আজ: মঙ্গলবার | ১৩ এপ্রিল, ২০২১ | ৩০ চৈত্র, ১৪২৭ | ৩০ শাবান, ১৪৪২ | সকাল ৬:৪৮

সংবাদ দেখার জন্য ধন্যবাদ

Home » জাতীয় » মিতা হকের মৃত্যু শোকাহত রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী

নারীসহ হেফাজত নেতা অবরুদ্ধ

০৪ এপ্রিল, ২০২১ | ১:৫১ পূর্বাহ্ণ | বাংলাদেশ বার্তা | 58 Views

সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে নারীসহ হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতারা অবরুদ্ধ করে রাখার পর সন্ধ্যায় হাজার হাজার হেফাজত কর্মীরা উদ্ধার করে নিয়ে যায়। ওই নারীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেছেন মামুনুল হক। তার নাম আমিনা তাইয়্যেবা। গতকাল শনিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা মামুনুল হক দু’টি বিবাহ করেছেন। তিনি তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে গতকাল শনিবার সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে এসেছিলেন বেড়াতে। পরে স্থানীয় যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতারা তাকে আটক করে লাঞ্চিত করেছেন। স্থানীয়দের সাথে ধস্তাধস্তিতে মামুনুল হকের পরনে থাকা জামাটিও ছিঁড়ে গেছে। মাওলানা মামুনুল হক বিকেল ৩টায় রয়েল রিসোর্টের ৫ম তালার ৫০১ নম্বর কক্ষে অবস্থান করে। পরে স্থানীয় যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে রয়েল রির্সোটে গিয়ে অবরুদ্ধ করে এবং লাঞ্ছিত করে। এ ঘটনাটি ফেসবুকে লাইভ করেন উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি। সেই লাইভ দেখে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে মামুনুর হককে আটকের খবরে বাদ মাগরিব সোনারগাঁয়ের সকল মাদ্রাসার ছাত্র ও শিক্ষকরা জড়ো হোন রয়েল রির্সোটে। হেফাজতের লোকজনের আসার খবরে পাালিয়ে যায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন সোনারগাঁ উপজেলা ইউএনও আতিকুল ইসলাম, এসিল্যান্ড মোস্তফা মুন্নাসহ প্রশাসনের লোকজন। সেখানে তারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে মামুনুল হকের মুক্তির দাবিতে শ্লোগান দিতে থাকে। এ পর্যায়ে তারা রয়েল রির্সোটের মুল ফটক ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে রয়েল রির্সোটে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে গেলে মামুনুল হককে ছেড়ে দেয়া হয়। পরে মুসল্লিরা মামুনুর হককে নিয়ে রয়েল রির্সোট ত্যাগ করেন। কিন্তু তার সমর্থকরা উত্তেজিত হয়ে রাত আটটা পর্যন্ত রয়েল রির্সোটের নিচতলা ও জিম থেকে শুরু করে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয় বলে রিসোর্ট কতৃপক্ষের দাবি। এদিকে আরেক দল এসে মামুনুর স্ত্রীকে ছেড়ে দিতে শ্লোগান দিতে থাকে এবং তারা ব্যাপক ভাংচুর করে। পরে আটটার দিকে মহিলা পুলিশের পাহারায় মুসল্লিদের হাতে তার স্ত্রীকে তুলে দেন। পেরে হেফাজতের লোকজন মামুনুল হক ও তার স্ত্রীকে নিয়ে বিক্ষোভ করতে করতে মোগরাপাড়া হাবিব পুর ঈদগাঁও মাঠে জমায়েত হয়। সেখানে হেফাজতের নেতারা বক্তব্য রাখার পর তখন কয়েকশত হেফাজত কর্মী ম্লোগান দিয়ে সোনারগাঁ থানা ঘেরাও করতে চাইলে মামুনুল হক একটি হ্যান্ড মাইকে তাদের শান্ত হতে বলেন। এবং আইন নিজের হাতে তুলে নিতে বারন করেন। তিনি বলেন, আমি প্রমান করবো আমার সাথে আমার দ্বিতীয় স্ত্রী। তাছাড়া স্ত্রীকে নিয়ে আমি যেখানে সেখানে ঘুরতে যেতে পারি। কিন্তু ছাত্রলীগ-যুবলীগের উচ্ছৃংখল লোকজন আমাকের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে। অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করেছে। আমি আইনগতভাবেই বিষয়টি দেখবো। পরে রাত সোয়া ৮টার দিকে একটি মাইক্রোবাসে মামুনুল হক তার স্ত্রীকে তুলে দেন। তারা ঢাকার দিকে চলে গেছেন। এদিকে মামুনুর স্ত্রীকে ছেড়ে দেয়ার পর মামুনুরের সমর্থরা খন্ডখন্ড মিছিল নিয়ে মহাসড়কে গিয়ে টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে। পরে তারা আওয়ামীলীগের অফিস ভাংচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয়। একই সাথে সোনারগাঁ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নুর বাসায় হামলা চালায়। এসময় তার ব্যবহৃত প্রাইভেট কার সহ তার বাসায় ব্যাপক ভাংচুর চালানো হয়। হেফাজত কর্মীরা যুবলীগ নেতার গাড়িতে অগ্নি সংযোগকরে। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জায়েদুল আলম গণমাধ্যমকে জানান, মামুনুল হক নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানাধীন রয়েল রিসোর্টের একটি কক্ষে নারীসহ অবস্থান করছেন- এমন খবরে স্থানীয় লোকজন রিসোর্ট ঘেরাও করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। মামুনুল হক পুলিশকে জানিয়েছেন, সঙ্গে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। পরে পুলিশ তাকে নিরাপত্তা দিয়ে সেখান থেকে উদ্ধার করেছে। স্থানীয় পুলিশ জানায়, মামুনুল হক সকালে রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নম্বর কক্ষটিতে ওঠেন। দুপুর থেকেই এলাকায় চাউর হয় মামুনুল হক এক নারীসহ রিসোর্টে অবস্থান করছেন। এ খবরে এলাকার লোকজন রিসোর্টটি ঘেরাও করে। সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তবিদ রহমান সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে জানান, আমরা মামুনুল হকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। মামুনুল হকের রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। এ দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন গণমাধ্যমকে বলেন, অনেকদিন ধরেই মাওলানা মামুনুল হকসহ হেফাজতের নেতাদের বিষয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। নানামুখী এ ষড়যন্ত্রের মধ্যে আজকের এ ঘটনাটিও ষড়যন্ত্র কিনা, আমরা দলীয়ভাবে তা খতিয়ে দেখব। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব ও প্রয়াত শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হকের ছেলে মাওলানা মামুনুল হক। সে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যকে মূর্তি আখ্যা দিয়ে এর স্থাপনের বিরোধিতা করে আলোচনায় আসেন। এরপর সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মুদির সফর বাতিলের দাবীতে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন ও হরতালে বেশ গুরুত্তপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এ ঘটনায় মামুনুল হক দাবী করেছেন তার সাথের নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। বার বার তিনি কথাটি বললেও বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা তার কথায় পাত্তা না দিয়ে বিয়ের কাবিন দেখতে চান। মামুনুল হক বলেন তিনি ইসলামী শরীয়া মতে দুই বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। কিন্তু কে শোনে কার কথা। ওদিকে হেফাজতের দাবী পরিকল্পিতভাবে ছাত্রলীগ-যুবলীগ মিডিয়াকে খবর দিয়ে এনে ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটিয়েছে।



Comment Heare

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this: