আজ: শুক্রবার | ৫ মার্চ, ২০২১ | ২০ ফাল্গুন, ১৪২৭ | ২০ রজব, ১৪৪২ | দুপুর ১:১৫

সংবাদ দেখার জন্য ধন্যবাদ

Home » আইন আদালত » না’গঞ্জের বার ভবন পরিদর্শনে উপ-সচিব

সিদ্ধিরগঞ্জে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানা হচ্ছেনা নিয়মনীতি

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ | ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ | বাংলাদেশ বার্তা | 183 Views

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি

সিদ্ধিরগঞ্জে এম এ হাশেম ইয়াতুননেছা ফাউন্ডেশনের পৃষ্টপোষকতায় ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিনের সার্বিক তত্তাবধানে পরিচালিত বীর মুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন সিটি স্কুলে সরকারি নিয়মনীতি না মেনেই চলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে পাঠদান ও পরীক্ষা। গতকাল শনিবার দুপুর সাড়ে বারটা থেকে দেড়টা পর্যন্ত সরেজমিনে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি কান্দাপাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন সিটি স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলটির প্রধান ফটকে জাতীয় পতাকা উড়ছে। প্রতিটি শ্রেনী কক্ষের দরজা বন্ধ। ক্লাস রুমের দরজা খুলতেই দেখা গেল স্যারেরা দাড়িয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই ক্লাস করাচ্ছেন। অস্টম ও নবম শ্রেনীর ছাত্র ছাত্রীদের চারটি শ্রেনী কক্ষে প্রায় শতাধীক শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। এ সময় শ্রেনী কক্ষে গিয়ে কথা হয়, নবম শ্রেনীর শিক্ষাথী মোহনা আক্তারের সাথে তিনি বলেন, আমরা প্রতি সপ্তাহে আমাদের স্কুলে এসে তিন দিন ক্লাস করে যাই। করোনাকালে আমরা ক্লাসে উপস্থিত না থাকার ফলে লেখাপড়ায় অনেক পিছিয়ে পড়েছি। এতে আমাদের শ্ক্ষিররা দায়িত্ব নিয়ে আমাদের ক্লাসের সুয্গো করে দিয়েছেন। একই ক্লাসের শিক্ষাথী মোজাম্মেল হক জানান, আমাদের লেখাপড়ার মান উন্নয়ণের লক্ষে স্যারেরা ক্লাস ও পরীক্ষা নেয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। এতে আমাদের লেখা পড়ার মান উন্নয়ন হবে। যাতে আগামী এস এসসি পরীক্ষায় ফলাফল ভালো করতে পারি সেদিকে লক্ষ রেখেই তারা এ ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছেন। দশম শ্রেনীর শিক্ষাথী জোনায়েদ হোসেন জানান, সামনে আমাদের এস এসসি পরীক্ষা সে দিকে খেয়াল রেখে পরীক্ষা ও ক্লাসের তাগিদ দিয়েছেন স্কুলের স্যার ও মেডামরা।  কথা হয় ওই প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষিকা বীথি ভৌমিকের সাথে তিনি জানান, করোনার কারনে বাচাদের পড়ালেখা একেবারেই বন্ধের পথে। প্রতি শনিবার তাদের প্রতিষ্ঠানে এনে পরীক্ষা ও এসাইনমেন্ট করিয়ে থাকি আমরা। তাছাড়া ভয়াল এই করোনায় আমাদের শিক্ষকদের কি হাল হয়েছে তাতো বলার অপেক্ষা রাখে না। স্কুলটির প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক রানার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, করোনার সময় শিক্ষকরা যে কি কষ্টে দিনাতিপাত করেছেন তা শুধু তারাই জানে। আমাদের নতুন প্রতিষ্ঠান, নতুন চ্যালেঞ্জ। বাচ্চাদের শতভাগ পাশ করাতেই হবে। সরকারি নিয়মনীতির ব্যাঘাত করছে কিনা জানতে চাইলে তিনি অকপটে স্বীকার করে বলেন, আমরা এস্যাইনমেন্ট ও পরীক্ষার জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাসে এনে পড়া সম্পন্ন করছি। নিউজটি না করার জন্যও অনুরোধ করেন এই প্রতিবেদকের কাছে। বিদ্যালয়টির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ইকবাল হোসেন কালের কন্ঠকে জানান, আমরা সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি মেনেই স্কুলটি পরিচালনা করছি। অনলাইন ও এসাইমেন্ট জমা নেয়ার জন্য বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এম এ হাশেম ইয়াতুননেছা ফাউন্ডেশনের পৃষ্টপোষক ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন জানান, সরকারি নিয়ম অনযায়ী স্কুল সম্পন্নরুপে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রাখা হয়েছে। শুধু মাত্র প্রতি শনিবার শিক্ষাথীদের কাছ থেকে এস্যাইমেন্ট নেওয়া হচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রীরা এসাইমেন্ট জমা দিতেই আসেন স্কুলটিতে। তিনি আরো বলেন, বিষয়টি খবর নিয়ে দেখছি। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মুস্তাইম বিল্লাহ জানান, সরকারি নীতি অমান্য করে কোন স্কুলে পরীক্ষা ও ক্লাস নেওয়া কোন সুযোগ নাই। কেউ নীতিমালা অমান্য করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালালে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।



Comment Heare

Leave a Reply

Top