আজ: মঙ্গলবার | ১৩ এপ্রিল, ২০২১ | ৩০ চৈত্র, ১৪২৭ | ৩০ শাবান, ১৪৪২ | সকাল ৬:৫৩

সংবাদ দেখার জন্য ধন্যবাদ

Home » জাতীয় » মিতা হকের মৃত্যু শোকাহত রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী

ফের মুখোমুখি জীবন-জীবিকা

০৫ এপ্রিল, ২০২১ | ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ | বাংলাদেশ বার্তা | 13072 Views

করোনার দ্বিতীয় ঢেউকে সামাল দিতে লকডাউনের আদলে আজ থেকে শুরু হয়েছে ফের কড়াকড়ি জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ছাড়া সবকিছু আপাতত এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার এই অঘোষিত লকডাউনকালে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বাইরে বের না হতেও বলা হয়েছে এমন পরিস্থিতিতে আবারো মুখোমুখি জীবন জীবিকা এনিয়ে তর্কবিতর্কও তুঙ্গে

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার এই ঊর্ধ্বগতির লাগাম টেনে ধরতে লকডাউনের বিকল্প নেই। তবে সেই লকডাউন অবশ্যই কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবেঅন্যথায় কাজ হবে না। আর সাধারণ মানুষরা বলছেন, লকডাউন হলে আমাদের কী হবে। গত বছরের লকডাউনের ধাক্কায় আমরা নিঃস্ব হয়েছিলাম। সেই ক্ষত এখনো শুকায়নি। তার পরও ফের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। এখনকার ধাক্কা কীভাবে সামাল দেব চিন্তা করে পাচ্ছি না

এদিকে লকডাউনে দোকানপাট বন্ধ রাখার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ করেছেন দোকান মালিক কর্মচারীরা। আর থালা হাতে রাস্তায় আন্দোলনে নেমেছে রাইড শেয়ারিং ড্রাইভার ইউনিয়ন

সরকারের লকডাউন কিংবা কড়াকাড়ি প্রতিক্রিয়া জানতে কথা হয় রাজধানীর প্রান্থপথের চা দোকানি পারভেজ আহমদের সঙ্গে। তিনি বলেন, গত বছর করোনায় দীর্ঘদিন দোকান বন্ধ ছিল। ঢাকায় বাসা বাড়া দিয়ে থাকার সামর্থ্য হারিয়ে বাড়িতে চলে গিয়েছেন। দীর্ঘদিন বেকার থাকার ফলে দীর্ঘদিনের জমানো সঞ্চয় ঋণ করে পরিবারের ভরণপোষণ চালিয়েছিলাম। এরপর এক পর্যায়ে সবকিছু স্বাভাবিক হলে জমি বন্ধক দিয়ে কিছু টাকা নিয়ে ফের ঢাকায় এসে দোকান চালু করি। পুরনো ক্ষতি পুষিয়ে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু ফের লকডাউন সব ভেস্তে দিল। যে টাকা দিয়ে আবার দোকান শুরু করেছিলাম তার অনেকটাই কাস্টমারের কাছে বাকি আছে। এখন কী করব ভেবে পাচ্ছি না। মাসের শুরু থাকায় কাস্টমারকে চাপও দিতে পারছি না। চিন্তা করেছি আজ যা বিক্রি করব তা নিয়ে বাড়িতে চলে যাব

আরেক চায়ের দোকানি মোজা মিয়া বলেন, লকডাউন দিলে তো আমাদের কিছুই করার নেই। তবে সরকারের উচিত আমাদের কথা ভেবে বিকল্প উপায়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা। নয়তো বাড়িতে ছেলেমেয়ে না খেয়ে থাকবে

একই এলাকায় হোটেল শ্রমিক বেলাল মিয়া বলেন বলেন, কিছুদিন আগে ঢাকায় এসে এখানে কাজ নিয়েছি। সামনে রমজান ঈদ। কিছু টাকা উপার্জন করে পরিবারের কাছে ফিরতে চেয়েছিলাম। লকডাউনের কারণে এখন কিছুই মাথায় আসছে না। সংসার চালাব কীভাবে?

ষাটোর্ধ্ব রিকশাচালক ফরহাদ মিয়া বলেন, করোনা আসছে কীভাবে সংসার চালাব ঠিক বুঝতে পারছি না। পেটের জ্বালায় মরার চেয়ে আমাদের মতো গরিব মানুষদের করোনায় মরে যাওয়া ভালো

রিকশাচালক দেওয়ান মজিদ বলেন, ‘লকডাউন দিলে তো আমাদের কিছুই করার থাকবে না। তবে সরকারের উচিত আমাদের মতো দিনমজুরের কথা চিন্তা করে অন্যভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা। সবার ভালোর জন্য যদি লকডাউন দেয়া হয় রোজার আগে তা শেষ করা উচিত। তা না হলে বাড়িতে ছেলেমেয়ে না খেয়ে থাকবে।

বাসের হেলপার সালমান মিয়া বলেন, আমার আয়রোজগারের টাকায় চলে সদস্যের সংসার। কাল থেকে বাস বন্ধ। তাই রোজগারও বন্ধ থাকবে। এখন কীভাবে সংসার চালাব। ঢাকায় থাকলে টাকা পাব কই আর বাড়িতে গিয়েই বা কি করব। এই চিন্তায় গত রাতে ঘুম হয়নি। সরকারের উচিত ছিল আমাদের মতো স্বল্প আয়ের মানুষের ঘরে খাবার নিশ্চিত করে লকডাউন ঘোষণা করা

মামুনুর রশীদ চাকরি করেন একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে। তিনি বলেন, ‘লকডাউনের খবর শোনার পরই মাথা নষ্ট। গতবার লকডাউনের কারণে বেতনভাতা পাইনি। এবারো যদি লকডাউন হয় কীভাবে পরিবার নিয়ে চলব? সরকারের উচিত সীমিত পরিসরে লকডাউন দিয়ে রমজানের আগে সবকিছু স্বাভাবিক করে দেয়া। তা না হলে পরিস্থিতি বেগতিক হয়ে যাবে।

রাজধানীর নিউ মাকের্টের কাপড়ের ব্যবসায়ী জুয়েল মিয়া বলেন, গত বছর রমজানের ঈদের আগে একটি দোকান থেকে ৪০ লাখ টাকা লোকসান হয়। বছর পার না হতেই আবার লকডাউন! তাও ঈদের আগে। এভাবে লকডাউন হলে পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।তিনি বলেন, ‘করোনার ক্ষতি পোষাতে আরামবাগে আরেকটা ছোট ব্যবসা চালু করি। এখন দুটি ব্যবসা নিয়ে খুবই খারাপ অবস্থায় আছি। সরকারের উচিত রমজানের আগে লকডাউন শেষ করা।

ঢাকা রাইড শেয়ারিং ড্রাইভার ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমিন বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের মায়ের মতো। আপনার কাছে আমাদের আবেদন আমরা যারা বাইকার আছি রাইড শেয়ার করি, প্রাইভেট কারের রাইড শেয়ারিং করি আমাদের যে পরিবহন আছে আমরা প্রতিবছর ট্যাক্স দিয়ে থাকি। আমরা সাধারণ গরিব ড্রাইভার। কেউ জমি বিক্রি করে গাড়ি কিনেছি, কেউ ব্যাংকের লোন নিয়ে। এনজিও থেকে লোন নিয়েও অনেকে গাড়ি কিনেছে। এখন লকডাউনের কারণে আমরা পারছি না গাড়ি চালাতে। তাহলে পরিবার নিয়ে কীভাবে বাঁচব আমরা? ব্যাংক, এনজিওর লোন শোধ করব কেমন করে। আমরা আমাদের ক্ষুধার্ত শিশুদের আহাজারি দেখেছি

ঢাকার ড্রাইভারস ইউনিয়নের ইসরাফিল বিশ্বাস বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের মানবতার মাতা। আমি তাকে অনুরোধ করবো, একটু বিবেচনার জন্য। গতবছরের লকডাউনে আমরা যে কীভাবে ঋণগ্রস্ত হয়েছি। সেই ঋণের বোঝা এখনো আমাদের মাথায় চেপে আছে। তারপর আবার লকডাউনে কীভাবে আমরা আমাদের ঋণ শোধ করব, কীভাবে সন্তানকে খাওয়াব। তাই আমরা থালা হাতে রাস্তায় নেমেছি



Comment Heare

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this: