আজ: শুক্রবার | ৫ মার্চ, ২০২১ | ২০ ফাল্গুন, ১৪২৭ | ২০ রজব, ১৪৪২ | দুপুর ২:০৯

সংবাদ দেখার জন্য ধন্যবাদ

Home » আইন আদালত » না’গঞ্জের বার ভবন পরিদর্শনে উপ-সচিব

হারিয়ে যাচ্ছে পালকি

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ | ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ | বাংলাদেশ বার্তা | 16849 Views

কালের বিবর্তণে হারিয়ে যাচ্ছে পালকি। একটা সময় ছিল বিয়েতে পালকির বিকল্প ছিলনা। এছাড়া মেয়েরা বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুর বাড়ি অথবা শ্বশুর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি যাওয়া আসায়, গ্রামের মা বোনেরা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়া আসায় পালকি ব্যবহার করতো। এখন আর সচারাচর পালকি যেন চোখেই পরেনা। যদিও কোথাও কোথাও বর-কনে বহনে পালকির দেখা মিলছে। তবে এর পরিমান একেবারেই সমান্য। ঐতিহ্যবাহী এই পালকির ব্যবহার এখন ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। গ্রামগঞ্জের বিয়ে সাদিতে পালকি দেখতে পাওয়াটা যেন সোনার হরিণ। আধুনিকতার ছোঁয়ায় এই পালকি ও পেশার মানুষগুলো দিনদিন হারিয়ে যাচ্ছে। তার পরেও মুন্সীগঞ্জ তথা ঐতিহ্যবাহী বিক্রমপুরের লৌহজং উপজেলার কনসার এলাকার মো. ইদ্রিস আলী সরদার (৬৫) নানা প্রতিকুলতার মাঝেও ধরে রেখেছেন পালকি। তার ভান্ডারে বিভিন্ন সাইজ ও বাহারী রংয়ের ৪টি পালকি রয়েছে। বিভিন্ন বিয়ে সাদির অনুষ্ঠানে পালকি ও তার দলবল নিয়ে ভাড়ায় যাচ্ছেন। এমনটাই লক্ষ্য করা গেছে শ্রীনগরের কুকুটিয়া এলাকার একটি সড়কে ভ্যানে গাড়িতে করে পালকি নিয়ে যাচ্ছেন বিয়ে বাড়িতে। এসময় খানিকটা সময় মো. ইদ্রিস সরদারের সাথে আলপ করে জানা যায়, তিনি শ্রীনগরের বাড়ৈগাঁও এলাকার একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে বর পক্ষের বাড়িতে যাচ্ছেন পালকি নিয়ে। তিনি জানান, আগের মত পালকির ব্যবহার হয়না। এছাড়াও করোনাকালীন সময়ে বিয়ে-সাদির অনুষ্ঠান অনেকাংশেই কমে গেছে। এতে করে তাদেরও কাজকর্ম নেই বললেই চলে। বেশ কিছুদিন পরে একটি বিয়ের কাজে যাচ্ছেন তারা। পূর্ব পুরুষ সূত্রে প্রায় ৫০ বছর যাবত এই পেশায় আছেন তিনি। এ সময় বেয়ারা (পালকি বাহক) মো. হানিফ সরদার (৪৭) বলেন, এই পেশায় আগের মত তাদের ব্যস্ততা নেই। করোনাকালীন সময়ে অন্যান্য কাজকর্ম করে সংসার চালাতে হচ্ছে তার। কাজ থাকলে পালকি বাহনে দৈনিক মজুরি ও বকসিশ মিলে হাজার দেড়েক টাকা আয় করতে পারেন বলেন তিনি। অনেক পরিশ্রমের কাজ এটি। কোনও কোনও মাসে ২টা কাজ পান তিনি।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, বিয়ে সাদিতে বর ও কনের বাড়ি একই এলাকা কিংবা পাশাপাশি হলে বর-কনে বহনে পালকির ব্যবহার হয় বেশী। এছাড়া বেশীর ভাগ বিয়েতেই বর যাত্রীর কাজে প্রাইভেটকারের পাশাপাশি অন্যান্য মোটর যানের ব্যবহার বেশী করা হচ্ছে। একটি ছোট আকারের পালকি বহনে ২ থেকে ৪ জন বেয়ারার প্রয়োজন হয়। সব মিলেয়ে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে সর্বনিম্ন ৪ হাজার টাকা গোনতে হয়। এছাড়াও দূরত্ব ভেধে এর খরচা ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তার পরেও বর ও কনের পালকিতে চড়ার শখ ও আল্লাদ বলে কথা, এমন ইচ্ছা পূরণে ঐতিহ্যবাহী পালকি ছাড়া বিকল্প কিছু থাকেনা। তখনই হন্য হয়ে খুঁজতে হয় পালকি। এক সময় মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার হাট ও বাজার ও জনসমাগম এলাকায় পালকি রাখা থাকতো। এখন আর সেই দৃশ্য চোখে পরেনা। বিয়ে সাদির অনুষ্ঠানে বর ও কনে বহকারী এই বাহারী রংয়ের পালকির খুঁজে অনেকই হন্য হয়ে বেয়ারার সন্ধান চান।



Comment Heare

Leave a Reply

Top