আজ: মঙ্গলবার | ১৩ এপ্রিল, ২০২১ | ৩০ চৈত্র, ১৪২৭ | ৩০ শাবান, ১৪৪২ | সকাল ৮:২২

সংবাদ দেখার জন্য ধন্যবাদ

Home » জাতীয় » মিতা হকের মৃত্যু শোকাহত রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী

হেফাজতের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতও জড়িত : প্রধানমন্ত্রী

০৪ এপ্রিল, ২০২১ | ৬:০২ অপরাহ্ণ | Mehedi Hasan | 64 Views

 ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে হেফাজতে ইসলামের চালানো তাণ্ডবের চিত্র জাতীয় সংসদে তুলে ধরে তাদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী ।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের সময় হেফাজতে ইসলাম যে তাণ্ডব ঘটিয়েছে তা খুবই দুঃখজনক। শুধু হেফাজত একা নয়, হেফাজতের সাথে বিএনপি-জামায়াতও জড়িত।

রোববার সংসদের চলতি ১২তম অধিবেশনের সমাপনী দিবসে বক্তব্যে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এমন ধরনের কাজ নাই যা সেদিন তারা করেনি। সরকারি অফিস, ভূমি অফিস এমনকি কোরান শরীফ পুড়িয়ে দিয়েছে তারা। তারা কেন ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করে কোরান শরীফে আগুন দেয়?

প্রধানমন্ত্রী হেফাজতে ইসলামকে হুঁশিয়ার করে জাতীয় সংসদে বলেন, যে কোনো কিছু হলেই ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ বা আমাদের অফিস, বাসায় আগুন দেয়া হয়। আমি তাদের জিজ্ঞাসা করি। আগুন নিয়ে খেলছে তারা। এক ঘরে আগুন লাগলে সেই আগুন তো অন্য ঘরেও চলে যেতে পারে। সেটা কি তাদের হিসাবে নেই? আজকে রেল স্টেশন থেকে শুরু করে ভূমি অফিস, ডিসি অফিস থেকে সব জায়গায় যে আগুন দিয়ে বেড়াচ্ছে, তাদের মাদরাসা, বাড়িঘর সেগুলোতেও যদি আগুন লাগে তখন তারা কী করবে? জনগণ কি বসে বসে শুধু এসব সহ্য করবে তারা তো সহ্য করবে না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তারা তাণ্ডব চালিয়েছে, ছোট্ট বাচ্চাদের দিয়ে এসব করিয়েছে। বাচ্চাদের হাতে বিস্ফোরক দিয়েছে। শুধু বাড়িতে আগুন না, কুরআন শরিফও পুড়িয়েছে। কী ইসলাম তারা বিশ্বাস করে। ইসলাম ধর্মের নামে এই জ্বালাও-পোড়াও কীভাবে সম্ভব। তারা আগুন দিয়ে যাবে আর জনগণ কি বসে দেখবে।

তিনি বলেন, আমরা ধৈর্য ধরে চেষ্টা করেছি পরিস্থিতি শান্ত করার। আমি দেশবাসীকে বলব ধৈর্য ধরেন। এভাবে ধর্মের নামে অধর্মের কাজ জনগণ মেনে নেবে না। কিছু লোকের জন্য ইসলাম ধর্মের এই অবমাননা মেনে নেয়া যাবে না। আমি এটুকুই বলবো যারা এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদের কোনো রাজনৈতিক কোনো আদর্শ নেই, কোনো আদর্শ নিয়ে এরা চলে না। হেফাজত একা না এর সঙ্গে বিএনপি, জামায়াতও জড়িত।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের রয়েল রিসোর্টে হেফাজত নেতা মামুনুল হককে নারীসহ ঘেরাও করা হয়েছে, সে নারী পার্লারে কাজ করে উল্লেখ্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘পার্লারে কাজ করা এক মহিলাকে বউ হিসেবে পরিচয় দেয়। আবার নিজের বউকে ফোন করে বলে যে, অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এটা আমি বলে ফেলেছি।’

এই ঘটনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এদের চরিত্রটা কী, তা বলতে চাই না। গতকালই আপনারা দেখেছেন। ধর্ম ও পবিত্রতার কথা বলে অপবিত্র কাজ করে ধরা পড়ে এরা। সোনারগাঁওয়ে একটি রিসোর্টে হেফাজতের যুগ্ম সম্পাদক ধরা পড়লো। তা ঢাকার জন্য নানা রকম চেষ্টা করেছে তারা।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করে, এ রকম মিথ্যা কথা তারা বলতে পারে? অসত্য কথা বলতে পারে? যারা মিথ্যা বলতে পারে, তারা কী ধর্ম পালন করবে? মানুষকে কী ধর্ম শেখাবে?’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘হেফাজতের যারা সদস্য, তাদের অনুরোধ করবো, তারা একটু বুঝে নেন, কী ধরনের নেতৃত্ব তাদের। জ্বালাও-পোড়াও করে গিয়ে তিনি বিনোদন করতে গেলেন একটা রিসোর্টে একজন সুন্দরী মহিলা নিয়ে। এটাই তো বাস্তবতা, এরা ইসলাম ধর্মের নামে কলঙ্ক। ইসলাম ধর্মকে ছোট করে দিচ্ছে। কিছু লোকের জন্য আজকে এই ধর্মটায় জঙ্গি, সন্ত্রাসীর নাম হচ্ছে। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধর্ম ইসলাম। ইসলাম ধর্ম সবচেয়ে সহনশীলতা শিখিয়েছে, শান্তির কথা বলেছে। সাধারণ মানুষের কথা বলেছে। সাধারণ মানুষের উন্নয়নের কথা বলেছে। সেই পবিত্র ধর্মকে এরা ধ্বংস করে দিচ্ছে। তারা ধর্মের নামে ব্যবসা শুরু করেছে। এত অর্থ কোথা থেকে আসে এই বিনোদনের? সেটা একটা প্রশ্ন। এটা দেশবাসী বিচার করবে। আর আইন তার আপন গতিতে চলবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একজন মুসলমানের দায়িত্ব তার একজন মুসলমানের জানমাল রক্ষা করা। কিন্তু হেফাজতের নামে তারা জ্বালাও-পোড়াও করে যাচ্ছে এবং বিএনপি-জামাত তাদের মদদ-দাতা। এই লজ্জা শুধু বাংলাদেশের নয়, জনগণের লজ্জা। আমাদের দুঃখ হলো এই পবিত্র ধর্মকে তারা সম্পূর্ণ নষ্ট করে দিচ্ছে। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে বহু মানুষের জীবন গেছে। এমনকি এই কারণে ২৬ মার্চে অনেক মানুষের জীবন গেছে। এর জন্য দায়ী তারা।



Comment Heare

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this: