আজ: রবিবার | ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১০ই সফর, ১৪৪২ হিজরি | দুপুর ১:০৭
শিক্ষা

প্রতিবন্ধী না হয়েও ভাতা পাচ্ছেন তারা

বাংলাদেশ বার্তা | ২৯ আগস্ট, ২০২০ | ৯:৪০ পূর্বাহ্ণ

সম্পূর্ণ শারীরিকভাবে সুস্থসবল এবং স্বাবলম্বী আছে পুকুর ভরা মাছ গোলা ভরা ধান কেউ রাতে এক চোখে কম দেখেন, কারো কোমড়ে ব্যাথা, আবার কেউবা সামান্য হাঁটুর ব্যাথায় বসতে পারেন না এসব ব্যক্তিরাই পেয়েছেন প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড অভিনব প্রতারণার ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার নারিকেল বাড়ি গ্রামে

অভিযোগ রয়েছে, ওই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সভাপতি স্থানীয় কাউন্সিলরের যোগসাজসে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগকে টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে, ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে সুস্থ সবল ব্যক্তিকে প্রতিবন্ধী বানিয়ে ভাতার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। সম্পূর্ণ শারীরিক সুস্থ থাকার পরেও কিভাবে প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় আসে নিয়ে এলাকায় সর্বত্রই সমালোচনার ঝড় বইছে। এতে প্রকৃত প্রতিবন্ধীরা সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির সুবিধা থেকে বঞ্চিত

উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা হাজার ৯৫ জন। পৌরসভায় চলতি ২০১৯২০অর্থবছরে প্রতিবন্ধী ভাতার আওতাভুক্ত হয়েছেন ৩০৫ জন। কিন্তু এরই মধ্যে প্রায় অর্ধশতাধিক সুস্থসবল ব্যক্তিকে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ভাতার অন্তর্ভূক্ত করা হয়। এমন একাধিক ব্যক্তির তথ্য পাওয়া গেছে

নারিকেলবাড়ি সন্যাসীর তলা গ্রামের বাসিন্দা সর্বেশ্বর চন্দ্র বর্মণ শারীরিকভাবে সুস্থ, জমিজিরাত সবই আছে। প্রতি বছর এক থেকে দেড় শত মণ ধান পান তিনি। কিন্তু হাঁটুতে সামান্য ব্যাথার কারণে ঠিকমতো বসতে পারেন না। সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগের ডাক্তারের কাছে গেলে দূর থেকে দেখে তাকে প্রতিবন্ধী হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরে ভাগ্নে ওই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেন

নারিকেলবাড়ি সমিতির পাড় গ্রামের দিনোবন্ধু চন্দ্র (৬৮) শারীরিকভাবে সুস্থ তবুও পেয়েছেন ভাতার কার্ড। স্ত্রী পাশুবালা শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ার পরও তার ভাগ্যে জোটেনি প্রতিবন্ধী ভাতা

দিনোবন্ধু চন্দ্র বলেন, তিনি বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে কাগজপত্র দিয়েছিলেন। কিন্তু তার হয়েছে প্রতিবন্ধী ভাতা

ওই গ্রামের প্রফুল্ল চন্দ্র বর্মন (৭০) বয়সের ভারে কোমড়ে সামান্য ব্যাথা অনুভব করেন তিনি। বয়স্কভাতার জন্য কাগজপত্র দিলেও তার হয়েছে প্রতিবন্ধী ভাতা। প্রথম দফায় ৯হাজার টাকার মধ্যে সাড়ে হাজার টাকা দেয়া হয়েছে তাকে। বাকি টাকা কে নিয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাউন্সিলরের পুত্র ভাতা কার্ড করে দিয়েছে। তাই তাকে সাড়ে চার হাজার টাকা দিতে হয়েছে

শুধু সর্বেশ্বর, দিনোবন্ধু কিংবা প্রফুল্ল চন্দ্রই নন একই পন্থায় প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা তুলেছেন, সমিতির পাড় গ্রামের সিদ্বেশ্বর চন্দ্র বর্মন, কানু চন্দ্র বর্মন, নাওডাঙ্গা গ্রামের কাজল চন্দ্র রায়, ফজলুল হক, বাকরেরহাট বদিয়ারপাড় গ্রামের মন্টু মিয়াসহ অনেকে

বিষয়ে পৌসভার ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুর ইসলাম গুল্লু নিজেও অভিযোগ করে বলেন, আমার দেয়া তালিকা সমাজসেবা পরিবর্তন করে এসব লোককে ভাতা দিয়েছে।যোগেশ্বর টাকা নিলেও বিষয়টি সমাজসেবা কর্মকর্তা জানেন। তার মাধ্যমে কাজগুলো হয়েছে

৩নং নারিকেলবাড়ি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি যোগেশ্বর চন্দ্র টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার বলেন, আমি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে কিছু নাম দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। তাই তাদের নামগুলো দিয়েছি। এখন তাদের প্রতিবন্ধী ভাতা হওয়ার কথা নয়, কেন হলো তা জানি না

উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সূভাষ চন্দ্র সরকার বলেন, সমাজসেবা যাচাইবাছাই করে পাঠালে আমি প্রত্যয়ন দেই। তাদের শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষার দরকার আছে কিনা বা করা হয় কিনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সামাজসেবা তো যাচাই করে পাঠায়

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, প্রতিবন্ধী নির্বাচনের পুরো কাজটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসকের। কারও আবেদন পেলে সরেজমিন দেখে চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়। এখানে একটি চক্র রয়েছে স্বীকার করে কর্মকর্তা বলেন, সম্প্রতি আমার স্বাক্ষর জাল করে কয়েকটি ফরম জমা দেওয়া হলে, দেখার পর আমি সেগুলো আটকে দেই। তবে আমরা দেখব তারা প্রতিবন্ধী না হলে তাদের ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হবে

বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. নূরজান্নাত রুমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া মন্তব্য করতে রাজি না হলেও কোনো অনিয়মের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি

উপজেলা যাচাইবাছাই কমিটির সভাপতি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন মন্টু বলেন, আসলে অনেক প্রতিবন্ধীকে দেখে বোঝা যায় না। তারপরও রকম কাজ খুবই দুঃখজনক। সরকার উপজেলায় বয়স্ক, বিধবা প্রতিবন্ধীদের শতভাগ ভাতা বাস্তবায়ন করা প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছে। এরমাঝে এরকম কাজ নিন্দনীয়





এই বিভাগের আরো সংবাদ




Leave a Reply

%d bloggers like this: