আজ: সোমবার | ১৮ জানুয়ারি, ২০২১ | ৪ মাঘ, ১৪২৭ | ৪ জমাদিউস সানি, ১৪৪২ | রাত ৩:১৮

সংবাদ দেখার জন্য ধন্যবাদ

Home » স্বাস্থ্য » অ্যান্টিবডির আয়ু মাত্র ৭ মাস!

না’গঞ্জে মসজিদের ভেতরে মসজিদ

২৪ আগস্ট, ২০২০ | ১:৫২ পূর্বাহ্ণ | বাংলাদেশ বার্তা | 121215 Views

৫৩৮ বছরের পুরনো এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ রয়েছে নারায়ণগঞ্জ শহরের মন্ডলপাড়া এলাকায়। স্থানীয়রা একে জিনের মসজিদ হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকেন। কেউবা বলেন গায়েবী মসজিদ। তবে মসজিদটি মন্ডলপাড়া জামে মসজিদের অভ্যন্তরে অবস্থিত হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে লোকচক্ষুর অন্তরালে। এই মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল ১৪৮২ খ্রিষ্টাব্দে সুলতান জালালুদ্দীন ফতেহ শাহের আমলে। তৎকালে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলাতেও নির্মিত হয়েছিল একই ধরনের আরো একটি মসজিদ। ওই মসজিদটিও একই সময়ে অর্থাৎ ১৯৮২ সালে নির্মিত হয়েছিল। তবে বন্দরের শাহী মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্মতত্ত্ব অধিদপ্তর পুরাকীর্তি হিসেবে সংরক্ষণ করলেও শহরের মন্ডলপাড়া জামে মসজিদের অভ্যন্তরের শাহী মসজিদটির বিষয়ে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কোন নজরদারি নেই বলে জানা গেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের মন্ডলপাড়া জামে মসজিদের অভ্যন্তরেই রয়েছে একটি ছোট আকারের এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ। মসজিদটির গায়ে নির্মাণের সাল হিসেবে লেখা রয়েছে ১৪৮২ খ্রিষ্টাব্দ। স্থানীয়দের অনেকেই জানান মসজিদটি তারা জন্মের পর থেকেই দেখে আসছেন। এটাকে কেউ কেউ জিনের মসজিদ হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকেন। আবার অনেকেই গায়েবী মসজিদ বলে থাকেন। মসজিদের মুসুল্লীদের সঙ্গে আলাপকালে তারা মসজিদটিকে মুঘল আমলে নির্মিত শাহী মসজিদ বলে জানিয়েছেন। পশ্চিম দেওভোগ পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী বেপারী মসজিদটির নির্মাতাদের বংশধর দাবি করে জানিয়েছেন তাদের বংশের পূর্বপুরুষ মুঘল আমলে কাজী ছিলেন। মসজিদের মুসুল্লীরা জানান, এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটি আগে অনেক উচু ছিল কিন্তু কালের আবর্তে আশেপাশের এলাকা উচু হওয়ায় মসজিদটি এখন নিচু হয়ে গেছে। স্থাপনার অনেক অংশ এখন মাটির নিচে চলে গেছে। ছোট মসজিদটিতে ৩টি কাতারে একুশ জন নামাজ পড়তে পারে। এই ছোট মসজিদে জিনেরা নামাজ পড়ে থাকে বলে জনশ্রুতি রয়েছে। উইকিপিডিয়ায় বাংলার ইতিহাস সূত্রে জানা গেছে, শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ এর নামে বাংলায় ইলিয়াস শাহী রাজবংশের সূচনা ঘটে। তিনি ১৩৪২ থেকে পশ্চিম বাংলার লখনৌতি রাজ্যের সুলতান এবং ১৩৫২ থেকে পুরো বাংলায় সুলতান ছিলেন। তারপর ইলিয়াস শাহী বংশের প্রথম সিকান্দর শাহ ১৩৫৮ থেকে ১৩৯০ খ্রিষ্টাব্দ, গিয়াসুদ্দীন আজম শাহ ১৩৯০ থেকে ১৪১১ খ্রিষ্টাব্দ, সাইফুদ্দীন হামজা শাহ ১৪১১ থেকে ১৪১৩ খ্রিষ্টাব্দ, মুহাম্মদ শাহ ১৪১৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সিংহাসনে আসীন ছিলেন। এরপর বায়েজীদ বংশ সিংহাসন দখল করে নেয়। ১৪৩৫ খ্রিষ্টাব্দে ইলিয়াস শাহী বংশের প্রথম নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহ আবার সিংহাসন পুনরুদ্ধার করেন। তিনি ১৪৩৫ থেকে ১৪৫৯ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ছিলেন। ইলিয়াস শাহী বংশের দ্বিতীয় পর্বের সর্বশেষ সুলতান ছিলেন জালালুদ্দীন ফতেহ শাহ। তিনি ১৪৮১ থেকে ১৪৮৭ সাল পর্যন্ত সুলতান ছিলেন। জালালউদ্দিন ফাতেহ শাহ ইলিয়াস শাহি রাজবংশের শেষ সুলতান। তিনি সুলতান শামসউদ্দিন ইউসুফ শাহের ভাই ছিলেন। ফাতেহ শাহ কর্তৃক পরিচালিত কোনো সামরিক অভিযানের বর্ণনা পাওয়া যায় না। তবে মুদ্রা সংক্রান্ত তথ্য থেকে জানা যায় যে তার রাজ্য পূর্বে সিলেট ও দক্ষিণ পশ্চিমে দামোদর নদ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তার শাসনামলে হাবশিরা দরবারে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী অবস্থান লাভ করে। ১৪৮৭ সালে হাবশি প্রাসাদরক্ষীদের প্রধান তাকে হত্যা করে বাংলায় হাবশি বংশের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। তার মৃত্যুর মাধ্যমে ইলিয়াস শাহি বংশের শাসনের সমাপ্তি হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৪৮২ খ্রিষ্টাব্দে (৮৮৬ হিজরি) সুলতান জালালুদ্দীন ফতেহ শাহের শাসনামলে নারায়ণগঞ্জ শহর ও বন্দরে দুটি শাহী মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল। যার মধ্যে একটি হচ্ছে শহরের মন্ডলপাড়া এলাকায় এবং অপরটি হচ্ছে বন্দরের সালেহনগর এলাকায় অবস্থিত শাহী মসজিদ। দু’টি মসজিদই এক গম্বুজবিশিষ্ট। তবে বন্দরের শাহী মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর পুরাকীর্তি হিসেবে সংরক্ষণ করলেও শহরের মন্ডলপাড়া জামে মসজিদের অভ্যন্তরের মসজিদটির বিষয়ে বাংলাদেশ প্রত্মতত্ত্ব অধিদপ্তরের কোন নজরদারি নেই বলে জানা গেছে। ইতিহাস সূত্রে জানা গেছে, বন্দরের শাহী মসজিদটি সুলতান জালালুদ্দীন ফতেহ শাহের শাহী-কর্মকর্তা মালিক আল-মুয়াজ্জম বাবা সালেহ সালেহ ইয়ামেনী (র.) নির্মাণ করেছিলেন। তিনি ছিলেন মক্কা’র উচ্চ বংশীয় একজন মহাজের। সুলতান জালাল উদ্দিন ফতেহশাহ’র রাজত্বকালে তিনি রাজপদ’স্থ কর্মচারী ছিলেন। বন্দরেই তিনি ইন্তেকাল করেন। হাজী সালেহ বাবার মাজার এখানেই অবস্থিত। এই মহান ব্যক্তির নামে সালেহনগর নামে একটি এলাকার নামকরণ করা হয়েছে। এই সালেহ নগরের পাশেই গড়ে ওঠা শাহী মসজিদটি মোঘল আমলে ইট চুনা সুরকি দিয়ে বানানো। মসজিদের চার কোণে চারটি মিনার এবং একটি বিশাল আকৃতির গম্বুজ রয়েছে। মসজিদের বাইরের দিকের দেয়ালে এখনো রয়েছে শিলালিপি। মসজিদটি বর্গাকার। অভ্যন্তর ভাগে ৬.২০ মিটার এবং বহির্ভাগে ৯.৭০ মিটার। মসজিদটিতে তিনটি নকশাখচিত অর্ধবৃত্তাকার মিহরাব আছে। মাঝখানের মিহরাবটি অন্য দুটির তুলনায় বড়। মসজিদটি ঘিরে গড়ে উঠেছে তিনতলাবিশিষ্ট নতুন মসজিদ ও মাদ্রাসা। মূল মসজিদটি এখন আর ব্যবহৃত হয় না। ক্ষিণে রয়েছে চতুর্ভূজী একটা ঐতিহ্যবাহী পুকুর যা মসজিদের আওতাধীন। পুকুরটিতে চতুর্দিকে সিঁড়িঘাট বেষ্টিত রয়েছে। তবে পুকুরটিও দিনে দিনে ভরাট হয়ে ময়লা পানির ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।



Comment Heare

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this: