আজ: বুধবার | ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৩ই সফর, ১৪৪২ হিজরি | সকাল ৮:৫৯
শিক্ষা

ফতুল্লায় ইজিবাইক চালক খুন

বাংলাদেশ বার্তা | ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ | ২:৪৯ অপরাহ্ণ

যাত্রী সেজে বেলালের ইজিবাইকে উঠে জাহিদ, রকিব ও বোরহান। উদ্দেশ্যে ছিল ফতুল্লা এলাকা বক্তাবলী, ভাড়া নির্ধারণ হয়েছিল ৯০ টাকা। বেলালের জানা ছিলো না, এ ৩ জন যাত্রীই হবে তার জীবনের শেষ ট্রিপ। বক্তাবলী ঘাট এলাকায় গেলে জাহিদ, রকিব ও বোরহানের হাতে নিমর্মভাবে হত্যার শিকার হন বেলাল। গত রোববার রাত সাড়ে ১২ টায় ফতুল্লার বক্তাবলী ফেরিঘাট এলাকায় নদীতে বেলালের লাশ ফেলে যায় ওই ৩ যাত্রী। এসময় বেলালের ইজিবাইক নিয়ে পালানোর সময় এলাকার লোকজন ও অন্য ইজিবাইক চালকরা তাদেরকে আটক করে। পরবর্তীতে পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। গ্রেপ্তারকৃত ৩ জন হলেন- জাহিদ হাসান (২৭), রকিব (২৫) ও বোরহান (২২)। এদের মধ্যে – জাহিদ হাসান ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ মুন্সি বাড়ির নুরুল হকের ছেলে, রকিব মুন্সিগঞ্জের সিরাজদীখানের কালিনগর এলাকার মৃত নুর ইসলামের ছেলে ও বোরহান শরীয়তপুরের নড়িয়ার মৃত খলিল মোল্লার ছেলে। বোরহান চর কাশিপুর এলাকার দিঘলীপট্টিতে ও রকিব একই এলাকার শাহিনের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসাবে বসবাস করে। নিহত বেলাল মিয়া রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানার কাদিরাবাদ এলাকার মৃত.সেকান্দার আলীর ছেলে। বর্তমানে ফতুল্লার শাসনগাও এলাকার শাহী মসজিদের পাশে হালিম মিয়ার বাড়িতে স্ত্রী নিয়ে ভাড়ায় বসবাস করতো। ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসলাম হোসেন জানান, গত রোববার রাতে তিনজন ছিনতাইকারী যাত্রী সেজে শহরের চাষাড়া হতে ইজিবাইক চালক বেলালকে বক্তাবলী যাওয়ার জন্য ৯০ টাকা ভাড়া করে। বক্তাবলী ফেরিঘাট পৌছালে বেলালকে ধারালো ছোড়া দিয়ে হত্যা করে ইজিবাইক নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় এলাকার লোকজন ও অন্য ইজিবাইক চালকরা তিন ছিনতাইকারীদের আটক করে। পরে তাদের দেয়া তথ্যমতে রক্তাক্ত অবস্থায় নদীর পাড় বেলালকে উদ্ধার করে বাঁচানোর জন্য হাসপাতালে নেয়া হলেও ডাক্টার মৃত ঘোষণা করেন। তিনি আরো বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়। আর হত্যাকান্ডে জড়িত গ্রেপ্তারকমত তিন ছিনতাইকারীকে আদালতে প্রেরণ করা হবে। এদিকে ফতুল্লার দাপা ইন্দ্রাকপুর এলাকা থেকে নৈশ্য প্রহরীকে অস্ত্রেরমুখে জিম্মি করে রড ডাকাতির ঘটনায় ২ জন পেশাধারী ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতদের দেওয়া তথ্য মতে লুন্ঠিত মালামালও উদ্ধার করা হয়। ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন আরো জানান, অপরাধ করে কেউ যদি মনে করে পার পেয়ে যাবেন তাহলে তারা এখনো অন্ধকারে রয়ে গেছেন। বর্তমানে প্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশে অপরাধ করে ছাড় পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই নেই বললেই চলে। অপরাধ সংগঠিত করার একশো হাত মাটির তলায় থাকলেও অপরাধীদের টেনে বের করা হবে। আইনের সু-শাসন প্রতিষ্ঠায় বর্তমান পুলিশ অনেকটাই বিচক্ষন। বিচ্ছিন্দ্র নিরাপত্তা প্রদানের লক্ষ্যে ফতুল্লা পুলিশ কাজ করে আসছে। মাঝে মধ্যে দু-একটি অনাকাংখিত ঘটনা ঘটলেও ঘটনার রহস্য উদঘাটন সামান্য কিছু সময়ের ব্যাপার মাত্র। তাই আমি মনে করি অপরাধ করার ক্ষেত্রে হাজারো বার চিন্তা করবেন“ পার পাবেন কিনা”? অতীতের কিছু ঘটনার রহস্য উদঘাটনে আমাদের বেশি সময় পার করতে হয়নি। ২৪ ঘন্টার মধ্যেই আমরা মামলার রহস্য উদঘাটনসহ ঘটনার সাথে জাড়িত প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। তাই ফতুল্লাবাসীর উদ্দেশ্যে ওসি আসলাম হোসেন বলেন, আপনার চার পাশের অপরাধের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দিন। আপনার নিরাপত্তা নিশ্চিন্তে পুলিশের দায়বদ্ধতা রয়েছে। তবে পুলিশকে সামান্য সহযোগিতা করলেই ফতুল্লাবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শতভাগ সম্ভব হবে। কারন, পুলিশই জনতা জনতাই পুলিশ। আর জনতার সহযোগিতার কারনে পুলিশের পক্ষে সম্ভব অপরাধ প্রবনতা জিরো টলারেন্সে আনা।





এই বিভাগের আরো সংবাদ




Leave a Reply

%d bloggers like this: