আজ: রবিবার | ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১০ই সফর, ১৪৪২ হিজরি | দুপুর ১:১৩
শিক্ষা

সিনহা হত্যা মামলা পরতে পরতে সাক্ষী

বাংলাদেশ বার্তা | ২৬ আগস্ট, ২০২০ | ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় টেকনাফ থানার বহিষ্কৃত ওসি প্রদীপ পরিদর্শক লিয়াকতসহ ১০ আসামিকে ফের মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। রিমান্ডে আগে প্রাপ্ত তথ্যপ্রমাণ মিলিয়ে দেখছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যেই অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলছে

কিন্তু হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত ছিল কিনা পেছনের কারণ কিএই দুটো প্রশ্নের উত্তর শতভাগ নিশ্চিত হতে চাইছেন আলোচিত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। যদিও ঘটনায় প্রতিটি ধাপে সাক্ষী বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজ মিলেছে। অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্যও হাতে রয়েছে। আর নীলিমা রিসোর্ট থেকেই উদ্ধার করা ল্যাপটপ মোবাইল ফোনসহ ২৯টি ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট ্যাব কর্মকর্তারা

এদিকে দেশে তোলপাড় করা সিনহার রাশেদ হত্যা মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরী শুরু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত উচ্চ পর্যায়ের অনুসন্ধান কমিটি। ইতোমধ্যেই ৬৭ জন প্রত্যক্ষ পরোক্ষ সাক্ষীর বক্তব্য নেয়া কমিটি দুইএক দিন পর নিবে টেননাফ থানায় সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাসের সাক্ষী। ্যাবের হাতে রিমান্ডে থাকা প্রদীপের বক্তব্য নেয়ার পরপরই শিগগিরই মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দিবে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বাধীন ওই কমিটি

এদিকে কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়ায় মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার আসামি পুলিশের দায়ের করা মামলার তিন সাক্ষীকে গতকাল ফের চার দিন করে রিমান্ডে নিয়েছে ্যাব। এরা হলেননুরুল আমিন, নিজাম উদ্দীন মোহাম্মদ আইয়াছ উদ্দিন। এরা তিনজনই পুলিশের সোর্স বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। আগ থেকেই ্যাবের কাছে রিমান্ডে রয়েছেন টেকনাফ থানার বহিষ্কৃৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাস, প্রধান অভিযুক্ত পরিদর্শক লিয়াকত আলী, এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত চার পুলিশ কনস্টেবল। প্রথম দফা রিমান্ড শেষে সোমবার তাদের দ্বিতীয় দফায় চার দিন করে রিমান্ডে নেয় ্যাব

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, গতকাল সন্ধ্যা থেকেই সব আসামিকে সামনাসামনি করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেক আসামির কাছ থেকে আগে পর্যাপ্ত তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে। তবে সিনহা যে অস্ত্র তাক কিংবা গুলি করেননি সেটি এর মধ্যেই নিশ্চিত হওয়া গেছে। একই সঙ্গে সেখানে সিগন্যাল অমান্যের ঘটনাও ঘটেনি। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার কোনো ব্যক্তিকে ধরাশায়ী করতে বুকে চারটি গুলি করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু পরিচয় জেনেও কেন করা হলোকেন হত্যাকাণ্ড ঘটল কার নির্দেশে গুলি করা হয়েছিলএগুলোই তদন্তের মুখ্য বিষয়। তবে এসব ব্যাপারে ্যাবের কাছে ইতোমধ্যেই চাঞ্চল্যকর তথ্য রয়েছে। তবে এখনই প্রকাশ করা সমীচিন নয়।
সূত্র জানায়, ঘটনাস্থল শ্যামলাপুর চেকপোস্টের পাশেই একটি বাজার মসজিদ। সেখান থেকে অনেকেই ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন। ছাড়া সিনহার সহযোগি সিফাত, তিন এপিবিএন পুলিশ সদস্য যে ট্রাকে করে কক্সাবাজার হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নেয়া হয়েছে সেই ট্রাক চালকসহ অনেকে ঘটনার সাক্ষী। বলা চলে ঘটনার পরতে পরতে সাক্ষী। সেক্ষেত্রে কোনো কিছু লুকাবার নেই। রিমান্ডে জিজ্জাসাবাদে কখনো প্রদীপ লিয়াকত একে অপরকে দোষছেন। আবার কখনো ডাকাত কাহিনীর তিন পুলিশ সোর্সের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে। এদের মধ্যে নুরুল আমিনের সঙ্গে ঘটনার পূর্বাপর লিয়াকতের বহুবার মোবাইলে কথা হয়েছে। জাতীয় সকল তথ্যপ্রমাণ এখন ্যাবের হাতে

সাক্ষী আরো দিনের রিমান্ডে: আলোচিত সিনহা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলার তিন সাক্ষীর আরো চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টায় কক্সবাজার সদর আদালত এর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তামান্না ফারাহ চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন। সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌসের করা হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ্যাবের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার খাইরুল ইসলাম তথ্য নিশ্চিত করেছেন

তিনি বলেন, শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌসের দায়ের করা হত্যা মামলার আসামি বাহারছড়া ইউনিয়নের মারিশবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা নুরুল আমিন, নিজাম উদ্দীন আয়াছ উদ্দীনের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গত ২০ আগস্ট এই তিন আসামির প্রথম দফায় সাত দিনের রিমান্ড শেষ হয়। ১১ আগস্ট মারিশবুনিয়া এলাকা থেকে তাদের আটক করে

তদন্ত কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম বলেন, এই তিন আসামিকে আগে জিজ্ঞাসাবাদে কিছু তথ্যউপাত্ত পাওয়া গেছে তাদের বক্তব্য মামলার অন্য আসামিদের বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। অধিকতর তদন্তের স্বার্থে আবারো রিমান্ডে নেয়া হয়েছে

প্রসঙ্গত, গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মারিশবুনিয়া পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার নীলিমা রিসোর্টে ফেরার পথে শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান। সময় পুলিশ সিনহার সঙ্গে থাকা সহকর্মী সিফাতকে আটক করে কারাগারে পাঠায়। পরে রিসোর্ট থেকে আরেক সহকর্মী শিপ্রাকে আটক করা হয়

পরে গত আগস্ট কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্র্রেট আদালতে হত্যা মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। এতে নয়জনকে আসামি করা হয়। আসামিরা হলেনটেকনাফের সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, পরিদর্শক লিয়াকত আলী, এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, এএসআই লিটন মিয়া, পুলিশ কনস্টেবল সাফানুর রহমান, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন, মো. মোস্তফা এসআই টুটুল। তদন্ত সংস্থা ্যাব এখন পর্যন্ত মামলায় ১৩জন আসামিকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়েছে





এই বিভাগের আরো সংবাদ




Leave a Reply

%d bloggers like this: