আজ: মঙ্গলবার | ১৩ এপ্রিল, ২০২১ | ৩০ চৈত্র, ১৪২৭ | ৩০ শাবান, ১৪৪২ | সকাল ৭:২০

সংবাদ দেখার জন্য ধন্যবাদ

Home » জাতীয় » মিতা হকের মৃত্যু শোকাহত রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী

সালথায় সংঘর্ষে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ

০৬ এপ্রিল, ২০২১ | ৩:৩৫ অপরাহ্ণ | বাংলাদেশ বার্তা | 206 Views

করোনা মোকাবিলায় বিধিনিষেধ কার্যকর করতে গিয়ে ফরিদপুরের সালথায় মানুষজনকে পেটানো হয়েছে এমন অভিযোগে সোমবার রাতে উপজেলা পরিষদ, থানা ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়সহ বিভিন্ন অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছেন স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েক দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে গোটা এলাকায়।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় জুবায়ের (২২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত জুবায়ের রামকান্তপুর ইউনিয়নের মৃত আশরাফ আলীর ছেলে। এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলীমুজ্জামান বলেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে মরদেহটি উদ্ধার করা যায়নি। মরদেহটি পরিবারের কাছে আছে বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে।

সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। 

সোমবার বিকেলে উপজেলা সদর থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরের ফুকরা বাজার থেকে ঘটনার সূত্রপাত। স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, করোনাকালের বিধিনিষেধ কার্যকর করতে দুই আনসার সদস্য ও ব্যক্তিগত সহকারীকে নিয়ে এসি ল্যান্ড মারুফা সুলতানা ফুকরা বাজারে যান। সে সময় চা পান করতে আসা জাকির হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে লাঠিপেটা করা হয়েছিল বলে স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ। এই ঘটনার জেরে পরে ফুকরা বাজারে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গুজব ছড়িয়ে পড়ে, পুলিশের গুলিতে দুজন নিহত হয়েছেন। এমন গুজবে শত শত মানুষ গিয়ে থানা ও উপজেলা কমপ্লেক্স ঘেরাও করেন।

পুলিশের ভাষ্য, সোমবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সালথায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চলে। সংঘর্ষের ঘটনায় ৭ পুলিশ সদস্যসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ও আনসার সদস্যরা শটগানের ৫৮৮টি গুলি ও ৩২টি কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের গ্যারেজে থাকা দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আলিমুজ্জামান বলেন, লকডাউনের প্রথম দিনে সরকারি নির্দেশনা পালন করতে গিয়ে স্থানীয় জনতার সঙ্গে কর্মকর্তাদের ভুল বোঝাবুঝি হয়। তর্কে-বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে উপজেলা পরিষদ, থানা ও উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবনসহ বিভিন্ন অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার্থে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসিল্যান্ড মারুফা সুলতানা হীরামনি বলেন, লকডাউন কার্যকর হচ্ছে কি না সেটি দেখার জন্য ফুকরা বাজারে যাই। এরপর তারা আমার গাড়ি ধাওয়া করলে আমি বিষয়টি থানা পুলিশকে জানাই। এরপর স্থানীয়রা থানা ঘেরাও করে তাণ্ডব চালায়। তবে তার কোনও সহকর্মী কাউকে আঘাত করেনি বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় একজন হুজুরকে মেরে ফেলা হয়েছে এই গুজব ছড়িয়ে গ্রামবাসীকে একত্রিত করে এই হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়।

সালথা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, এটি পুলিশের সঙ্গে হামলাকারীদের সংঘর্ষ। এখানে সরকারি কোনো কর্মকর্তা জড়িত নন।

সংঘর্ষ থামার পর ফরিদপুর ও সালথার ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও গোটা উপজেলা চত্বর জুড়ে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা টহল দিচ্ছেন।



Comment Heare

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this: