আজ: শুক্রবার | ৫ মার্চ, ২০২১ | ২০ ফাল্গুন, ১৪২৭ | ২০ রজব, ১৪৪২ | দুপুর ১:১১

সংবাদ দেখার জন্য ধন্যবাদ

Home » আইন আদালত » না’গঞ্জের বার ভবন পরিদর্শনে উপ-সচিব

হারিয়ে যাচ্ছে মাটির তৈরি এসি ঘর

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ | ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ | বাংলাদেশ বার্তা | 39713 Views

সিরাজগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী মাটির তৈরি এসি ঘর হারিয়ে যাচ্ছে কালের বির্বতনে।সিরাজগঞ্জে তাড়াশ,সলংঙ্গা,রায়গঞ্জ গ্রাম গুলোতে গত কয়েক বছর আগেও নজরে পড়তো মাটির ঘর-বাড়ি।প্রচুর গরম ও শীতে বসবাসের উপযোগী ছিলো এই মাটির ঘর। কিন্তু বর্তমানকালে মাটির তৈরি ঘর নির্মাণে নেই কারও কোনও আগ্রহ। ফলে এ অঞ্চল গুলোতে আর তেমন চোখেও পড়ে না, সেই ঐতিহ্যবাহী মাটির তৈরি বাড়ি-ঘর।

বর্তমানে আধুনিতকার ছোঁয়ায়,দীর্ঘস্থায়ীভাবে অনেক লোকের নিবাস কল্পে , ইট,বালু সিমেন্টের ব্যবহারে দালানকোঠা আর অট্টালিকার কাছে হার মানছে এই ঐতিহ্যবাহী চিরচেনা মাটির ঘর।বিদ্যমান প্রজন্মের ধনী কিংবা মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যদের ততোটা সামর্থ্য না থাকলে অন্ততপক্ষে টিনের বেড়া আর টিনের চালা দিয়েও বানানো হচ্ছে ঝকঝকে সুন্দর ঘরবাড়ি। আর তাতেই নাকি তাদের গৌরব আর শান্তির অবস্থান!

সাধারণত এঁটেল বা আঠালো মাটি কাদায় পরিণত করে দুই-তিন ফুট চওড়া করে দেয়াল তৈরি করা হত। ১০-১৫ ফুট উচু দেয়ালে কাঠ বা বাঁশের সিলিং তৈরি করে তার ওপর খড়-কুটা অথবা ডেউটিনের ছাউনি দেওয়া হত। আবার অনেক সময় দোতলা পযন্তও করা হতো এই মাটি দিয়েই । মাটির দেয়ালেই গৃহিণীরা বিভিন্ন রকমের আল্পনা এঁকে ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতেন।

খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। সিরাজগঞ্জের, তাঁড়াশ, রায়গঞ্জ,সলংঙ্গা গ্রামে প্রতিটি বাড়িতে একটি করে হলেও মাটির ঘর চোখে পড়তো। প্রায় প্রতিটি গ্রামেরই ছোট সুন্দর মাটির ঘরগুলো ও ঘরের পরিবেশ সবার নজর কাড়তো।কিন্তু, বর্তমানে এসব মাটির তৈরি ঘর গুলো যেভাবে ভেঙে ফেলা হচ্ছে, এভাবে চলতে থাকলে অল্প সময়ের মধ্যে গ্রামগুলো থেকে বিলুপ্ত হবে গ্রাম বাংলার চির চেনা এসব ঘর,হয়তো থেকে জাবে শুধু চিত্রির পাতায়।

প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ মাটির ঘরে বসবাস করে আসছে। মাটির সহজলভ্যতা, প্রয়োজনীয় উপকরণ আর শ্রমিক খরচ কম হওয়ায় আগের দিনে মানুষ মাটির ঘর বানাতে বেশ আগ্রহী ছিল।এসব মাটির ঘর তৈরি করতে কারিগরদের সময় লাগতো দেড় থেকে দু’মাস।কিন্তু বর্তমানে এ-র চাহিদা না থাকায়, কারিগররাও এখন এই পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য অন্য পেশায় জড়িয়ে পরছেন।

মাটির তৈরি এসব ঘর এখন আর চোখে না পড়লেও এটা মানতে হবে যে, এই ঘরগুলো শীত বা গরমে থাকার জন্য বেশ আরামদায়ক। মাটির ঘরে শীতের দিনে ঘর থাকে উষ্ণ আর গরমের দিনে শীতল। তাই মাটির ঘরকে গরিবের এসিও বলা হয়ে থাকে।

এ সম্পর্কে, সিরাজগঞ্জ জেলা আদিবাসী সম্প্রদায়ের সাধারণ সম্পাদক, শুশিল মাহাতোর বলেন,পূর্ববতি সময়ে প্রত্যান্ত অঞ্চল বিশেষ করে বৃহত্তর চলনবিল এলাকার নাটোর, পাবনার চাটমোহর, সিরাজগঞ্জের, উল্লাপাড়া, তাড়াশ,রায়গঞ্জ, সলংঙ্গা,এলাকায় আধিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করতো, তারা মাটি, বাঁশ, টিন সংগ্রহ করে নিজেরাই মাটির ঘর তৈরি করতেন।এবং ঘর তৈরির কারিগরের কাজ ও করতেন।কিন্তু বর্তমানে এসকল ঘরের চাহিদা না থাকা এবং তুলনামূলক ভাবে খরচ বেশি ও ঘর তৈরির কারিগরা অন্য অন্য পেশায় লিপ্ত হওয়ায় এখন আর মাটির ঘর তেমন একটা দেখা যায় না।তবে একসময় সিরাজগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চল গুলতে প্রায় ৪০থেকে ৫০ভাগ মাটির ঘর ছিলো,তখনকার অনেক বড় বড় বাবু’রা বিশেষ করে চেয়ারম্যান মেম্বার ও স্থানীয় মাতব্বর এবং সম্পদশালী ধনী লোকেরাও এই মাটির ঘর নির্মান করে স্ত্রী পুত্র নিয়ে বসবাস করতো।

ক্যাপশন: আধুনিকতার ছোঁয়ায় বর্তমান ডিজিটাল যুগে, বদলে যাচ্ছে আমাদের জীবনযাপনের চিত্র। বদলে যাচ্ছে ঘর-বাড়ি,বদলে যাচ্ছে পোশাক-আশাক, যোগাযোগ ব্যবস্থা। বদলে যাচ্ছে শতশত মানুষের কর্মব্যস্ততা।সেই সাথে হারিয়ে যাচ্ছে সিরাজগঞ্জ থেকে ঐতিহ্যবাহী সব মাটির ঘর।



Comment Heare

Leave a Reply

Top