আজ: মঙ্গলবার | ১৮ জানুয়ারি, ২০২২ | ৪ মাঘ, ১৪২৮ | ১৪ জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ | দুপুর ১২:২৯

সংবাদ দেখার জন্য ধন্যবাদ

Home » নারায়ণগঞ্জ » না'গঞ্জ সদর » তৈমূর পেলেন হাতি, আইভী নৌকা

নিউমোনিয়া-শ্বাসকষ্ট বাড়ছে শিশুদের

২৬ ডিসেম্বর, ২০২১ | ১:১০ পূর্বাহ্ণ | বাংলাদেশ বার্তা | 32692 Views

পৌষ মাসের শীতে বাড়ছে ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগবালাই। সর্দিজ্বর, কাশি, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমা, ব্রংকাইটিস, অ্যালার্জি, চোখ ওঠা, ডায়রিয়া, খুশকি, খোসপাঁচড়া বা চর্মরোগসহ নানা ঠাণ্ডাবাহী রোগে সবচেয়ে বেশি কাবু করছে শিশুদের, বয়স্কদেরও রেহাই নেই। যার ফলে রাজধানীসহ সারাদেশের হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে শিশুরোগীর সংখ্যা। রোগীদের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিসিত্সক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালে আবহাওয়া শুষ্ক। এজন্য বাতাসে ধুলো-বালি ওড়ে। এছাড়া ঠাণ্ডা থাকার কারণে এসব রোগবালাই হয়ে থাকে। শীত যত বাড়বে রোগীর সংখ্যাও তত বাড়বে। তাই শিশু এবং বয়স্কদের যাতে ঠাণ্ডা না লাগে সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। এখনো যেহেতু দেশের করোনার প্রকোপ রয়েছে, তাই কেউ জ্বর কিংবা অন্য রোগে আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিত্সকের কাছে নিয়ে যেতে হবে।

এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী মানবকণ্ঠকে বলেন, প্রতি শীতকালেই আমাদের দেশে ঠাণ্ডাজনিত রোগবালাই বেড়ে যায়। এর প্রধান কারণ হলো, বাতাসে আর্দ্রতা শুষ্ক থাকে। এজন্য ধুলো-বালি ওড়ে বেশি। এর কারণে এই সমস্যা হয়। আরেকটা কারণ হলো শীত বেড়ে গেলে আমাদের জীবনযাপন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলসহ শহরের অনেক মানুষের শীত নিবারণের পর্যাপ্ত কাপড় নেই। আবার অভিভাবকদের খামখেয়ালিপনার কারণে বাচ্চাদের ঠাণ্ডা লেগে যায়। সেই ঠাণ্ডা থেকে শিশু ও বয়স্কদের নানা ঠাণ্ডাজনিত রোগ হয়।
তিনি বলেন, শীতে শিশু এবং বয়স্কদের যথেষ্ট শীতের কাপড় পরিয়ে রাখতে হবে। এবার যেহেতু করোনার সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে, তাই বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। পাশাপাশি জ্বর এলেই চিকিত্সকদের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করতে হবে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক মানবকণ্ঠকে বলেন, আমাদের হাসপাতালেও ঠাণ্ডাজনিত রোগীর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে বহির্বিভাগে রোগীর চাপ বেশি। প্রাথমিক চিকিত্সার পর যাদের ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন, তাদের ভর্তি করা হচ্ছে। তবে এখনো আসন সংকট দেখা দেয়নি।

শীত আসলেই ঠাণ্ডাজনিত রোগবালাই বাড়ে উল্লেখ করে ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সৈয়দ সফি আহমেদ বলেন, শীতের তীব্রতা বাড়লে শ্বাসজনিত সমস্যা বাড়ে। কুয়াশা ও ধুলাবালির কারণে এই সমস্যা বৃদ্ধি পায়। আমাদের বহির্বিভাগে যারা চিকিত্সার জন্য আসছে তার ৩০-৪০ শতাংশই ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা। তার মধ্যে, নিউমোনিয়া, সাধারণ সর্দি-কাশি, ব্রংকাইটিস এবং ডায়রিয়ার রোগী রয়েছে। গত এক সপ্তাহে বেড়েছে নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। যদি জ্বর ও সর্দি হয় তাহলে প্রাথমিকভাবে চিকিত্সকের কাছে যেতে হবে। আর শ্বাসকষ্ট বা অসুস্থতা বাড়লে দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি বলেন, ঠাণ্ডাজনিত সমস্যার মধ্যে ১০-১২ শতাংশ রোগী নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। এরমধ্যে ব্রংকাইটিস ও অ্যাজমাও আছে।

ঠাণ্ডাজনিত রোগ থেকে প্রতিকারের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. সফি আহমেদ বলেন, এ সময় শিশুদের যত্ন নিতে হবে ভালোভাবে। তাদের ঠাণ্ডা যাতে না লাগে সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। গরম খাবার পরিবেশন করতে হবে শিশুদের। আর যদি শ্বাসকষ্ট বাড়ে তাহলে অবশ্যই হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। শীতকালে চর্মরোগ বেড়ে যাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক বলে জানান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চর্মরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক রাশেদ মোহাম্মদ খান। তিনি বলেন, এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা থাকে বেশি। শুষ্ক আবহাওয়ায় ত্বকও শুষ্ক হয়ে পড়ে। ফলে স্ক্যাভিস, শরীর চুলকানো, স্কিন ড্রাই হয়ে যাওয়া, খুশকি, হাত-পায়ে অস্বাভাবিক ঘাম, দুর্গন্ধের মতো চর্মরোগগুলো বাড়ে। ফাঙ্গাল ইনফেকশনের রোগীও পাওয়া যায়। সরেজমিনে গতকাল শুক্রবার ঢাকা শিশু হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, সব হাসপাতালেই শিশু ও চর্মরোগ বিভাগে শিশু রোগীদের উপচেপড়া ভিড়। প্রতিদিনই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। আক্রান্তদের বেশিরভাগই ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত। ঢাকার হাসপাতালগুলোতে ঢাকার বাইরে থেকেও এসব রোগে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে আসছেন স্বজনরা। শিশুদের পাশাপাশি বায়োবৃদ্ধরাও আক্রান্ত হচ্ছেন এসব রোগে।

শিশু হাসপাতালে কথা হয় পারভেজ মিয়া নামের এক অভিভাকের সঙ্গে। তিনি তার ২ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে নিয়ে ৩ দিন আগে ভর্তি হয়েছেন হাসপাতালে। পারভেজ মিয়া বলেন, সপ্তাহখানে আগে হঠাত্ তার মেয়ের জ্বর আসে। প্রথমে স্বাভাবিক জ্বর মনে করে পাড়ার ফার্মেসি থেকে ওষুধ নেন। কিন্তু জ্বর নিয়ন্ত্রণে না আসায় হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিত্সক জানান মেয়েটির বুকে কাশি জমে নিউমোনিয়া হয়ে গেছে। এখন সুস্থতার জন্য অপেক্ষা করছি।

আরেক অভিভাবক ফারজানা ইসায়মিন বাড্ডা থেকে এসেছেন তার ৭ মাস বয়সী ছেলে শিশুকে নিয়ে। তিনি বলেন, জন্মের পর থেকে বাচ্চাটি ঠাণ্ডাবাহিত নানা রোগে একাধিকবার আক্রান্ত হয়। একবার নিউমোনিয়াও হয়েছিল। গত কয়েকদিন থেকে ফের জ্বর। তাই হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছে। এখন একটি ভালোর দিকে আছে।



Comment Heare

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this: