আজ: বৃহস্পতিবার | ২ ডিসেম্বর, ২০২১ | ১৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ | ২৬ রবিউস সানি, ১৪৪৩ | সকাল ৯:৫৮

সংবাদ দেখার জন্য ধন্যবাদ

Home » মতামত » “আমিই বাংলাদেশ”

পরিবেশ ও জ্বালানি বাঁচাতে এবার বৈদ্যুতিক যানবাহন

২৬ অক্টোবর, ২০২১ | ৫:০৭ অপরাহ্ণ | Mehedi Hasan | 62905 Views

গাড়ির হর্ণে সৃষ্ট শব্দদূষণে রাজধানী ঢাকার নাগরিকদের শোচনীয় অবস্থা। সেইসাথে পেট্রল-ডিজেলে চালিত যানবাহন থেকে নির্গত হওয়া কালো ধূঁয়া পরিবেশকে ধূসর করে তুলেছে। সবমিলিয়ে রীতিমতো হাপিত্যেশ হয়ে ওঠেছে নাগরিক জীবন। বিষয়টি নিয়ে সরকার এবং নগর কর্তৃপক্ষ নানাবিধ কার্যক্রম চালালেও পরিত্রাণ মিলছে না। তাই, এবার সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণাধীন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে বৈদ্যুতিক যানবাহন নামানোর লক্ষ্যে এরইমধ্যে খসড়া নীতিমালা তৈরির কাজ শেষ করেছে। তবে এখনো তা চূড়ান্ত  হয়নি। অবশ্য, মন্ত্রণালয় এই নীতিমালা নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করেছে। গঠন করা হয়েছে পৃথক কোনো কমিটি। এদিকে পরিবেশ ও জ্বালানি বাঁচাতে প্রায় দুই বছর আগে নেয়া এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন না হওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করেছে জাতীয় সংসদের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। সংসদ ভবনে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পর কমিটি বৈদ্যুতিক যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম দ্রুত শুরু করতে বিআরটিএকে তাগিদ দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে অনুমতি ছাড়াই লাখ লাখ বৈদ্যুতিক যানবাহন চলাচল করছে। এরমধ্যে ইজিবাইক হিসেবে পরিচিত থ্রি-হুইলারের সংখ্যাই বেশি। তবে এগুলোর কোনো নিবন্ধন নেই। দুবছর আগে ২০১৯ সালে সরকার ওইসব যানবাহনকে বৈধতা দেয়ার উদ্যোগ নেয়। সেজন্য বিআরটিএ একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। ইতোমধ্যে এই খসড়া নীতিমালা নিয়েও কাজ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি আমদানিকৃত যানবাহনের জন্য চার্জিং নীতিমালা নিয়েও কাজ শুরু হয়েছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, নীতিমালা চূড়ান্ত হলেই মোটরযান আমদানি শুরু হবে বলে আশা করছেন তারা। তবে বাংলাদেশে এখন বিদ্যুৎচালিত যে বিপুলসংখ্যক ইজিবাইক আছে তার বাইরে প্রাইভেট কারসহ অন্য যানবাহনগুলো কবে নাগাদ আমদানি সম্ভব হবে তার কোনো সময়সীমা ঠিক হয়নি।

সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিদ্যুৎচালিত যানবাহন সংক্রান্ত নীতিমালা চূড়ান্ত করতে সম্প্রতি দীর্ঘ বৈঠক করেছেন তারা। বৈঠকে একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে আরো একটি কমিটি করা হয়েছে। এই কমিটি খসড়া নীতিমালা পর্যালোচনা করে রিপোর্ট দেবে। রিপোর্ট পাওয়ার পর আবার আলোচনা হবে, মন্ত্রণালয়ের মতামত নিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট অনেকগুলো পক্ষ আলোচনা করতে হবে। এসব ধাপ পেরুনোর পর নীতিমালা চূড়ান্ত হবে। এতে কিছুটা সময় লাগবে।

সারা দেশে অবৈধভাবে চলা বিদ্যুৎচালিত যানবাহন, বিশেষ করে ইজিবাইককে শৃঙ্খলায় আনতে প্রায় দুই বছর আগে উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়েছিল। যদিও শুরুতে বিদ্যুৎচালিত এ ধরনের যানবাহন চলাচলের সুযোগ রাখা হবে কি-না তা নিয়ে সরকারের মধ্যে মতবিরোধ ছিল। কিন্তু পরে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়া আর পরিবেশবান্ধব বিবেচনায় বিদ্যুৎচালিত যানবাহন আমদানি ও চলাচলের জন্য নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়। এর অংশ হিসেবে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় বিআরটিএকে একটি খসড়া প্রস্তাবনা পাঠাতে বললে সংস্থাটি একটি খসড়া পাঠায়, যাতে মূলত তখনকার বিদ্যুৎচালিত যানবাহনকে নিবন্ধনের আওতায় আনার ওপর জোর দেয়া হয়।

জানা গেছে, বিআরটিএ’র খসড়া মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার পর তা নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে এবং একটি প্রতিনিধিদলকে ভারতেও পাঠানো হয়েছিল সেখানকার বিদ্যুৎচালিত যানবাহনের ব্যবস্থাপনা, চলাচলসহ সার্বিক বিষয় দেখার জন্য।

তথ্যানুযায়ী, খসড়া নীতিমালায় যানবাহনের নিবন্ধনের ওপর জোর দেয়া হয়েছিল। এতে বলা হয়, রিচার্জেবল ব্যাটারিতে সঞ্চিত বিদ্যুৎ শক্তির সাহায্যে চালিত মোটরযান, যেটি ব্যাটারি বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন বা নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে রিচার্জ করা হয়, তাকেই ইলেকট্রিক মোটরযান বলা হবে। ব্যাটারিচালিত রিকশা এর অন্তর্ভুক্ত হবে না। খসড়া নীতিমালায় ইলেকট্রিক মোটরযানের জীবনকাল মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে দশ বছর, তিন চাকার যানবাহন নয় বছর ও হালকা, মধ্যম ও ভারী যানবাহনের জন্য ২০ বছর ধরা হয়েছে।

অনুমোদিত চার্জিং স্টেশন, নিজস্ব ব্যবস্থাপনা, সোলার প্যানেল বা নবায়নযোগ্য যেকোনো জ্বালানি ব্যবহার করে রিচার্জ করা যাবে। তবে ইলেকট্রিক মোটরযানের নিবন্ধন ও ফিটনেস সার্টিফিকেট, ট্যাক্স টোকেন ও রুট পারমিট দেয়ার প্রক্রিয়া প্রচলিত পদ্ধতিতেই হবে।

বিআরটিএ’ও রোড সেফটি উইংয়ের পরিচালক শেখ মোহাম্মদ মাহবুব-ই-রব্বানী জানিয়েছেন, বুয়েটের সঙ্গে আলোচনা করে এরইমধ্যে একটি খসড়া তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন মন্ত্রণালয় এই নীতিমালা নিয়ে কাজ করছে। ওটা চূড়ান্ত করে তারাই ওয়েবসাইটে দিয়ে দেবে। এরপর বিদ্যুৎচালিত সবধরনের যানবাহন চলাচলের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।



Comment Heare

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this: