আজ: বৃহস্পতিবার | ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১১ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি | দুপুর ২:৪৮
জাতীয়

মসজিদের বাইরে ঈদ জামাত নয়

বাংলাদেশ বার্তা | ১৫ মে, ২০২০ | ৯:৫৮ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতিতে এই প্রথম দেশে বড় আকারের ঈদের জামাত হচ্ছে না। সংক্রমণ ঠেকাতে সীমিত পরিসরে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন হবে।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বিভিন্ন নির্দেশনা সাপেক্ষে ছুটি বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ঈদুল ফিতরের নামাজের ক্ষেত্রেও বর্তমানে বিদ্যমান বিধিবিধান প্রযোজ্য হবে। উন্মুক্ত স্থানে বড় জমায়েত পরিহার করতে হবে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে জানিয়েছে ঈদগাহ বা খোলা জায়গায় ঈদের জামাত হবে না। শুধু মসজিদে হবে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ।

এদিকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে সাধারণ ছুটি ১৭ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ছুটি বাড়ানোর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আসন্ন ঈদুল ফিতরের জামাতের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিবিধান প্রযোজ্য হবে, অর্থাৎ ঈদের জামাতের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি থাকবে।

অপরদিকে চাঁদ দেখা সাপেক্ষ আগামী ২৪ বা ২৫ মার্চ দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। ঈদের দিন মসজিদ কিংবা ঈদগাহে দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করে থাকেন মুসলমানরা। বিগত বছরগুলোতে ঈদের নামাজ কাতারবন্দি হয়ে আদায় করতেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

নামাজের শেষ হওয়ার পর পরই এক মুসলমান অন্য মুসলমানকে জড়িয়ে ঈদের কোলাকুলি ও করমর্দন (হ্যান্ডশেক) করতেন। এবার করোনার কারণে দূরত্ব বজায় রেখে নামাজ পড়তে হবে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের। একই সঙ্গে করা যাবে না হ্যান্ডশেক। পাশাপাশি বহু লোকের সমাগম যেন না ঘটে সে নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।

অপরদিকে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার জন্য অগণিত মুসলিম আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকবেন। ২৪ মে চাঁদ দেখা না গেলে পরদিন ২৫ মে ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে। ঈদের দিন আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে সবাই ঈদগাহ ময়দানে শামিল হওয়ার কথা থাকলেও এবারই বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে সে সুযোগ থাকছে না।

এবারেই ঈদের নামাজ পড়তে যাওয়া মুসল্লিদের মানতে হবে বিভিন্ন নিয়ম-কানুন। মসজিদে নামাজ আদায় বিষয়ে সরকারের দেয়া ১২টি শর্তের মধ্যে প্রথমটি হলো মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। ঈদের নামাজসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন। মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা সাবান-পানিসহ হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং আগত মুসল্লিদের অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে অজু করে সুন্নত নামাজ আদায় করে মসজিদে আসতে হবে।

অজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। কাতারে নামাজে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব অর্থাৎ তিন ফুট পর পর দাঁড়াতে হবে। এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে। শিশু, বয়োবৃদ্ধ, যে কোনো অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি জামাতে অংশ নিতে পারবেন না। সংক্রমণ রোধ নিশ্চিতকল্পে মসজিদের অজুখানায় সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না।

অন্যদিকে যারা এক মাস রোজা রেখে অভুক্ত থাকার কষ্টকে অনুভব করেছেন, নামাজ, তারাবিহ, ইবাদত-বন্দেগি ও ইসলামের অনুশাসন পালন করেছেন, তাদের জন্য এই ঈদ আনন্দ বেশি উপভোগের, উচ্ছ্বাসের ও শান্তির। তাদের জন্য মহান রাব্বুল আলামিনের এক মহাপুরস্কার হচ্ছে ঈদ। এবার ঈদে যাওয়া হবে না একে অন্যের বাড়িতে। সমাগম হবে না ঈদের দিন।

আত্মীয়স্বজনরা আসবে না নিকটাত্মীয়কে দেখতে। খাওয়া হবে না সেমাই বা মিষ্টি, ফাইসসহ অন্যান্য জিনিস। শুধু নিজ বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদ ভাগাভাগি হবে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের। এদিকে করোনার কারণে সরকার প্রথমে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে।

পরে আরো সাত দফায় ছুটি বাড়িয়ে ৩০ মে পর্যন্ত করা হয়েছে। কিন্তু দেশে এখনো করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি নেই, বরং দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। তবে অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় ইতোমধ্যে জরুরি সেবা সংশ্লিষ্ট সরকারি অফিস সীমিত পরিসরে খুলে দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মানা সাপেক্ষে দোকান, শপিং মল, কারখানা, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিসহ অন্যান্য শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সীমিত আকারে খুলে দেয়া হয়েছে। তবে বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন। তবে এর আগের ছুটি বাড়ানোর নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, ঈদের সময়ে আন্তঃজেলা পরিবহন বা দূরপাল্লার কোনো যানবাহন চালাচল করবে না। এ ছাড়া ঈদের ছুটিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

অপরদিকে পবিত্র কোরআনের বর্ণনা মতে, এক মাস রোজা রাখার পর মুসলমানরা যখন নতুন পাজামা-পাঞ্জাবি তথা পছন্দের পোশাক পরে, দেহে আতর-খুশবু মেখে ঈদগাহে যান, তখন ফেরেশতারা তাদের সংবর্ধনা জানান। স্বর্গীয় সব বাণীতে তাদের অভিনন্দিত করা হয়।

ঈদুল ফিতর মুসলিম উম্মাহর জন্য এক সর্বজনীন ধর্মীয় উৎসব তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ধনী-দরিদ্র, ছোট-বড়, শাসক-শাসিত ও আবালবৃদ্ধবণিতা সবার জন্য ঈদের আনন্দ যেন সমান ও ব্যাপক হয়, ইসলামে সেই ব্যবস্থা রয়েছে। পবিত্র রমজানে বিত্তবানরা এগিয়ে এলে এবং দান-খয়রাত করলে, জাকাত ও ফিতরা প্রদান করলে দরিদ্ররা ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে পারবে বেশি।

তাদের মুখেও হাসি ফুটবে এবং ঈদের ভোর আসবে তাদের জন্য আনন্দবার্তা নিয়ে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ঈদের খুতবায় দান-খয়রাতকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করতেন।

এর আগে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সংক্রমণ ঠেকাতে দীর্ঘদিন জামাতে নামাজ আদায় করতে পারেননি তারা। সরকার অনুমতি দেয়ার পর সম্প্রতি তারাবিসহ ৫ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে জামাতে আদায় করেন করেন মুসল্লিরা। এর আগে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবজনিত কারণে সারা দেশে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় গত ৪ ও ২৩ এপ্রিল বিজ্ঞপ্তি জারি করে।

তাতে মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমা এবং রমজান মাসের তারাবির জামাত সীমিত আকারে আদায়ের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়। এরপর দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামারা পবিত্র রমজান মাসের গুরুত্ব বিবেচনা করে মসজিদে নামাজ আদায়ের শর্ত শিথিল করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানান। তারই পরিপ্রেক্ষিতে মসজিদে জামাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার অনুমতি দেয় সরকার।





এই বিভাগের আরো সংবাদ




Leave a Reply

%d bloggers like this: