আজ: বৃহস্পতিবার | ৫ আগস্ট, ২০২১ | ২১ শ্রাবণ, ১৪২৮ | ২৫ জিলহজ, ১৪৪২ | সকাল ৮:৩৮

সংবাদ দেখার জন্য ধন্যবাদ

Home » আন্তর্জাতিক » ওমান সাগরে ৪ জাহাজ ছিনতাই

সরকারের ডিপার্টমেন্ট গুলো কি করছিলো

১৩ জুলাই, ২০২১ | ৫:০৩ অপরাহ্ণ | বাংলাদেশ বার্তা | 135 Views

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কোম্পানিতে আগুন লেগে ৫২ জন নিহত হওয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ।

মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে তারা এ পরিদর্শনে আসেন। এসময় তারা কারখানার শ্রমিকদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন ও নিহতদের পরিবারের প্রতি সমাবেদনা জ্ঞ্যপন করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- কেন্দ্রীয় বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সমাজ কল্যান বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এড তৈমুর আলম খন্দকার, ঢাকা বিভাগিয় বিএনপি’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এড. আবদুস সালাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব এড. মামুন মাহমুদসহ অনেকে।

পরিদর্শন কালে নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমি তাদের প্রতি শ্রদ্দা জানাই যারা এই যায়গায় ব্যবস্থাপনার ভুলের কারনে অকালে যাদের অকালে জিবন দিতে হয়েছে। এই কারখানায় যে পন্য উৎপাদন হতো সেটার দেশ বিদেশে অনেক সুনাম ছিলো, কিন্তু এই পন্যটা যেখানে তৈরি হতো তার মান একদম ভালো ছিলো না। একটি ভালো কারখানার পরিবেশ যেমন থাকার কথা তার কোন কিছুই এখানে নেই। এখনো আমরা কারখানার জানালা দিয়ে ধোয়া বের হতে দেখছি। এখানে সবচেয়ে মরর্মান্তিক বিষয়টি হলো এখানে অনেক শিশু কাজ করতো। যা দেশের আইনে একটি দন্ডনিয় অপরাধ। আমাদের সরকার দাবি করে আমরা অনেক উন্নয়ন করেছি, যদি সরকার উন্নয়ন করে তাহলে কারখানায় এত শিশু কাজ করছে কেনো।

তিনি আরও বলেন, এ দেশে আইনের ত্রুটি আছে তাতে সন্দেহ নাই, কিন্তু যে টুকু আইন আছে তা বাস্তবায়নে সরকারের এত অনিহা এর প্রতি আমরা নিন্দা জানাই। যদি যথাযথ ভাবে সরকারের তদন্ত প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থা নিতো তাহলে এরকোম পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না। গার্মেনটস মালিকের প্রতি আমরা নিন্দা জানাই, তার থেকে বেশি নিন্দা জানাই আমরা এ দেশের সরকারে প্রতি। কেননা এ বিষয় গুলো দেখার জন্য সরকারের এত গুলো ডিপার্টমেন্ট আছে তারা কি করছিলো। যথা সময়ে তারা তাদের দায়িত্ব পালন করে নাই বলে, আজ ৫২টা প্রান ঝরে গেলো। রানা প্লাজার শ্রমিকদের যে ভাবে ক্ষতি পুরণ দেয়া হয়েছে, সেভাবেই এই হাসেম ফুড এর শ্রমিকদের ও ক্ষতি পুরণ দেয়া হোক। আমরাও চেষ্টা করবো নিহত এবং আহতদের পাশে আমাদের সামর্থ অনুযায়ি দাড়ানোর। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এই দায়িত্ব মুলত সরকারের ও মালিকের।

‘দেশে আরও অনেক কারখানার এ অবস্থা’ জানিয়ে তিনি বলেন, সেই সকল কারখানায় লাখ লাখ মানুষ জিবনের ঝুকি নিয়ে কাজ করছে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সরকারের প্রতি দাবি জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য, হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের সেজান জুস কারখানায় বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৫টায় আগুনের সূত্রপাত হয়। ওই সময় কারখানা ভবনটিতে প্রায় চারশ’র বেশি কর্মী কাজ করছিলেন। কারখানায় প্লাস্টিক, কাগজসহ মোড়কিকরণের প্রচুর সরঞ্জাম থাকায় আগুন মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে। প্রচুর পরিমাণ দাহ্য পদার্থ থাকায় কয়েকটি ফ্লোরের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিটের দীর্ঘ সময় লাগে।

আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার পর শুক্রবার (৯ জুলাই) দুপুর সোয়া একটা পর থেকে কারখানার ভেতরে থেকে লাশ বের করে আনতে থাকেন উদ্ধারকর্মীরা। এসময় ৪৯টি লাশ উদ্ধার করা হয়। এরআগে, আগুনে নিহত তিন জনের লাশসহ মোট ৫২ জনের লাশ উদ্ধার হয়। কারখানায় আগুনের ঘটনায় আরও অনেক শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি করেছেন স্বজনরা। ঘটনার তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কমিটি গঠন করা হয়েছে।



Comment Heare

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this: