আজ: মঙ্গলবার | ২৬ অক্টোবর, ২০২১ | ১০ কার্তিক, ১৪২৮ | ১৯ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ | দুপুর ১:৪৬

সংবাদ দেখার জন্য ধন্যবাদ

Home » সারাদেশ » চট্টগ্রাম বিভাগ » কুমিল্লা » কুমিল্লায় কাভার্ডভ্যানচাপায় নিহত ২

মোগল স্থাপত্যে হাজীগঞ্জ দূর্গ

০২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ | ১২:২০ অপরাহ্ণ | বাংলাদেশ বার্তা | 61130 Views

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো ঐত্যিহাসিক হাজীগঞ্জ কেল্লার স্থানটি সামনে দাঁড়াতেই বুকটা কেমন যেন ধর করে উঠল। অদ্ভুত সুন্দর বিশাল এক কেল্লা। একটু শিহরনও জাগল ভেতরে এই ভেবে, এ বিশাল কেল্লাটি তৈরী করা হয়েছিল যুদ্ধের জন্য। ১৫৮০ খ্রিষ্টাব্দে মোগল শাসক ঈশা খাঁ মগ ও পতুর্গিজ জলদস্যুদের কাল থেকে এ জল পথকে রক্ষা করার জন্য শীতলক্ষ্যা, ব্রহ্মাপুত্র, মেঘনা নদীর মিলন স্থলে কেল্লাটি নির্মাণ করেন। এখানে দিনের পর দিন না জানি কতযুদ্ধ হয়েছে। সুগঠিত এ কেল্লার নাম খিজিরপুর দূর্গ বা বর্তমান হাজীগঞ্জের দূর্গ বা কেল্লা নামে বেশি পরিচিত। ১৭০০ শতাব্দি বা তার ও আগে নির্মিত এ দূর্গের হাফেজ মঞ্জিল নামক একটি প্রাসাদ ও উদ্যান নির্মাণ করেছিলেন এমন জনশ্রুতিও আছে। সময়ের ব্যবধানে এক সময়ের রক্তহিম করা নাম খিজিরপুর (হাজীগঞ্জ) দূর্গ এখন এক নীরব নিস্তব্দ পুরাকীর্তি। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর ক্রমেই ক্ষয়ে পড়া এ দূর্গের অভ্যন্ত এখন ব্যবহৃত হয় গৃহপালিত পশুর চারণ ভূমি অথবা শিশু-কিশোরদের খেলার সঠিক স্থপতির নাম তেন পরিস্কার ভাবে কোথাও নেই। তবে ধারনা করা হয় সম্ভবত সুবেদার ইসলাম খানের সঙ্গে সংঘর্ষকালীন ঈশা খাঁ এ দূর্গ নির্মাণ করেছিলেন। তার মৃত্যুর পর রাজধানী সোনার গাঁয়ের নিরাপত্তার জন্য মীর জুমলা অধিকাংশ সময় অবস্থান করতেন এ কেল্লায়। প্রায় দুই কিলোমিটার জায়গা নিয়ে বিস্তৃত এ খিজির পুর (হাজীগঞ্জ) দূর্গ। চারপাশে আবদ্ধ এ কেল্লাটি দৈর্ঘ্য পূর্ব-পশ্চিে ২৫০ ফুট এবং উত্তর-দক্ষিণে ২০০ ফুট। একটি সু-উচ্চ প্রধান ফটক রয়েছে দূর্গের পূর্ব দিকে, রয়েছে কয়েকটি গোপন দরজা কেল্লার বিভিন্ন দিকে। দূর্গ জুড়ে রয়েছে আত্মরক্ষঅর জন্য মাটির উঁচু বাঁক, যার মাঝে রয়েছে ছোট ছোট ফাঁকা জায়গা। সেখানে অস্ত্র রেখে মোকাবিলা করা হতো শত্রুদের। দূর্গের মাঝে পুরোটাই ফাঁকা মাঠ। ধারনা করা হয় এখানে অবস্থান নেয়া সৈন্যরা এমাঠে তাবু খাটিয়ে থাকত। সেই সময়ে যেহেতু নদীপথ ছিল যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম তাই নদী পথের আক্রমন রুখতে নদীর তীরবর্তী জায়গাতেই নির্মাণ করা হয় এই দূর্গটি। এক সময়ের দোদন্ড প্রতাবপশালী মীর জুমলা খান ও অধিকাংশ সময় এ দূর্গে কাটাতেন। বিশেষ করে বর্ষার সময় তিনি খিজিরপুর (হাজীগঞ্জ) দূর্গের ভার নিজ হাতে গ্রহণ করতেন। প্রতিহত করতেন নৌ-পথে অভিযানকারী জলদস্যুদের। সময়ের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন লোক ব্যবহার করতেন এ দূগ নিরাপত্তার জন্য। আবার কখনও এখান থেকে পরিচালনা করেছেন যুদ্ধ এক সময় ঢাকার নবাবরা এটিকে ঘিরে নির্ভরযোগ্য স্থান হিসেবে হাজীগঞ্জ দূর্গটি। বহুকাল পরিত্যক্ত থাকায় জঙ্গলাকীর্ণ হয়ে পড়েছিল। একটি মহল দূর্গটি দখলের চেষ্টা করেছে। অরপ একটি অংশ চাঁনপুকুর দখর করে সেখানে প্রভাবশালীরা মিল-কারখানা গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশ প্রত্নত্তত্ব বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন এ দূর্গের চারপাশের দখল দারদের উচ্ছেদ করে দূর্গটি সংস্কারের মাধ্যমে প্রায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে এনেছে। কিন্তু দূর্গটি ভালমতো রক্ষনাবেক্ষণ দূর্গের চারপাশে আগের মতে সংস্কার করলে চিত্রটি ফুটে উঠবে। না হলে এভাবে চলতে থাকলে আগামী ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে রূপকথা গল্প কলে প্রতীয়মান হবে।



Comment Heare

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this: