আজ: শনিবার | ৮ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৮ই জিলহজ, ১৪৪১ হিজরি | রাত ১২:৩৩
সাহিত্য

রূপগঞ্জে দুই যুগ পর কমিটি নিয়ে সরব ছাত্রদল

বাংলাদেশ বার্তা | ১৩ জুলাই, ২০২০ | ৯:০২ পূর্বাহ্ণ

নারায়ণঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় প্রায় দুই যুগ পর ছাত্রদলের কমিটি গঠন নিয়ে সরব হয়ে উঠেছে স্থানীয় ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ। তিন বলয়ে বিভক্ত উপজেলা বিএনপির প্রত্যেকটি আলাদা বলয়ে রয়েছে নিজস্ব প্রার্থী। রয়েছে বিভক্তির বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী। আহ্বায়ক কমিটিতে স্থান পেতে প্রার্থীদের শুরু হয়েছে দৌড়ঝাপ। পাশাপাশি যুগ্ম আহ্বায়ক, সদস্য সচিব আর দুটি পৌরসভাসহ সরকারি মুড়াপাড়া কলেজের কমিটিতে জায়গা পেতে প্রার্থীদের চলছে তদবির লবিং আর মাঠ গোছানোর কাজ।

জানা যায়, ১৯৯৫ সালে আনোয়ার সাদাত সায়েমকে সভাপতি ও আশরাফুল হক রিপনকে সাধারণ সম্পাদক করে রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। ২০০২ সালে একটি মাত্র পদে রদবদলের মাধ্যমে ঘয়োরাভাবে একই কমিটি পুনরায় পুর্নগঠন করা হয়। এদিকে ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাড. তৈমুর আলম খন্দকার, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপুর আলাদা বলয় তৈরি হয়। অদ্যবধি তিন ধারায় বিভক্ত উপজেলা বিএনপিসহ ছাত্রদল, যুবদল, সেচ্ছাসেবকদলসহ সকল অঙ্গ সংগঠন। ২০১৪ সালে কমিটি গঠনের আশ^াসে ভেঙ্গে দেয়া হয় ১৯৯৫ সালে গঠিত উপজেলা ছাত্রদল কমিটি। এরপর থেকে আলাদা বলয়ে আবু মোহাম্মদ মাছুৃম, আজিম সরকার, সুলতান মাহমুদ, ওমর হোসেন, ঈসমাইল হোসেন মামুন, নাহিদ হোসেন ভূইয়া, মাসুদুর রহমান মাসুদসহ অনেকেই ত্রি-বলয়ে চালাচ্ছেন উপজেলা ছাত্রদলের রাজনীতি। কিন্ত কমিটি গঠন না হওয়ায় তাদের অনেকেই বয়সের কারণে অযোগ্য হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় জেলা ছাত্রদল, রূপগঞ্জ উপজেলা, কাঞ্চন ও তারাবো পৌরসভা ও সরকারী মুড়াপাড়া কলেজ শাখায় আহবায়ক কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়। এ কারণে নতুন করে শুরু হয়েছে প্রার্থীদের দৌড়ঝাপ। পদপ্রত্যাশী প্রার্থীরা নিজেদের বলয়ে উপজেলা বিএনপির নেতাকে ঘিরে পদের জন্য তদবির লবিং শুরু করেছেন। রয়েছে জেলা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতাদের কাছে দৌড়ঝাপ আর মাঠ গোছাতেও রয়েছে তাদের জোরালো ভূমিকা। অপরদিকে, পদপ্রত্যাশী সকল ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের রয়েছে রাজনীতির কারণে কম বেশি মামলা হামলা আর জেলে যাবার ঘটনা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা ছাত্রদলের অন্যতম বলয় জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান বলয়ে আবু মোহাম্মদ মাছুম ও আজিম সরকার বয়সের কারনে প্রার্থী হতে না পারায় যোগ্যতার বলে সুলতান মাহমুদকে উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক ও আকিব হাসান আকিবকে সরকারি মুড়াপাড়া কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক হিসেবে প্রার্থী করেছেন তারা। একই বলয়ে রয়েছে পৌর আহবায়ক প্রার্থীসহ একাধিক যুগ্ম আহবায়ক ও সদস্য সচিব প্রার্থী। উপজেলা বিএনপির অন্যতম বলয় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপুর বলয় থেকে ওমর হোসেন বয়সের কারণে এবং ইসমাইল হোসেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে থাকায় আহবায়ক পদের জন্য নাহিদ হাসান ভূইয়া, যুগ্ম আহবায়ক পদে শরিফ হোসেন, মুড়াপাড়া সরকারি বিশ^বিদ্যালয় কলেজ শাখায় আহবায়ক পদে শাওন শাকিল, কাঞ্চন পৌরসভা আহবায়ক পদে ফারহান আহমেদ সুজনসহ আরো কয়েকজন বিভিন্ন পদে প্রার্থী হয়েছেন। বিএনপি পরিবারের সন্তান নাহিদ হাসান ভূইয়া ছাত্রদলের রাজনীতি করে বিগত সময়ে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক মামলা ও হামলার শিকার হয়েছেন। শরিফ হোসেনের রয়েছে অন্তত ৯টি রাজনৈতিক মামলা। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিআরটিসির সাবেক চেয়ারম্যান এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার বলয় থেকে উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক পদে প্রার্থী হয়েছেন মাসুদুর রহমান মাসুদ। মাসুদও ছাত্রদলের রাজনীতি করে হামলা মামলা আর জেলে থাকার শিকার হয়েছেন। তিন বলয় ছাড়াও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনির আত্মীয় মেহেদী হাসান মিঠু উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক পদে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন।

প্রত্যেক বলয়ের সকল প্রার্থীর রয়েছে আলাদা যোগ্যতা ও উপজেলা ছাত্রদলের রাজনীতিতে অবদান। বিচার বিবেচনায় যাদেরকেই পদায়ন করা হয় না কেন সকলেই উপজেলা ছাত্রদলে যোগ্য প্রার্থী। তবে ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে ক্লিন ইমেজ, দলের জন্য ত্যাগ, বিনয়ী আর অবিবাহিত প্রার্থীদের আশা করছেন স্থানীয় ছাত্রদলের সাধারন কর্মীরা। দির্ঘ ২৪ বছর পর কমিটি গঠন নিয়ে যে উচ্ছাস তৈরি হয়েছে, ভুল লোককে পদ দিলে অন্তঃকোন্দল প্রকাশ্যে রূপ ধারন করে তা সংঘাতে ধাবিত হতে পারে। তাই সকল যোগ্যতা বিবেচনায় নতুন আহবায়কসহ অন্যান্য পদে সঠিক ব্যক্তিগণকে মূল্যায়নের আশা করছেন স্থানীয় ছাত্রদলকর্মীরা।





এই বিভাগের আরো সংবাদ




Leave a Reply

%d bloggers like this: