানো গসিপ নিয়ে আমার দিকে আঙ্গুল তুলতেও ছাড়লেন না আজ! একবার একটু জেনে নিতে পারতেন চাইলে। যাই হোক, এসবের একটু পরিত্রাণ দরকার এবার।’ পরীমণি গাড়ি এবং ফ্ল্যাটের বর্ণনা দিয়ে লিখেছেন: ‘আমার একটি মাত্র হ্যারিয়ার গাড়ি। যেটি ব্যাংক লোনে চলছে এবং আমি একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে থাকি। মিথ্যা বা গুজব ছড়ানোর জন্য আপনারা কতটুকু জয়ী হলেন—ভেবে দেখবেন প্লিজ’

পরীমণির এই সংকটকালে তার মানসিক সাপোর্ট দরকার এবং এমন সহযোগিতা কামনাও করেন। অনেকেই তাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছেন স্বীকার করে তিনি বলেন—‘আমি এই দুঃসময়ে কতিপয় ব্যক্তি বাদে প্রচুর মানুষের সহযোগিতা ও মানসিক সাপোর্ট পেয়েছি এবং পাচ্ছি—আশা করি ভবিষ্যতেও পাব। মানসিক সাপোর্ট এই মুহূর্তে জরুরি। কিছু মানুষ কেন আমাকে নিয়ে নেতিবাচক কথা ছড়িয়ে দিচ্ছেন জানি না? আমার জানা মতে কারো ক্ষতি করিনি, তবু কেন আমার সঙ্গে এমন আচরণ? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছে অনেকে—যা খুবই দুঃখজনক।’ তবে এমন কিছু ক্ষোপ থাকলেও কিছু মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাকে মুগ্ধ করেছে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরের কয়েক দিন ধরে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে পরীর পক্ষে কথা বলেছেন, বিচারের দাবিতে জোরালো ভূমিকা নিয়েছিলেন। এখন অনেকটাই নীরব সবাই। এমন পরিস্থিতি দেখে অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে ঘটনা কোন দিকে মোড় নিচ্ছে? এ বিষয়ে কিছুই বলতে চান না পরীমণি। তবে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় থাকবেন তিনি।

পরীর দায়েরকৃত মামলায় আসামিদের গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় দেশি-বিদেশি মাদক। যার কারণে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মাদক মামলাও করে। এই বিষয়ে পরীমণির প্রশ্ন—‘আমার বাসায় মদের খালি বোতল দেখেই সত্য-মিথ্যা যাছাই না করেই আমার বাসা ‘মদের বার’ বানানো হলো কিন্তু তাদের কাছে (আসামিরা) যে মাদক পেয়ে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মাদক মামলা করেছেন সেই বিষয় নিয়ে কেন কেউ কিছু বলছেন না?’

এদিকে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে মিথ্যাচার করেছেন পরীমণি—এমন অভিযোগ করে পরীমণির মিথ্যাচারে ন্যায়বিচার দাবি করছেন নাসির। পরীমণিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মা সম্বোধন করে বিচার চেয়েছেন। দু’পক্ষরই একে অপরের প্রতি অভিযোগ করছেন, বিচারও দুজনই চাচ্ছেন—এখন দেখার বিষয় অভিযোগটা কার দিকে গড়িয়ে যায়, কে অভিযুক্ত প্রমাণ হয়? এই ঘটনায় শুধু শোবিজের মানুষ নয়, সবাই ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করেন।

পরীমণি অভিনীত সর্বশেষ ‘স্ফুলিঙ্গ’ মুক্তি পেয়েছে। খুব শিগগিরই ‘বায়োপিক’ সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নেবেন এই নায়িকা। সবার প্রত্যাশা পরীমণি আবারো আগের মতো ভালো কাজে মনোযোগ দেবে। জেগে উঠবে নতুন স্বপ্নে, আগের রূপে। বেদনা ভুলে— হাসিমুখে উড়বে নতুন ডানায়।



Comment Heare

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this: