আজ: শুক্রবার | ১৪ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২৪শে জিলহজ, ১৪৪১ হিজরি | বিকাল ৫:৩৮
বন্দর

রাজধানীর নিম্নাঞ্চলে বানের পানি

বাংলাদেশ বার্তা | ০১ আগস্ট, ২০২০ | ৮:৫২ পূর্বাহ্ণ

উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের পর এবার ঢাকার নিম্নাঞ্চলগুলো বানের পানিতে ভাসছে। কয়েক দিন ধরেই বালু নদে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজানের ঢলে আসা পানিতে তলিয়ে গেছে এ নদের তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল, রাস্তা, ফসলের ক্ষেত ও বেশ কিছু বাড়ির আঙিনা। নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ বাড়িঘরেও প্রবেশ করেছে পানি। ফলে বালু নদতীরবর্তী মানুষের নিত্যদিনের ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুণ। সড়কপথ পানির নিচে থাকায় নিম্নাঞ্চলের মানুষের এখন একমাত্র বাহন হয়েছে নৌকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আরও এক সপ্তাহ স্থায়ী থাকবে এই বানের পানি। জলবদ্ধতার সঙ্গে কাটবে এ অঞ্চলের মানুষের। সরেজমিন দেখা গেছে, রাজধানীর ডেমরা থানাধীন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের নলছাটা, দুর্গাপুর, তাম্বুরাবাদ, ধিৎপুর, খলাপাড়া, ঠুলঠুলিয়া, আমুলিয়া-মেন্দিপুর এলাকার নিম্নাঞ্চগুলো বালু নদের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। নলছাটার কিছু বাড়িঘরে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। খিলগাঁও থানাধীন ডিএসসিসির ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোর মধ্যে ইদারকান্দি, ফকিরখালি, দাসেরকান্দি, গজাইরাপাড়া ও বাবুর জায়গা এলাকাগুলোর রাস্তাঘাট ও নিম্নাঞ্চল অনেকটা পানির নিচে চলে গেছে। ওয়ার্ডের নিম্নাঞ্চলের অন্তত ৩ কিলোমিটার রাস্তা তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি হয়েছে। এ ছাড়া ওয়ার্ডের ত্রিমোহনী, লায়নহাটি, নাগদারপাড়, নাসিরাবাদসহ অধিকাংশ এলাকার নিম্নাঞ্চল ও বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে। ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডটিতে দেড় শতাধিক বাড়িঘরে প্রবেশ করেছে বানের পানি। এ ওয়ার্ডটির অভ্যন্তরীণ খালগুলো বালু নদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ। বিশেষ করে বালু নদ থেকে নড়াই নদী হয়ে অভ্যন্তরীণ সংযোগ খালের মাধ্যমে সহজেই ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের নিম্নাঞ্চলে বানের পানি ছড়িয়ে পড়ে। সরেজমিন দেখা গেছে, ডিএসসিসির ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণগাঁও, ভাইগদিয়া ও মানিকদিয়া খালের তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলো তলিয়ে গেছে। ওই ওয়ার্ডের বেগুনবাড়ী এলাকা ও আশপাশের নিম্নাঞ্চলও তলিয়ে গেছে। খালতীরবর্তী অধিকাংশ বাড়িঘরেও প্রবেশ করেছে বানের পানি। ডিএসসিসির ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের মান্ডা, কদমতলী ঝিলপাড়া ও উত্তর মান্ডা এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অভ্যন্তরীণ খালের মাধ্যমে বালু নদের পানি ওই এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। আর খালতীরবর্তী অধিকাংশ বাড়িতেই পানি প্রবেশ করেছে। এ ছাড়া ডিএসসিসির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মুগদাপাড়া খাল এলাকার নিম্নাঞ্চলেও বন্যার পানি ছড়িয়ে পড়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জমান ভূইয়া বলেন, চলমান বন্যা পরিস্থিতি জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ক্রমান্বয়ে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। ঢাকার আশপাশের ডেমরা ও নারায়ণগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর বয়ে চলায় নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি এক সপ্তাহ দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে জানান তিনি। এদিকে নগরীর সবুজবাগ, বাড্ডা, বেরাইদ, ডুমনি, সাঁতারকূল, দক্ষিণখান, টঙ্গী, গাজীপুর জেলার সদর উপজেলার পূর্ব দিক ও কাপাশিয়া এবং কালীগঞ্জ উপজেলা এলাকার দিকে প্রবাহিত বালু নদের তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলোও প্লাবিত হয়েছে। তা ছাড়া বালু নদতীরবর্তী নগরীর বিভিন্ন এলাকায় শাখা নদের সংযোগ ও ছোট বড় সংযোগ খালেও বানের পানি প্রবেশ করেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বন্যার প্লাবিত হলেও অধিবাসীরা সরকারি কোনো সহযোগিতা পাচ্ছেন না। নিম্নাঞ্চলগুলোয় মানুষের বর্জ্য ও বানের পানি মিশে একাকার হয়ে গেছে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে পানিবাহিত নানা রোগবালাই। তবে নিয়ন্ত্রণহীন পানি বৃদ্ধির পরিস্থিতি বজায় থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। নিম্নাঞ্চলগুলোয় শুধু নৌকায় চলাচল করতে হচ্ছে। এলাকার গরু বাছুর ও হাঁস-মুরগি নিয়ে উঁচু অঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছে। ফকিরখালি এলাকার বাসিন্দা মো. আওলাদ হোসেন বলেন, বালু নদের পানি এ বছর বিপদসীমার ওপরে উঠে গেছে কয়েক দিন আগেই। ঘরবাড়ি ছেড়ে মানুষ গবাদিপশুসহ উঁচু স্থানে ঠাঁই নিচ্ছে। অনেকে অভ্যন্তরীণ খালের ব্রিজের ওপরও আবাস গেড়েছে। এলাকার মানুষ এখনে পর্যন্ত কোনো সরকারি সহযোগিতা পায়নি। এ বিষয়ে ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আকবর হোসেন বলেন, নাসিরাবাদসহ বালু নদতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ বাসিন্দাই কম আয়ের বা দরিদ্র শ্রেণির। এসব এলাকার মানুষ অনেকটা কৃষিনির্ভর। এসব এলাকা প্লাবিত হওয়ায় তারা বর্তমানে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। সবাই অর্থ কষ্টের মধ্যে খেয়ে না খেয়ে দিনাযাপন করছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারি সহযোগিতা খুবই প্রয়োজন।





এই বিভাগের আরো সংবাদ




Leave a Reply

%d bloggers like this: